প্রভাষক
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০২:০৯ পূর্বাহ্ণ
?নবী - রাসুলগণের আগমনের ধারা?
রোকসানা পারভীন
নবী-রাসুলগণ হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য প্রেরিত বার্তাবাহক। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য অনেক নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন।
নবী ও রাসুলের পার্থক্য
- নবী: নবী হলেন যিনি আল্লাহর বার্তা গ্রহণ করেন এবং নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে সেই বার্তা প্রচার করেন।
- রাসুল: রাসুল হলেন যিনি নতুন একটি শরিয়াহ বা ধর্মীয় আইন নিয়ে আসেন এবং তাঁর সম্প্রদায় বা সমগ্র মানবজাতির কাছে সেই বার্তা পৌঁছান। প্রতিটি রাসুল নবী, কিন্তু প্রতিটি নবী রাসুল নন।
নবী ও রাসুলদের আগমনের ধারা
পৃথিবীতে প্রথম নবী থেকে শুরু করে শেষ নবী পর্যন্ত নবী-রাসুলদের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। তাদের আগমনের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে তাওহিদের (এক আল্লাহর ইবাদত) শিক্ষা দেওয়া এবং শিরক (আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার স্থাপন) থেকে দূরে রাখা।
১. আদম (আ.)
- প্রথম মানব এবং প্রথম নবী।
- তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয় মানুষকে আল্লাহর ইবাদত ও জীবনযাপনের শিক্ষা দেওয়ার জন্য।
২. নুহ (আ.)
- প্রথম রাসুল।
- আল্লাহ তাঁকে তাঁর সম্প্রদায়কে শিরক থেকে বিরত রাখতে পাঠিয়েছিলেন।
৩. ইব্রাহিম (আ.)
- তাওহিদের মহান উদাহরণ এবং “খলিলুল্লাহ” (আল্লাহর বন্ধু) নামে পরিচিত।
- তাঁর দুই পুত্র ইসমাইল (আ.) এবং ইসহাক (আ.)-এর মাধ্যমে নবী ও রাসুলদের বংশধারা চালু হয়।
৪. মুসা (আ.)
- “কালিমুল্লাহ” (যিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন) নামে পরিচিত।
- তাওরাত নামক কিতাব নিয়ে আসেন এবং বনী ইসরাইলকে মুক্তি দেন।
৫. ঈসা (আ.)
- মারিয়ামের পুত্র এবং ইনজিল (গসপেল) নামক ধর্মগ্রন্থ নিয়ে আসেন।
- তাঁকে মহান অলৌকিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যেমন মৃতকে জীবিত করা এবং জন্মান্ধকে সুস্থ করা।
৬. মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
- শেষ নবী এবং রাসুল।
- ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিয়ে আসেন।
- আল-কুরআন তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়।
- তাঁর আগমনের মধ্য দিয়ে নবুওয়াতের ধারা শেষ হয়।
মোট নবী ও রাসুলের সংখ্যা
ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, নবী-রাসুলদের সংখ্যা প্রায় ১,২৪,০০০। তবে কুরআন ও হাদিসে উল্লেখিত নবীদের সংখ্যা ২৫ জন।
নবী-রাসুলদের উদ্দেশ্য
- তাওহিদ প্রচার করা।
- শিরক ও পাপ থেকে বিরত রাখা।
- মানবজাতিকে সৎপথে পরিচালিত করা।
- আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
মন্তব্য করুন
০
০ মন্তব্য