Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৯:২৭ অপরাহ্ণ

?⭕?কিছু কিছু শসা কেন তিতা হয়?

কিছু কিছু শসা কেন তিতা হয়?


অনেকেই হয়ত জানেন যে, শসা আর করলা একই পরিবারের উদ্ভিদ; শুধু তাই নয়, কুমড়ো, লাউ, ফুটি, তরমুজ, ঝিঙা, পটল, চিচিঙ্গা, তোরাই ইত্যাদি প্রজাতিগুলোও একটি সাধারণ আদিম উদ্ভিদ প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে। 


এই উদ্ভিদ পরিবারটিকে কিউকারবিটাসি  (Cucurbitaceae) পরিবার বলা হয়। এদের বন্যরূপ আজও আমরা পথের ধারে, মাঠে-ঘাটে বেড়ে উঠতে দেখি।


তেতো শসা বা করলা যে তেতো হয়, তার কারণ হল এতে থাকা একটি প্রাকৃতিক জৈব যৌগ, যার নাম দেওয়া হয়েছে "কিউকারবিটাসিন" (Cucurbitacin)। এটি কমবেশি মাত্রায় সমস্ত কিউকারবিটাসি পরিবারের ফলগুলিতে উপস্থিত থাকে।


বাস্তবে শসা একটি উষ্ণ ও আর্দ্র ঋতুর উদ্ভিদ ছিল, শসা চাষের উপযুক্ত তাপমাত্রা হল ২০°-৩০° সেলসিয়াস, তাপমাত্রা ১৫° সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে শসা গাছে স্ট্রেস হয়, এছাড়া মাটির অম্লত্ব-ক্ষারত্ব কমবেশি হলে, জলের অভাব হলেও গাছে স্ট্রেস হয়, তখন শসা গাছ ফলে বেশি মাত্রায় কিউকারবিটাসিন জমা করে।


আবার গাছে যদি পোকা বা ছত্রাকের আক্রমণ হয়, তাহলে আক্রমণ রুখতে শসা গাছটি বেশি পরিমাণে কিউকারবিটাসিন জমা করে।


এছাড়াও কিছু বন্য ভ্যারাইটির শসায় প্রাকৃতিক ভাবেই কিউকারবিটাসিনের মাত্রা বেশি থাকে, কিন্তু এই বন্য ভ্যারাইটি গুলির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় মিষ্টি শসার সঙ্গে হাইব্রিড করা হয়, এই হাইব্রিড ভ্যারাইটিগুলির কোন কোন গাছে বন্য তেতো বৈশিষ্ট্য প্রকট হয়ে যায়। 


তেতো শসা খেলে কি কোন সমস্যা হবে?


কিউকারবিটাসিন রাসায়নিকভাবে একটি ট্রাইটারপেনয়েড, কম মাত্রায় মানব দেহের জন্য তেমন ক্ষতিকারক নয়, তবে কিউকারবিটাসিনের মাত্রা বেশি হলে শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, একই কারণে অতিরিক্ত করলা খাওয়াও ক্ষতিকারক হবে, (শরীরের প্রতি কেজি ওজনে ১০-১২ মিলিগ্রামের ওপর কিউকারবিটাসিন শরীরে ঢুকলে খারাপ প্রভাব দেখা যায়, প্রচন্ড তেতো ১০০ গ্রাম কাঁচা করলায় গড়ে ৬০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কিউকারবিটাসিন থাকতে পারে)।

উচ্চমাত্রায় কিউকারবিটাসিন পেটে গেলে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, অন্ত্রে প্রদাহের কারণ হতে পারে।


আরও অতিরিক্ত কিউকারবিটাসিন শরীরে গেলে বিষক্রিয়া হতে পারে, এতে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যা গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।


রেফারেন্স: বিজ্ঞানকথা


মন্তব্য করুন

ব্লগ