সিনিয়র শিক্ষক
১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
সফলতার গল্প শিক্ষক বাতায়ন আমার স্বপ্নের বাতিঘর।
সুপ্রিয় বাতায়ন প্রেমি শিক্ষক বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম। আমি মহিউদ্দিন ওসমানী সিনিয়র শিক্ষক, মেহেরুননেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়, আমি বিগত ৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছি। আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয় বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই এর শিক্ষক বাতায়নের প্রাথমিক পর্যায়ের সদস্য, সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা ও শিক্ষক অ্যাম্বাসেডর। সেই ২০১৩/১৪ সাল থেকে শিক্ষক বাতায়নে প্রতিদিনের সক্রিয় কর্মী হিসাবে বাতায়নে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করি, সে সক্রিয়তার ধারাবাহিকতায় বাতায়ন কতৃপক্ষ ও বাতায়নের সদস্যদের রেটিং বা ভোটে ২০২১৭ সালে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা নির্বাচিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয় হতে সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে সেরা শিক্ষকের এ্যাঁওয়ার্ড ও সনদ লাভ করি। এবং ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয় বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই এর আইসিটি ফর এডুকেশন জেলা অ্যাম্বাসেডর হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয়ে একদিনের কর্মশালায় যোগদান করার সৌভাগ্য অর্জন করি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন হতে লাইফ লং লার্নার উপাধিতে ভূষিত করে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। পরবর্তিতে এরই ধারাবাহিকতায় কাজেরর স্বীকৃতি স্বরুপ আরো অনেক সম্মাননায় ভূষিত হই।
শিক্ষকতার প্রতি আমার এক প্রবল আগ্রহ ও আকর্ষণ ছিল। শিক্ষকতার এই মহান পেশায় আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। একজন আদর্শ ও সফল শিক্ষক হওয়ার এক লালিত স্বপ্ন দেখি। সব সময় শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদানে সচেষ্ট থাকি। সরকারের নির্দেশিত নীতিমালা অনুযায়ী ও নিজের জ্ঞান, বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের সোনার বাংলা তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে চাই
: আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মিলাতে পারে না। পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর এই নানা মূখী চাহিদা পূরণ করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সাথে শিক্ষাক্ষেত্রে উদ্ভাবন নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সময়োপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষৎ চাহিদার সাথে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার যোগসুত্র স্থাপনে কাজ করে চলেছে এটুআই।
ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে এটুআই এর যুগান্তকারী কিছু শিক্ষা উপকরণ হলো সহজ আনন্দময় ও ফলপ্রসু শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন বাড়াতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম,সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে মুক্তপাঠ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ সকলের একীভূত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে মাল্টিমিডিয়া টকিং,যথাযথ মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনার জন্য ক্লাসরুম মনিটরিং ড্যাশবোর্ড এবং উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শিক্ষকদের মাঝে কন্টেন্ট ও আইডিয়া আদান প্রদানের জন্য শিক্ষক বাতায়ন।
মূলত একুশ শতকের শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থা: আর এই একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিতে প্রয়োজন একুশ শতকের শিক্ষক। তাই শিক্ষকদের উপর আস্থা রেখে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং শিক্ষকদের দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে, প্রায় চার লক্ষ শিক্ষকের একটি মহিরূহ প্রতিষ্ঠান “শিক্ষক বাতায়ন”।
“শিক্ষক বাতায়ন ” একটি অনুপ্রেরণার নাম, একটি সুস্থ প্রতিযোগীতার নাম।
শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শতভাগ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে শিক্ষক বাতায়নের মাধ্যমে কাজ যাচ্ছে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)।
এই ক্ষেত্রে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে শিক্ষা বিভাগ বহুলাংশে এগিয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালিত (বর্তমানে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ) এটুআই এর শিক্ষক বাতায়ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে,গতানুগতিক শিক্ষাদানে বা পাঠদানে আমুল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই শিক্ষক বাতায়ন। ইতিমধ্যে সরকার TQI-SEP প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ICT এবং Digital Content Development এর উপর প্রায় সব শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করেছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডয়া ক্লাস পরিচালনা করার জন্য ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মডেম, সীম সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করেছেন, যাতে করে প্রশিক্ষিত শিক্ষকগন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করে গুনগত মানসম্পন্ন শ্রণি উপযোগী ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে পাঠদান করতে সক্ষম হন এবং নিজের সে কন্টেন্ট অন্যান্য শিক্ষকগন পাঠদান করতে পারেন সে লক্ষ্যে নিজেদের কন্টেন্ট তাঁরা শিক্ষক বাতায়নে আপলোড দেন এবং নিজেরাও অন্যান্য শিক্ষকদের কন্টেন্ট ডাউনলোড করে শ্রণি কার্য্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন,যার ফলশ্রুতিতি দেশের শিক্ষক সমাজে পরিবর্তনের পাশাপাশি পঠন-পাঠন প্রক্রিয়ার আমুল আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে।
কাজেই এটি নিংসন্দে বলা যায় যে শিক্ষক বাতায়ন শিক্ষকতা পেশা এবং দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্টের বাতিঘর।
৪
৭ মন্তব্য