সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক

সূরা বায়্যিনাহ পবিত্র কোরআনের ৯৮ নম্বর সূরা। সূরাটি পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। এর আয়াত সংখ্যা আট। এটি একটি মাদানি সূরা।
বিজ্ঞাপন
সূরা বায়্যিনাহ
لَمۡ یَکُنِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ وَالۡمُشۡرِکِیۡنَ مُنۡفَکِّیۡنَ حَتّٰی تَاۡتِیَہُمُ الۡبَیِّنَۃُ ۙ ١ رَسُوۡلٌ مِّنَ اللّٰہِ یَتۡلُوۡا صُحُفًا مُّطَہَّرَۃً ۙ ٢ فِیۡہَا کُتُبٌ قَیِّمَۃٌ ؕ ٣ وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡہُمُ الۡبَیِّنَۃُ ؕ ٤ وَمَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۙ حُنَفَآءَ وَیُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوا الزَّکٰوۃَ وَذٰلِکَ دِیۡنُ الۡقَیِّمَۃِ ؕ ٥ اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ وَالۡمُشۡرِکِیۡنَ فِیۡ نَارِ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمۡ شَرُّ الۡبَرِیَّۃِ ؕ ٦ اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ اُولٰٓئِکَ ہُمۡ خَیۡرُ الۡبَرِیَّۃِ ؕ ٧ جَزَآؤُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ رَضِیَ اللّٰہُ عَنۡہُمۡ وَرَضُوۡا عَنۡہُ ؕ ذٰلِکَ لِمَنۡ خَشِیَ رَبَّہٗ ٪
বিজ্ঞাপন
সূরা বায়্যিনাহর বাংলা উচ্চারণ :
১. লাম ইয়াকুনিল্লাযীনা কাফারু-মিন আহলিল কিতাবি ওয়াল মুশরিকীনা মুনফাক্কীনা হাত্তা-তা’তিয়াহুমুল বাইয়িনাহ।
২. রাছূলুম মিনাল্লাহি ইয়াতলূ-সুহুফাম মুতাহহারাহ।
৩.ফীহা-কুতুবুন কাইয়িমাহ।
৪. ওয়ামা- তাফাররাকাল্লাযীনা ঊতুলকিতাবা- ইল্লা- মিম বা‘দি মা- জাআতহুমুল বাইয়িনাহ।
বিজ্ঞাপন
৫. ওয়ামা-উমিরু-ইল্লা-লিয়া‘বুদুল্লাহা মুখলিসীনা লাহুদ্দীন, হুনাফাআ ওয়া-ইউকীমুসসালাতা ওয়া ইউ’তুঝঝাকাতা ওয়া যা-লিকা দীনুল কাইয়িমাহ।
৬.ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ-মিন আহলিল কিতাবি ওয়াল মুশরিকীনা ফী না-রি জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা- উ-লাইকা হুম শাররুল বারিইইয়াহ।
৭. ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ-ওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি উলাইকা হুম খাইরুল বারিইইয়াহ।
৮.জাঝাউহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম জান্না-তু‘ আদনিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খা-লিদীনা ফীহাআবাদার, রাদিয়াল্লা-হু ‘আনহুম ওয়া রাদূ আনহু যা-লিকা লিমান খাশিয়া রাব্বাহ।
সূরা বায়্যিনাহর বাংলা অর্থ :
যারা কুফরী করেছে সেই কিতাবী ও মুশরিকগণ ততক্ষণ পর্যন্ত নিবৃত্ত হওয়ার ছিল না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ হতে একজন রাসূল, যে পবিত্র গ্রন্থ পড়ে শোনাবে। যাতে সরল-সঠিক বিষয় লেখা থাকবে। যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা পৃথক হয়ে গিয়েছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরই। তাদেরকে কেবল এই আদেশই করা হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে, আনুগত্যকে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই জন্য খালেস রেখে এবং নামায কায়েম করবে ও যাকাত দেবে আর এটাই সরল সঠিক উম্মতের দীন। নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে সেই কিতাবী ও মুশরিকগণ জাহান্নামের আগুনে যাবে, যেখানে তারা সর্বদা থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম। আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির সেরা। তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের পুরস্কার হল স্থায়ীবাসের জান্নাত, যার নিচে নহর প্রবাহিত থাকবে। সেখানে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি খুশী থাকবেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি খুশী থাকবে। এসব তার জন্য, যে তার প্রতিপালককে ভয় করে। (সূরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ১-৮)
প্রতীকী ছবিআল্লাহর বিশেষ কুদরতে বাবা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন হজরত ঈসা আ.। জিবরাঈল আ. আল্লাহর নির্দেশে ঈসা আ.-এর মা মারইয়াম আ.-এর শরীরে ফুঁ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্বাভাবিক নিয়মে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের পর যখন লোকালয়ের মানুষ তার জন্মের কথা জানতে পারলো তখন মারইয়াম আ.-কে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন করলো।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি পবিত্র কোরআনে হুবহু তুলে ধরা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে—
وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ مَرۡیَمَ ۘ اِذِ انۡتَبَذَتۡ مِنۡ اَہۡلِہَا مَکَانًا شَرۡقِیًّا ۙ ١٦ فَاتَّخَذَتۡ مِنۡ دُوۡنِہِمۡ حِجَابًا ۪۟ فَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہَا رُوۡحَنَا فَتَمَثَّلَ لَہَا بَشَرًا سَوِیًّا ١٧ قَالَتۡ اِنِّیۡۤ اَعُوۡذُ بِالرَّحۡمٰنِ مِنۡکَ اِنۡ کُنۡتَ تَقِیًّا ١٨ قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوۡلُ رَبِّکِ ٭ۖ لِاَہَبَ لَکِ غُلٰمًا زَکِیًّا ١٩ قَالَتۡ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ غُلٰمٌ وَّلَمۡ یَمۡسَسۡنِیۡ بَشَرٌ وَّلَمۡ اَکُ بَغِیًّا ٢۰ قَالَ کَذٰلِکِ ۚ قَالَ رَبُّکِ ہُوَ عَلَیَّ ہَیِّنٌ ۚ وَلِنَجۡعَلَہٗۤ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَرَحۡمَۃً مِّنَّا ۚ وَکَانَ اَمۡرًا مَّقۡضِیًّا ٢١ فَحَمَلَتۡہُ فَانۡتَبَذَتۡ بِہٖ مَکَانًا قَصِیًّا ٢٢ فَاَجَآءَہَا الۡمَخَاضُ اِلٰی جِذۡعِ النَّخۡلَۃِ ۚ قَالَتۡ یٰلَیۡتَنِیۡ مِتُّ قَبۡلَ ہٰذَا وَکُنۡتُ نَسۡیًا مَّنۡسِیًّا ٢٣ فَنَادٰىہَا مِنۡ تَحۡتِہَاۤ اَلَّا تَحۡزَنِیۡ قَدۡ جَعَلَ رَبُّکِ تَحۡتَکِ سَرِیًّا ٢٤ وَہُزِّیۡۤ اِلَیۡکِ بِجِذۡعِ النَّخۡلَۃِ تُسٰقِطۡ عَلَیۡکِ رُطَبًا جَنِیًّا ۫ ٢٥ فَکُلِیۡ وَاشۡرَبِیۡ وَقَرِّیۡ عَیۡنًا ۚ فَاِمَّا تَرَیِنَّ مِنَ الۡبَشَرِ اَحَدًا ۙ فَقُوۡلِیۡۤ اِنِّیۡ نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمٰنِ صَوۡمًا فَلَنۡ اُکَلِّمَ الۡیَوۡمَ اِنۡسِیًّا ۚ ٢٦ فَاَتَتۡ بِہٖ قَوۡمَہَا تَحۡمِلُہٗ ؕ قَالُوۡا یٰمَرۡیَمُ لَقَدۡ جِئۡتِ شَیۡئًا فَرِیًّا ٢٧ یٰۤاُخۡتَ ہٰرُوۡنَ مَا کَانَ اَبُوۡکِ امۡرَاَ سَوۡءٍ وَّمَا کَانَتۡ اُمُّکِ بَغِیًّا ۖۚ ٢٨ فَاَشَارَتۡ اِلَیۡہِ ؕ قَالُوۡا کَیۡفَ نُکَلِّمُ مَنۡ کَانَ فِی الۡمَہۡدِ صَبِیًّا ٢٩ قَالَ اِنِّیۡ عَبۡدُ اللّٰہِ ۟ؕ اٰتٰنِیَ الۡکِتٰبَ وَجَعَلَنِیۡ نَبِیًّا ۙ ٣۰ وَّجَعَلَنِیۡ مُبٰرَکًا اَیۡنَ مَا کُنۡتُ ۪ وَاَوۡصٰنِیۡ بِالصَّلٰوۃِ وَالزَّکٰوۃِ مَا دُمۡتُ حَیًّا ۪ۖ ٣١ وَّبَرًّۢا بِوَالِدَتِیۡ ۫ وَلَمۡ یَجۡعَلۡنِیۡ جَبَّارًا شَقِیًّا ٣٢ وَالسَّلٰمُ عَلَیَّ یَوۡمَ وُلِدۡتُّ وَیَوۡمَ اَمُوۡتُ وَیَوۡمَ اُبۡعَثُ حَیًّا ٣٣ ذٰلِکَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ ۚ قَوۡلَ الۡحَقِّ الَّذِیۡ فِیۡہِ یَمۡتَرُوۡنَ ٣٤
বিজ্ঞাপন
আর স্মরণ করুন। এ কিতাবে মারইয়ামকে, যখন সে তার পরিবারের কাছ থেকে পৃথক হয়ে নিরালায় পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল, তারপর সে তাদের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করল। তখন আমি তার কাছে আমার রূহকে (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) পাঠালাম, সে তার কাছে পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্ৰকাশ করল।
মারইয়াম বলল, আমি তোমার থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করছি (আল্লাহকে ভয় কর) যদি তুমি মুত্তাকী হও। সে বলল, আমি তো তোমার রব-এর দূত, তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য (আমি প্রেরিত হয়েছি)। মারইয়াম বলল, কেমন করে আমার পুত্র হবে, যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই!
বিজ্ঞাপন
সে বলল, ‘এই ভাবেই হবে; তোমার প্রতিপালক বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজসাধ্য এবং তাকে আমি এই জন্য সৃষ্টি করব, যেন সে হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন ও আমার কাছ থেকে এক অনুগ্রহ; এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।’
এরপর সে গর্ভে সন্তান ধারণ করল ও তাকে নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেল। প্রসব-বেদনা তাকে এক খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। সে বলল, হায়, এর আগে যদি আমি মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতাম!
তখন ফেরেশতা (জিবরাঈল) তার নিচ থেকে ডেকে তাকে বলল, তুমি পেরেশান হয়ো না,তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন। আর তুমি খেজুর গাছের কান্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে। তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না’।
আরও পড়ুন
তারপর সে সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হল; তারা বলল, হে মারইয়াম! তুমি তো এক অঘটন করে বসেছ। হে হারূনের বোন! তোমার বাবা অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মা'ও ছিল না ব্যভিচারিণী।
মারইয়াম তখন ইঙ্গিতে সন্তানকে দেখাল। তারা বলল, যে দোলনার শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?’ (শিশুটি) বলল, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ ও জাকাত আদায় করতে। আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে করেননি দাম্ভিক, হতভাগ্য। আমার প্রতি শান্তি, যেদিন আমি জন্ম লাভ করেছি ও যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।
এই হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটাই সঠিক বক্তব্য, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে। (সূরা মারইয়াম, (১৯), আয়াত, ১৬-৩৪, তাফসিরে ইবনে কাসির, ১৪-খণ্ড, ১৪৬)
প্রতীকী ছবিহজরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন ইঞ্জিন কিতাব দিয়ে। তার জন্মকে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীবাসীর জন্য বানিয়েছেন একটি নিদর্শন। তাকে নিজ কুদরতে বাবা ছাড়া শুধু মায়ের গর্ভে জন্ম দিয়েছিলেন। হজরত জিবরাইলের মাধ্যমে মারইয়াম আলাইহাস সালামকে আল্লাহ তায়ালা একজন পবিত্র পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেন।
বিজ্ঞাপন
হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম চিরকুমারী পূতঃপবিত্র মারইয়াম আলাইহাস সালামের কাছে এসে বললেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন দূত। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে একজন পুত্র সন্তান দান করতে চান। যিনি ভবিষ্যতে নবী হবেন, মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকবেন এবং কোলে থাকতেই কথা বলবেন।
এ কথা শুনে তিনি বললেন, আমার সন্তান কীভাবে হতে পারে, আমার তো বিয়েই হয়নি। কখনো কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি, আমি ব্যভিচারিণীও নই।
বিজ্ঞাপন
উত্তরে জিবরাইল আলাইহিস সালাম মারইয়াম আলাইহাস সালামকে বললেন, এটা সত্য যে, স্বামী ছাড়া নারীর সন্তান হয় না, তবে আল্লাহ তায়ালা চাইলে সন্তান জন্মের কোনো উপকরণ ছাড়াও সন্তান জন্ম হওয়া সম্ভব। তিনি এই ঘটনাকে মানুষের জন্য নিদর্শন বানাতে চান। যেমন তিনি আদম আলাইহিস সালামকে মা-বাবা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন।
হজরত ঈসা আ.-এর জন্মের পর পরিণত বয়সে আল্লাহ তায়ালা তাকে নবুয়ত দান করেছিলেন। নবী হিসেবে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ কিছু মুজিযা বা অলৌকি ক্ষমতা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের তুলনায় ব্যতিক্রমী কিছু কাজ করতে পারতেন।
বিজ্ঞাপন
আল্লাহ তায়ালা হজরত ঈসা আ.-কে যেসব বিশেষ মুজিযা দিয়েছিলেন তাহলো—
১. আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা।
২. মাটি দ্বারা পাখি তৈরি করে ওর মধ্যে ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নামে উড়িয়ে দেয়া।
৩. আল্লাহর হুকুমে শ্বেত-কুষ্ঠ রোগীকে ভালো করে দেয়া।
৪. জন্মান্ধকে আল্লাহর হুকুমে দৃষ্টি শক্তি দান করা।
৫. ভবিষ্যতের সংবাদ আল্লাহর হুকুমে প্রদান করা।
আরও পড়ুন
মুজিযা প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখীর আকৃতি তৈরি করি। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা উড়ন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে যায় আল্লাহর হুকুমে। আর আমি সুস্থ করি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি জীবিত করি মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দিতে পারি যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। (সূরা ইমরান, আয়াত : ৪৯)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মুজিযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে।’ (সূরা বাকারা : আয়াত ২৫৩)

কোরআন তিলাওয়াত করা একটি ফজিলতপূর্ণ কাজ। এতে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ে এবং আমলের পাল্লা ভারী হয়। কোরআন তিলাওয়াতে প্রত্যেক হরফে নেকি লাভ হয়। এ বিষয়ে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন—
বিজ্ঞাপন
যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভ করবে। আর প্রতিটি নেকিকেই ১০ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম মিলে একটি হয়ফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, এবং মীম আরেকটি হরফ। (তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)
তিলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনে তিলাওয়াত শোনাও সওয়াবের কাজ। তিলাওয়াত শুনলেও নেকি লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে হাদিসে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
বিজ্ঞাপন
যে ব্যক্তি কোরআনের একটি আয়াত মনোযোগ দিয়ে শুনবে তার জন্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে সওয়াব লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি তিলাওয়াত করবে, তার জন্য তা কিয়ামতের দিন নূরে পরিণত হবে। (মুসনাদে আহমদ, ২/৩৪১)
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্য হাদিসে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, যদি কেউ আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াতও শোনে তাহলে তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূরে পরিণত হবে। (সুনানে দারিমী, ২/৫৩৬)
কেউ কোরআন তিলাওয়াত করলে তা মনোযোগ দিয়ে চুপ করে শুনতে হয়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘এবং যখন কোরআন পাঠ করা হবে, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করবে এবং চুপ করে থাকবে, তাহলে হয়তো তোমরা রহমত প্রাপ্ত হবে। (সূরা আরাফ, আয়াত : ২০৪)
কোরআন তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত সামনে এলে তিলাওয়াতকারী এবং শ্রোতা দুজনকেই সিজদা দিতে হয়। তবে সিজদার আয়াত শুনে সিজদা দেওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, তেলাওয়াত এবং শ্রবণ উভয়টা এক সঙ্গে হতে হবে। অর্থাৎ, সরাসরি তিলাওয়ার শুনতে হবে।
সরাসরি না হয়ে যদি কেউ টেলিভিশন, রেডিও বা অন্য কোনো মাধ্যমে রেকর্ডকৃত তিলাওয়াত শুনে তাহলে তাকে সিজদা দিতে হবে না।
আলেমদের মতে, টেলিভিশন বা রেডিওতে প্রচারিত তেলাওয়াত যদি সরাসরি হয়ে থাকে তাহলে সে তেলাওয়াত শ্রবণ করার কারণে সিজদা দেয়া ওয়াজিব হবে। আর যদি প্রচারিত তেলাওয়াত সরাসরি না হয়ে রেকর্ডকৃত হয় তাহলে সে তেলাওয়াত শ্রবণ করার কারণে সিজদা দেয়া ওয়াজিব হবে না।
তবে অনেক সময় বুঝা যায় না যে, এসব মাধ্যমে প্রচার সরাসরি হচ্ছে নাকি রেকর্ড থেকে। এক্ষেত্রে সতর্কতা হচ্ছে, সেজদা আদায় করা।
(ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৪/২২৩, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, খন্ড-১১, পৃষ্ঠা-৫৫০)।

বনী ইসরাঈলের একাধিক নবীকে আল্লাহ তায়ালা প্রেরণ করেছিলেন সিরিয়া ও ফিলিস্তিন ভূমিতে। এই অঞ্চলকে এক সময় শাম বলা হতো।
পৃথিবীর অন্যতম ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর সিরিয়া। ইসলাম পূর্ব যুগ থেকেই এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাঈলের অসংখ্য নবীকে প্রেরণ করেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এই অঞ্চলকে শাম বলা হতো পূর্ববর্তী যুগে। হজরত মুসা আ. ষ্বৈরাচার ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর শাম অঞ্চলেই হিজরত করেছিলেন। মূলত শাম বলে সেকালে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও আশপাশের অঞ্চলকে বোঝানো হতো।
মুসা (আ.)-এর যুগে বনী ইসরাইলকে ফিলিস্তিনে প্রবেশের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। মুসা (আ.) তাদের বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন কোরো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সুরা মায়িদা: ২১) অবশ্য বনি ইসরাইলরা তখন এ আদেশ অমান্য করে এবং মুসা (আ.)-কে বলে, ‘আপনি ও আপনার রব যুদ্ধ করুন; আমরা এখানে বসে থাকব।’
বিজ্ঞাপন
আল্লাহর নবী হজরত ইবরাহিম ও লুত (আ.)-কে আল্লাহ তায়ালা ফিলিস্তিনে হিজরতের কথা বলেছিলেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তাকে ও লুতকে উদ্ধার করে সে দেশে পৌঁছিয়ে দিলাম, যেখানে আমি বিশ্বের জন্য অফুরন্ত কল্যাণ রেখেছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৭১)
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা একটি অঞ্চলকে পবিত্র ও বরকতময় আখ্যা দিয়েছেন। সরাসরি শাম শব্দ পবিত্র কোরআনে আসেনি, তবে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা যে ভূমিকে বরকতময় ও পবিত্র বলেছেন, তাতে ফিলিস্তিনসহ পুরো অঞ্চলটি অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছেন তাফসিরকারগণ।
সূরা বনী ইসরাঈলের প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বরকতময় ভূমি বলে এই অঞ্চলের দিকে ঈঙ্গিত করেছেন। বর্ণিত হয়েছে— পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা* পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
অন্য আয়াতে হজরত সোলায়মান (আ.)-এর ঘটনায়ও ফিলিস্তিনকে বরকতময় ভূমি বলা হয়েছে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি প্রবল বায়ুকে সোলায়মানের অধীনে করে দিয়েছিলাম; তা তার আদেশে প্রবাহিত হতো ওই দেশের দিকে, যেখানে আমি বরকত দান করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮১)
১৩
১৯ মন্তব্য