অধ্যক্ষ
১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৬:০৯ অপরাহ্ণ
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস
১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন। এ দিনটি জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে, কারণ মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
বুদ্ধিজীবী হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য
বুদ্ধিজীবীদের নির্মূল করার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিকে দুর্বল করা। তারা জানত, স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনের জন্য শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা অপরিহার্য। এ কারণেই বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, জাতির মেধাবী সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা
এ দিনে অনেক গুণী ব্যক্তি শহিদ হন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী
- অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব
- অধ্যাপক আনোয়ার পাশা
- সাংবাদিক সেলিনা পারভীন
- চিকিৎসক আলীম চৌধুরী
- চিকিৎসক ফজলে রাব্বী
এছাড়াও বহু শিক্ষক, লেখক, চিকিৎসক, এবং বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনা
পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ঢাকার রায়েরবাজার ও মীরপুরে বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের মৃতদেহ ফেলে রাখা হয় রাস্তার ধারে বা নির্মাণাধীন স্থানে।
১৪ ডিসেম্বর পালন
এই দিনে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে, যেমন:
1. শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ: শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ।
2. আলোচনা সভা: শহিদদের আত্মত্যাগ ও অবদান নিয়ে আলোচনা।
3. দোয়া ও মিলাদ মাহফিল: শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় প্রার্থনা।
4. প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন: তাদের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার।
শিক্ষা ও চেতনা
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের স্বাধীনতার মূল ইতিহাস ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা সহজে অর্জিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হবে শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
"আমাদের স্বাধীনতার পেছনে যাদের আত্মত্যাগ চির অমলিন, তারা চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকবে।"
২
২ মন্তব্য