সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:২৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
এক সময় ব্রিটিশরা বাংলার কৃষকদের দিয়ে নীল চাষ করাতো।কিন্তু এর লাভের বেশিরভাগ অংশ তারা নিয়ে যেতো।কৃষকরা লাভের বদলে গুণতো লোকসান।তবে 'নীল' কিন্তু মোটেও অলাভজনক ফসল নয়। 'নীল' গুল্ম জাতীয় এক প্রকার উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম indigofera tinctoria. নীল গাছের গড় উচ্চতা ৫-৬ ফুট। দেখতে অনেকটা ধৈঞ্চা গাছের মতো। নীল গাছের পাতার নির্যাস থেকেই তৈরি হয় প্রাকৃতিক রং 'নীল'।রোপণের তিনমাস পর গাছ থেকে নীল আহরণের উপযোগী হয়। নীল গাছ কেটে পানিতে প্রায় ১২ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখলে সবুজ রঙের গাদ (নির্যাস) বের হয়। এরপর এই গাদ
বা নির্যাসকে কাঠি দিয়ে অনেকক্ষণ নাড়লে বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় 'নীল' তলানী হিসেবে নিচে জমা হয়। পরে তা পৃথক করে রোদে শুকালে-ই নীল পাওয়া যায়।নীল গাছ থেকে শুধু কাপড়ে দেবার নীল-ই তৈরি হয় না। নীলের পাতা থেকে তেল, মশার কয়েল, চুলের কলপ ইত্যাদি তৈরি করা যায়। নীলের গাছ থেকে আইসক্রিমের কাঠি তৈরি করা যায়। 'নীল' তৈরিতে ছাঁকন প্রক্রিয়ার সময় ফেলে দেয়া পানি Liquid Cleaner (পরিষ্কারক) হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।তাছাড়া নীল গাছের ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে।গাছের শিকড় সিদ্ধ করে সেই পানি সেবন করলে প্লীহা, যকৃত ও মূত্রাশয়ের সমস্যার সমাধান হয়। পাতার রসে বুক-ধড়ফড়, জলাতঙ্ক ও মৃগীরোগে উপকার পাওয়া যায়। নীল গাছ মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করতে পারে। তাই নীল চাষের পর জমিতে যে ফসলের চাষ করা হয় তাতে ইউরিয়া সার খুব বেশি দেওয়া লাগে না। (সংগৃহীত)
১৮
২৮ মন্তব্য