Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৭:০১ অপরাহ্ণ

গল্পে গল্পে গণিত শিখি

মিতু ও রেজা দুই ভাইবোন। তারা একজন আরেকজনের ভালো বন্ধু। মিতু দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আর রেজা প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। মিতু তাঁর বাবাকে বললো তাকে একটি মুরগি কিনে দিতে । সে মুরগি ডিম দিবে। সেই ডিম বাসার সবাই খাবে। পরেরদিন মিতুর বাবা মিতুকে একটি ডিম পাড়া মুরগি কিনে দিল। মুরগিটি দেখে মিতু ও রেজা খুব খুশি হলো। ১ম দিন মুরগিটি ১টি ডিম পাড়লো। মিতু ও রেজা ডিমটি  সবাইকে দেখালো । তারা মুরগির ডিমটি ঘরে একটি বাটিতে তাদের মায়ের কাছে রেখে দিল। ২য়দিন মুরগিটি আবার একটি ডিম পাড়লো। তারা আবার মায়ের কাছে ঐ বাটিতে ডিমটি রাখলো। এবার তারা ডিমগুলো গুণে দেখলো ১, ২ মিতুক রেজাকে জিজ্ঞাসা করলো, রেজা বলোতো কতটি ডিম হলো? রেজা গুণে বললো ১,২ দুইটি ডিম মিতু। তারা পরের দিন মুরগি ডিমের আশায় রইলো। কিন্তু ৩য়দিন তাদের মুরগি কোন ডিম পাড়লো না । তাতে তাদের মন খুব খারাপ হলো। ৪র্থদিন তাদের মুরগি আবার একটি ডিম পাড়লো ,এখন তাদের কাছে আছে ৩টি ডিম। এভাবে ৫ম দিনে তাদের কাছে এখন ডিম আছে ৪ টি, ৬ষ্ঠ দিনে তাদের কাছে ডিম আছে ৫টি, ৭ম দিনে ৬টি। ৮ম দিনে মুরগিটি কোন ডিম পাড়লো না .৮ম দিনে রেজা ও মিতুর সংগ্রহে ডিম শুণ্যটি। ৯ম দিনে তাদের কাছে ডিম হলো ৭ টি এবং ১০ম দিনে ৮ টি। এভাবে তাদের ডিমের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। রেজা ও মিতুর খুশি দেখে তাদের বাবা মাও খুশি হোন।

এখন তাদের বাবা তাদেরকে আরেকটি ডিম পাড়া মুরগি কিনে দিলেন আর বললেন তারা যেন তাদের জমা ডিমগুলো খাওয়া শুরু করে। যখন তাদের কাছে ১০টি ডিম হলো। তাদের মা মিতু ও রেজাকে দুইটি ডিম ভেজে খাওয়ালেন। তাদের কাছে ছিল ১০টি ডিম। ২টি ডিম খাওয়াতে ডিম কমে এখন হলো ৮ টি ডিম। মিতু তাঁর মাকে বললো সবার জন্য ডিম ভাজতে। যেন সবাই একসাথে ডিম খেতে পারে। এরপর মিতুর মা ৪টি ডিম সবার জন্য ভাজলেন যেন সবাই খেতে পারে।

এই গল্পটি থেকে আমরা সংখ্যা গণণা, শূন্যের ধারণা, বৃদ্ধি পাওয়া বা যোগ , কমে যাওয়া বা বিয়োগ এবং ক্রমবাচক সংখ্যার ধারনা দিতে পারবেন।

এভাবে গুণ, ভাগসহ আরো অনেক গাণিতিক সমস্যা ও বিষয় সহজেই শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা যায়। তবে অনেকগুলো কৌশলের মধ্যে এটি একটি কৌশল মাত্র। আরো অনেক পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীদের শিখনফল অর্জিত হয়।  

শিক্ষার্থীরা গল্পের ছলে ও প্রশ্নোত্তর কৌশল প্রয়োগের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই গাণিতিক বিষয়ের মৌলিক ধারনা পেতে পারে। এই গল্পের সাথে ছবির সাথে বর্ণণা থাকলে শিক্ষার্থীরা গণিতের বিমূর্ত বিষয়গুলো মূর্ত করে শিখতে পারবে।

শিক্ষার্থীরা গণিত ভীতি ও মুখস্থবিদ্যা থেকে বের হয়ে জীবন ঘনিষ্ট গণিত শিখবে ও প্রয়োগ করবে। শিক্ষার্থীদের গল্পের মধ্য দিয়ে পারিবারিক সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব ফুটে উঠবে। গৃহপালিত পশু-পাখির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সর্বদাই চেষ্টা করি শিক্ষার্থীর সুষ্ঠ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা। তাই এই গল্পটি তার জীবনে একটি অনুপ্রেরণার অংশ মাত্র।

গল্পটি বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীর বয়স, শিক্ষন উপকরণ ও বিষয়বস্তু এবং শিখনফল অনুসারে আমি আমার শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তৈরি করে তাদের শিখনে প্রয়াস চালিয়ে থাকি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি ধারনা পেয়েছি ১৮মাস ব্যাপি ডিপিএড প্রশিক্ষণে । তখন থেকেই আমি নিয়মিত এই কৌশলটি আমি আমার শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করে থাকি। আজ এই লেখাটি পড়ে যদি কেউ উপকৃত হয়ে থাকে এখানেই আমার সফলতা । আমার লেখাটি পড়ে আপনাদের প্রয়োজনীয় মতামত দিয়ে আমাকে সমৃদ্ধ করবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।  

মন্তব্য করুন

ব্লগ