সহকারী শিক্ষক
১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৭:০৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
গভীর সমুদ্রের তলদেশে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০০ মিটার নিচে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ধাতব খনিজের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে রহস্যময় ডার্ক অক্সিজেন বা 'অন্ধকার অক্সিজেন'। সম্প্রতি, নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে 'অতল সমুদ্রতলে অন্ধকার অক্সিজেন উৎপাদনের প্রমাণ' নামে এক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।এই গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, সালোকসংশ্লেষণ ছাড়াও অন্য উপায়েও অক্সিজেন তৈরি হয় এই পৃথিবীতে। আন্তর্জাতিক গবেষকদের এই দলটি আবিষ্কার করেছে, প্রাণের সম্পৃক্ততা ছাড়াই সেখানে অক্সিজেন তৈরি হচ্ছে। আর সেই অক্সিজেন টিকিয়ে রেখেছে গভীর সামুদ্রিক জীবনকে। যারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে বেঁচে থাকে। তবে, এই অন্ধকার অক্সিজেনের সন্ধান অনেক আগেই পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৩ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে ফিল্ড ওয়ার্কে গিয়েছিলেন স্কটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর মেরিন সায়েন্সের বিজ্ঞানী, অ্যান্ড্রু সুইটম্যান। ফিল্ড ওয়ার্কের সময়, সুইটম্যান এবং তার সহযোগীরা ক্লারিওন-ক্লিপারটন জোনে সমুদ্রতলের ইকোসিস্টেমগুলো অধ্যয়ন করেন। এই স্থানে, প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের তলদেশে বেড়ে ওঠা খনিজ আমানত আছে বলে মনে করা হয়। তারই সন্ধানে গিয়েছিলেন তারা। সেই সময়ই তারা সেখানে অন্ধকার অক্সিজেনের সন্ধান পান।
প্রথমে তারা ভেবেছিলেন, তাদের যন্ত্রপাতিতেই কিছু ভুল আছে। সুইটম্যান জানিয়েছেন, এই গ্রহে অক্সিজেন তৈরি করে একমাত্র সালোকসংশ্লেষী জীবরাই। এমনটাই তারা জানতেন। কিন্তু, প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে কালো এবং বৃত্তাকার পাথর পান বিজ্ঞানীরা। যা থেকে অক্সিজেন উৎপন্ন হচ্ছিল। যন্ত্রের ত্রুটি দূর করতে তারা বিকল্প যন্ত্রপাতি নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে। গত ১০ বছর ধরে, সব যন্ত্রেই তারা ওই অদ্ভুত অক্সিজেনের সন্ধান পান। এরপর আর বাস্তবটাকে অস্বীকার করতে পারেননি। সুইটম্যান বলেছেন, এখন আমরা জানি, গভীর সমুদ্রেও অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। যেখানে কোনো আলো নেই।
২
২ মন্তব্য