Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

♻️??মাকড়সাদের তৈরী জাল স্টিলের চেয়েও শক্তিশালী

মাকড়সাদের তৈরী জাল স্টিলের চেয়েও শক্তিশালী


মাকড়সার  জালের একটি সুতো 

  মানুষদের  মাথার  একটি  চুলের  

    থেকে  ১০০০ গুণ পাতলা, অথচ 

      এটি  স্টিলের  চেয়ে  শক্ত,  কিন্তু   

        বুনতে সময় নেয় মাত্র ৩০মিনিট।


মাকড়সার জাল দেখলেই নিশ্চয় অনেক কৌতূহল হন! কীভাবে তারা এতো সুন্দর একটি জাল তৈরি করে, এই ভেবে। ঘরের মধ্যে মাকড়সার জাল দেখলেই অনেকে হাত দিয়ে সরিয়ে দেন কিংবা ঝুলঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করেন। তবে অনেকেরই অজানা যে, মাকড়সার জাল অত সহজে পরিষ্কার করা গেলেও সেটি স্টিলের থেকেও শক্ত। ভাবতেই নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন! বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পদার্থের শক্তি পরিমাপ করা হয়। মাকড়সার জালের সুতা বা স্পাইডার সিল্ক স্টিলের মতোই শক্তিশালী বা কিছু ক্ষেত্রে স্টিলের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। 


কীভাবে স্টিলের চেয়েও শক্তিশালী


টেনসাইল স্ট্রেংথ হলো যা কোনো উপাদান ভাঙ্গার আগে কি পরিমাণ চাপ সহ্য করতে সক্ষম তা পরিমাপ করে। টেনসাইল স্ট্রেংথ প্রতি ইউনিট এরিয়া বা জিপিএ এককে বোঝানো হয়। ইস্পাতের টেনসাইল স্ট্রেংথ ০.২ জিপিএ থেকে ২ জিপিএ পর্যন্ত হয়। তবে কিছু মাকড়সার জালের টেনসাইল স্ট্রেংথ প্রায় এক জিপিএ।


যেহেতু স্পাইডার সিল্ক স্টিলের তুলনায় অনেক ছোট, শক্তির দিক থেকে তুলনাটি সম্পূর্ণরূপে বোঝা শক্ত। যেমন ধরুন, এরোপ্লেন বা স্কাইস্ক্র্যাপার- স্টিল এবং অন্যান্য শক্তিশালী ধাতু দিয়ে তৈরি হয় তাই মাকড়সার জালের সুতোর মতো কিছু এর থেকেও শক্তিশালী ভাবা নিতান্তই কঠিন হতে পারে। 


যদিও শক্তি এবং ঘনত্বের অনুপাতের ক্ষেত্রে, মাকড়সার জালের সুতো স্টিলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। মাকড়সার জাল দিয়ে যদি একটি দড়ি তৈরি করা যায় এবং একটি স্টিলের দড়ি তৈরি করা হয়, তাহলে তা স্টিলের দড়ির থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।


মাকড়সার জালের একটি সুতা মানুষের চুলের একটি চুলের থেকে ১০০০ গুণ পাতলা। মাকড়সার জালের আর একটি মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থিতিস্থাপকতা। ট্রি-হাগার এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু স্পাইডার সিল্ক তার দৈর্ঘ্যের থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত টেনে বাড়ানো যায়। 


আরও আশ্চর্য বিষয় হলো, অত্যন্ত শীতল তাপমাত্রা যেমন শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে ৪০ ডিগ্রি কম তাপমাত্রাতেও এই সুতা তার স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে পারে। প্রকৃতি তার ছোট ছোট সৃষ্টিতেও কত বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছে ভাবলে অবাক হতে হয়।


মাকড়সার জাল বোনার রহস্য


মাকড়সার জাল বোনাও একটা বিশাল মুন্সিয়ানার কাজ। সব মাকড়সারই স্পিনিং বা তাঁত গ্রন্থি আছে। মাকড়সা তা দিয়ে সুতা তৈরি ও সে সুতা দিয়ে জাল বোনে। স্পিনিং গ্রন্থি থেকে এক ধরনের নিঃসৃত পদার্থ থেকে রেশম তৈরি হয়। যদিও বিভিন্ন মাকড়সার স্পিনিং গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন রকম সুতা উৎপন্ন হয়, তবু সব রেশমই প্রোটিন সমৃদ্ধ ও সুতার মতো। 


স্পিনিং গ্রন্থির মধ্যে রেশম রস থাকে জলেতে দ্রবণীয় তরল আকারে। তবে যখনই তা বাইরে আসে বা সুতা তৈরি হয়ে যায় তখন তা জলেতে অদ্রবণীয় শক্ত পদার্থে পরিণত হয়। এই রেশম সুতাকে অনেকটা সূক্ষ্ম নাইলন সুতার সঙ্গে তুলনা করা যায়। মাকড়সার  রেশমি সুতা প্রধানত কিছু এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ প্রোটিন উপাদান দ্বারা গঠিত। 


বিশেষত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উপাদানই থাকে এলালিন, গ্লাইসিন, সেরিন ইত্যাদি এমাইনো এসিড। জাল বা সুতা তৈরি এজন্য মাকড়সার পেটের শেষ প্রান্তে তিন জোড়া স্পিনারেট থাকে। অগ্রবর্তী, মধ্যবর্তী ও পশ্চাদবর্তী স্পিনারেট। এগুলো অত্যন্ত সঞ্চালন ক্ষমতাসম্পন্ন। স্পিনিং গ্রন্থি থেকে এসব স্পিনারেটের মাধ্যমে রস নিঃসৃত হয়ে সুতা তৈরি হয়।


জালের কাঠামো কেমন?


সব জালের মধ্যে অর্ব জাল বা চাকতি জালকে মাকড়সার আদর্শ জাল বলে ধরা হয়। এ জালের তিনটি কাঠামোগত উপাদান থাকে-


> রেডিয়াল সুতা: জালের কেন্দ্র থেকে যেসব সুতা সোজা সূর্যের রশ্মির মত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।


> ফ্রেম সুতা: পুরো জালের চারপাশে যেসব সুতা ঘিরে রাখে এবং যার সঙ্গে রেডিয়াল সুতাসমূহ কেন্দ্র থেকে গিয়ে যুক্ত হয়।


> ক্যাচিং জাল: রেডিয়াল সুতাসমূহের ওপর যেসব সুতা চক্রাকারে জালক তৈরি করে এবং যার আঁঠালো পৃষ্ঠে শিকার ধরা পড়ে।


মূলত তিনটি ধাপে একটি জাল তৈরি হয়। প্রথমত, মাকড়সা ফ্রেম ও রেডিয়াল সুতা তৈরির মাধ্যমে একটি কাঠামো তৈরি করে। দ্বিতীয়ত সেই ফ্রেম বা কাঠামো আরো অনেক সূক্ষ্ম স্পাইরাল বা ক্যাচিং জাল দিয়ে ছাউনি বা জালক তৈরি করে। তৃতীয়ত সেই জালকে আঠাল সুতাসমূহ যুক্ত করে। 


মাকড়সার জাল একটি অত্যন্ত জ্যামিতিক পরিমিতিতে তৈরি হয়। সাধারণত মাকড়সা একটি জাল তৈরি করতে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় মিনিট।


সূত্র: ডিড ইউ নো

মন্তব্য করুন

ব্লগ