Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৯:২১ অপরাহ্ণ

দলীলসহ ইসলামী আকীদার মূলনীতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ শাইখ ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান ১ টি


দলীলসহ ইসলামী আকীদার মূলনীতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

শাইখ ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান  ১ টি

আল ইরশাদ-সহীহ আকীদার দিশারী  بيان أصول العقيدة الإسلامية إجمالا وأدلتها -

3. بيان أصول العقيدة الإسلامية إجمالا وأدلتها - দলীলসহ ইসলামী আকীদার মূলনীতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

 ভূমিকা (تمهيد)

প্রিয় মুসলিম ভাই! আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ও আপনাকে ইসলামী আকীদা জানা, মেনে চলা এবং এটার দিকে দাওয়াত দেয়ার তাওফীক দিন। আপনি জেনে রাখুন যে, নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের নিকট ইসলামী আকীদার মূলনীতিগুলো হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান, ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান, আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান, নবী-রসূলদের প্রতি ঈমান, আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমান এবং তাক্বদীরের কল্যাণ-অকল্যাণের প্রতি ঈমান আনয়ন করা।

আকীদার এ মূলনীতিগুলোর পক্ষে কুরআন ও হাদীছের অনেক দলীল রয়েছে। মুসলিম উম্মাহর আলেমগণ এগুলো আকীদা ও ঈমানের মূলনীতি হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ﴾

‘‘তোমরা তোমাদের মুখম-ল পূর্ব বা পশ্চিম দিকে প্রত্যাবর্তিত করার মধ্যে কোন ছাওয়াব নেই; বরং পূণ্য তার, যে ব্যক্তি আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে’’। (সূরা আল বাকারা: ১৭৭)

তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনয়ন সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ﴾

‘‘আমি প্রত্যেক বস্ত্ত সৃষ্টি করেছি নির্দিষ্ট পরিমাপে’’। (সূরা কামার: ৪৯)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿آَمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ﴾

‘‘রসূলের উপর তার রবের পক্ষ হতে যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি তিনি ঈমান এনেছেন এবং ঈমানদারগণ। তারা সবাই আল্লাহকে, তার ফেরেশতাদেরকে, তার কিতাবসমূহকে ও তার রসূলদেরকে বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বক্তব্য হচ্ছে: আমরা আল্লাহর রসূলদের একজনকে অন্যজন থেকে আলাদা করি না’’। (সূরা আল বাকারা: ২৮৫)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿وَمَن يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا﴾

‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ, তার ফেরেশতাবর্গ, তার কিতাবসমূহ, তার রসূলগণ ও পরকালের প্রতি কুফুরী করলো সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহুদূর চলে গেলো’’। (সূরা আন নিসা: ১৩৬)

 সহীহ হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেন,

أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ

‘‘তুমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে (১) আল্লাহ পাকের উপর (২) তার ফেরেশতাদের উপর (৩) তার কিতাবসমূহের উপর (৪) তার নবী-রসূলদের উপর (৫) আখেরাত বা শেষ দিবসের উপর এবং (৬) তাক্বদীরের ভালো-মন্দের উপর’’।[1]

আকীদার এ বিরাট মূলনীতিগুলোকে ঈমানের রুকন বলেও নামকরণ করা হয়। সমস্ত নবী-রসূল এবং সমস্ত আসমানী শরী‘আত এগুলো ঈমানের রুকন ও আকীদার মূলনীতি হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। আসমানী কিতাবসমূহ এ মূলনীতিগুলোসহ নাযিল হয়েছে। ঈমানের গ-- থেকে বের হয়ে যারা কাফেরে পরিণত হয়েছে, তারা ব্যতীত অন্য কেউ এগুলোকে অথবা এগুলো থেকে কোনো কিছু অস্বীকার করতে পারে না। যেমন-

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَن يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَن يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا أُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَمْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ أُولَٰئِكَ سَوْفَ يُؤْتِيهِمْ أُجُورَهُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا﴾

‘‘যারা আল্লাহ ও তার রসূলদের সাথে কুফুরী করে, আল্লাহ ও তার রসূলদের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় এবং বলে আমরা কারো প্রতি ঈমান আনয়ন করি ও কারো প্রতি কুফুরী করি। আর তারা কুফর ও ঈমানের মাঝখানে একটি পথ বের করতে চায়, তারা সবাই আসলে কট্টর কাফের। আর এহেন কাফেরদের জন্য আমি অবমাননাকর শাস্তি তৈরী করে রেখেছি। বিপরীত পক্ষে যারা আল্লাহ ও তার রসূলদেরকে মেনে নেয় এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, তাদেরকে আমি অবশ্যই পুরস্কার দান করবো। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়’’। (সূরা আন নিসা: ১৫০-১৫২)

এ হলো আকীদার বিরাট মূলনীতিগুলো এবং ঈমানের সুদৃঢ় ও মজবুত রুকনগুলোর বিশদ ব্যাখ্যা বিরণ প্রদান করা দরকার। আমরা এ কিতাবে যথাসাধ্য এ মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যা করবো ইনশা-আল্লাহ।

[1]. সহীহ মুসলিম, হা/৮, সহীহ বুখারী, হা/৫০, ইবনে মাজাহ, হা/৬৩, আবূ দাউদ, হা/৪৬৯৫।

Bangla Hadith Logo

Search Quran/Hadith/Books....

 আল ইরশাদ-সহীহ আকীদার দিশারী  بيان أصول العقيدة الإسلامية إجمالا وأدلتها - দলীলসহ ইসলামী আকীদার মূলনীতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ  শাইখ ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান  ১ টি

3. بيان أصول العقيدة الإسلامية إجمالا وأدلتها - দলীলসহ ইসলামী আকীদার মূলনীতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

الأصل الأول: الإيمان بالله عزوجل - প্রথম মূলনীতি: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান

আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনয়ন করাই হচ্ছে আকীদার প্রধান মূলনীতি। الإيمان بالله বা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অর্থ হলো অন্তর দিয়ে আল্লাহর উপর এ দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, তিনিই প্রত্যেক জিনিসের একমাত্র রব ও মালিক। তিনিই একমাত্র স্রষ্টা। সমগ্র সৃষ্টিজগতের পরিচালক ও ব্যবস্থাপক। সে সঙ্গে আরো বিশ্বাস করা যে, তিনিই একমাত্র বান্দার ইবাদতের হকদার, এতে তার কোনো শরীক নেই। তিনি ছাড়া আর যত মাবুদ রয়েছে, তা সবই বাতিল। এগুলোর ইবাদতও বাতিল।

আল্লাহ তা‘আলা সূরা লুকমানের ৩০ নং আয়াতে বলেন,

﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ﴾

‘‘এসব কিছু এ কারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য যেসব জিনিসকে তারা ডাকে তা সবই মিথ্যা, আর আল্লাহই সুউচ্চ ও সুমহান’’।

আরো বিশ্বাস করা যে, তিনি সিফাতে কামালিয়া তথা উত্তম ও পূর্ণতার গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত এবং প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ও মুক্ত।

আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান বলতে তিন প্রকার তাওহীদকেই বুঝায়। তাওহীদুর রুবুবীয়্যা, তাওহীদুল উলুহীয়া এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াছ ছিফাত। এতে রয়েছে কয়েকটি অনুচ্ছেদ।

Bangla Hadith Logo

Search Quran/Hadith/Books....

 

 

মন্তব্য করুন