সহকারী অধ্যাপক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
পাহাড়ের কোলে অপরূপ সৌন্দর্যের হাটহাজারী
ডক্টর মোহাম্মদ ইদ্রিস
সবুজ পাহাড়ে ঘেরা হাটহাজারী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপূর্ব লীলাভূমি। বৃক্ষসারির ওপর বিচিত্র রঙের পাখি, সবুজ পাহাড়ের কোলে ভেসে আসা মোরগের ডাক, যেন প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠা এক অপরূপ ও অনন্য নৈস্বর্গে নাম হাটহাজারী। এখানে আসলে আপনি পাহাড়ের সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি দেখতে পাবেন দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাটহাজারী মাদরাসা। হাটহাজারী উপজেলায় ভ্রমণ পিপাসুদের পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে, ফতেয়াবাদ সুলতান নশরত শাহ মসজিদ, ফকির মসজিদ, হাটহাজারী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ও পাশাপাশি হটিকালচার সেন্টার, কৃষি ইন্সটিটিউট ও নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম ভেটরনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্ম বেইস ক্যাম্পাস, মধ্যেরখিল সবুজ পাহাড় এবং প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী।
কীভাবে যাবেন: দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম এসে চট্টগ্রাম শহরের মুরাদপুর হতে বাস যোগে ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে হাটহাজারী বাসস্টেশন আসতে হয়। নগরীর অক্সিজেন মোড় থেকেও বাসে বা অটোরিকসায় হাটহাজারী বাসস্টেশন আসা যায়। বাসস্টেশন থেকে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা রিকশা নিয়ে যাওয়া যায় কৃষি ফার্মে ও পায়ে হেটে যেতে হবে পশ্চিম দেওয়ান নগর এর মধ্যের খিল পাহাড়ে।
যাত্রা শুরু যেভাবে: অনেক চড়াই উৎত্তরাই পেরিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে অন-লাইনে চট্ট্রগ্রামের ‘চট্টলা’ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটলাম, প্রচন্ড ভিড়ের কারণে সে ট্রেনে উঠতে পারলম না। অবশেষে ‘সূবর্ণা’ এক্সপ্রেস ট্রেনে রাত নয়টায় চট্ট্রগ্রাম পৌঁছালাম। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্দ্বীপ ভ্রমণ শেষ করে ২০ ডিসেম্বর জুময়াবার সকালে আমরা হাটহাজারীর উদ্দ্যেশে বের হলাম। সারাদিন, ফতেয়াবাদ লেক ও শাহী মসজিদ, কৃষি ফার্মস ও হটিকালচার সেন্টার, কন্টিনেন্টাল স্পোটস কমপ্লেক্স এর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও খামার এবং পশ্চিম দেওয়ান নগর এর মধ্যের খিল পাহাড়, ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাটহাজারী মাদরাসা ভ্রমণ শেষে রাতে ‘সরকার ট্রাভেলস’ গাড়ীতে পাবনায় ফিরে এলাম।
আমার সাথে সফরসঙ্গী হিসাবে ছিলেন আমার কলিগ একান্ত প্রিয় জনাব আসাদুজ্জান ভাই। এ সফরে পরম আতিথিয়তায় আমাদের আপন করে নিয়ে ছিলেন সারা এগ্রো ফার্মের তত্বাবধায়ক খানমমুদপুর নিবাসী আমাদের একান্ত প্রিয় ভাই জনাব আব্দুল মোঃ বাতেন ও কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা পাকশী নিবাসী আমাদের একান্ত প্রিয় ভাই জনাব জাবেদ জাহাঙ্গীর বিদুৎ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ফতেয়াবাদ হয়ে সিএনজি চালিত অটো রিকসায় আমরা হাটহাজারী বাজারে প্রবেশ করলাম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ষড়ঋতুর পালাবদল হৃদয় দিয়ে অনুভব করা কর্মকর্তা যায় চবি ক্যাম্পাসে। গ্রীষ্মের আগমনে রুক্ষ প্রকৃতি। হঠাৎ সবুজ পাহাড় ঘিরে কালো মেঘের আনাগোনা আর কালবৈশাখী ঝড়, বর্ষার আগমনে প্রকৃতির সতেজতা লাভ, শরতের কাশফুল, হেমন্তের সোনালী ধান কিংবা ঋতুরাজ বসন্তে ফোঁটা ফুল সবই দেখা যায় চবি ক্যাম্পাসে থেকে কিংবা গিয়ে। চবি ঝর্ণা, ঝুলন্ত সেতু, কাটাপাহাড়সহ মানবসৃষ্ট স্থাপনাগুলোও যে কাউকে আকৃষ্ট করে।
হালদা নদীর পাড়: এশিয়ার একমাত্র মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পার্বত্য জেলার খাগাড়াছড়ি মানিক ছড়ি থেকে নেমে আসা নদীটি ফটিকছড়ি হাটহাজারী রাউজান উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গপোসাগরের সাথে সংযুক্ত কর্ণফুলীর সাথে মিশে গেছে। প্রতি বছর চৈত্র থেকে আষাড় মাস পর্যন্ত যে কোন অমাবশ্যা ও পূর্ণিমা এবং অষ্টমী তিথিতে মা মাছ এ নদীতে ডিম ছাড়ে। অসংখ্য মানুষ নদীথেকে ডিম সংগ্রহ করে রেণু পোনা উৎপাদন করে থাকে। বর্ষার মৌসমে পাহাড়ী ঢলের বজ্রপাতসহ বৃষ্টির মধ্যে মা মাছ ডিম ছেড়ে থাকে।
এখানে পড়ন্ত বিকালে বেড়ি বাঁধের উপরে বসে নদীর সৌন্দর্য্য খুব মনোমুগ্ধকরভাবে দেখা যায়। জ্যোৎস্না রাতে নদী দেখতে অপূর্ব মনে হয়। নৌকা ভ্রমণে সেই দৃশ্য যেন ভোলার মত নয়। তাই প্রকৃতি প্রেমিকরা নদীর পাড়ে এসে প্রতিনিয়ত বিনোদন উপভোগ করে। বহুল আলোচিত এই হালদা নদীকে নিয়ে প্রখ্যাত সংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব তৌকির আহম্মদ হালদা নদীকে নিয়ে একটি বাংলা সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এই সিনেমার মাধ্যমে হালদা নদীর বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এবং দেশে এই ছবি প্রশংসিতও হয়েছে।
সুলতান নশরত শাহ মসজিদ: হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘির পশ্চিম পাশে ১৫১৯ সনে সুলতান নশরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পূর্বেকার পিলারসমূহ আস্ত বড় পাথরে খোদাই করা ছিল। ১৯৭০ সনে এটা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে বর্তমানে স্থিত অবস্থায় আনা হয়। এরপর ১৯৮৮ সালে পুনর্নির্মাণের সময় মসজিদের পিলারসমূহ পরিবর্তন করে সিসি ঢালাই করে সাজানো হয়। ৫০৩ বছর আগের দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে থাকেন এক থেকে দেড় হাজার মানুষ।
জানা যায় সুলতান নশরত শাহ ১৫১৯-১৫৩২ সন পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তিনি ১৫১৯ সনে উত্তর চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের শঙ্খ তীর অবধি ভূভাগটি জয় করে ফতেয়াবাদ গ্রামে রাজধানী স্থাপন করেন। রাজধানীর নামানুসারে চট্টগ্রামের নতুন নামকরণ করেছিলেন ফতেয়াবাদ। ১৫১৯ সনের পরপরই সুলতান নশরত শাহ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি তৈরি হয় প্রাচীন পাথরের স্তম্ভ দ্বারা, এছাড়া বড় বড় পাথর এবং যার সাথে পাতলা ইট।
ফকির মসজিদ: হাটহাজারী বাজারে প্রাচীন ঐতিহ্য ফকির মসজিদ সুলতানী আমলে নির্মিত। ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি এখনও অক্ষত অবস্থায় আছে। মসজিদটি ফকিরের মসজিদ নামে খ্যাত। মসজিদ সংলগ্ন একটি ভাঙা শিলালিপি থেকে জানা যায়, মসজিদটি বারবক শাহ এর পুত্র সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ এর শাসনামলে (১৪৭৪-১৪৮১ খ্রি.) নির্মিত। মসজিদটি এখনো আগের মতোই রয়েছে। তবে টাইলস ও মোজাইক দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। জানা যায়, মসজিদটি দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ফলে এটি ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়ে যায়। পরে সুফি মুকিম শাহ নামের একজন ফকির এটি পুনরায় নামজের উপযুক্ত করে ব্যবহার শুরু করেন। মুকিম শাহের সমাধি মসজিদের পাশে অবস্থিত এবং পরে মসজিদটি ফকির মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে।
কৃষি ফার্ম: সুজলা, সুফলা, শষ্য শ্যামলা এই প্রাকৃতিক দৃশ্য যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভ্রমণ পিপাসুদের। পাহাড় ঘেরা হাটহাজারী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাগার ও কৃষি ইনিস্টিটিউট এই এলাকায় নানা প্রজাতীর ফল, ফুল, ফলাদি ও ঔষধি গাছের বীজ হতে চারা উৎপন্ন করে। এখানে পড়ন্ত বিকালে শত শত পর্যটক ঘুরতে আসেন। এটি একটি পার্কে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি এখানে পিকনিক স্পটও রয়েছে।
কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স: হাটহাজারী উপজেলার কৃষিফার্ম সড়কের মধ্যেরখিল এলাকায় সবুজ পাহাড়ের কোলে প্রায় ৬০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এখানে ফুটবল স্টেডিয়ামসহ আধুনিক অবকাঠামোগত সুযোগসুবিধার একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস জোন তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সের কর্ণধার জনাব আহসান ইকবাল চৌধুরী আবির দেশের শিপিং সেক্টরের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানী কন্টিনেন্টাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ক্রীড়াঅন্তঃপ্রাণ মানুষ। তিনি চট্টগ্রাম ক্রিকেটের প্রিমিয়ার লিগের প্রথম সারির দল পাইরেটস অব চিটাগং-এর কর্ণধার। হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম সীমান্তে মধ্যেরখিল সবুজ পাহাড়ের কোলে গড়ে তোলা স্পোর্টস কমপ্লেক্স এর ভিতরে রয়েছে নানা রকম পশু-পাখির খামার।
মধ্যেরখিল মাজার মসজিদ: হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম সীমান্তে মধ্যেরখিল সবুজ পাহাড়ের কোলে স্পোর্টস কমপ্লেক্স এর দক্ষিণে রয়েছে একটি মসজিদ। এ মসজিদের পশ্চিম দিকে পাহাড়ের ভিতরে রযেছে জনৈক পীর সাহের দরগাহ। মনোবাসনা পুরণের জন্য্ এখানে অনেকেই মানত করেন। এ মসজিদের উত্তরে দিকে রয়েছে একটি বড় পাথড়। জানা জনৈক পীর সাহেব এ পাথড়টিতে অবস্থান করতেন। তবে এ পাথড়টিকে কেন্দ্র করে ভক্তির নামে অনেকে শিরকে জড়িয়ে পড়েন বলেন এলাকা বাসী জানান।
মধ্যেরখিল পাহাড়ের চুড়ায়: মাজার মসজিদে জুময়ার নামাজ আদায় করার পর আমরা পাশের পাহাড়ের চুড়ায় উঠে হাটহাজারী মাদরাসা, সাধুর পাহাড় দেখলাম।সবুজে সবুজে ঘেরা পাহাড় আর দূরের পাখির কিচির-মিচির, পাহাড়ী মোরগের ডাক এ প্রাকৃতিক পরিবেশকে অন্যন্য্। সারা এগ্রো ফার্মের তত্বাবধায়ক খানমমুদপুর নিবাসী আমাদের একান্ত প্রিয় ভাই জনাব আব্দুল মোঃ বাতেন ও কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা পাকশী নিবাসী আমাদের একান্ত প্রিয় ভাই জনাব জাবেদ জাহাঙ্গীর বিদুৎ আমাদের এ প্রকৃতির সাথে পরিচয় করায়ে দিলেন। আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র তিন ঘন্টা। তাই পাহাড়ের চুড়া থেকে নেমে পশু-পাখির খামার দেখে বিদুৎ ভাইয়ের আয়োজনে দুপুরের লান্স শেষ করে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার উদ্দ্যেশে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হলাম।
হাটহাজারী মাদ্রাসা: দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম সংক্ষেপে হাটহাজারী মাদ্রাসা হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত একটি কওমি মাদ্রাসা। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বপ্রাচীন কওমি মাদ্রাসা। আব্দুল ওয়াহেদ বাঙ্গালী, হাবিবুল্লাহ কুরাইশি, সুফি আজিজুর রহমান ও আব্দুল হামিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আশরাফ আলী থানভীর অনুমতিতে ১৯০১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশে দারুল উলুম দেওবন্দের আদলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মাদ্রাসা, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ ও চিন্তাধারা মোতাবেক পরিচালিত হয়। তাই এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় দারুল উলুম দেওবন্দ নামেও খ্যাত। এটি বাংলাদেশের প্রথম দাওরায়ে হাদিস মাদ্রাসা এবং এখনও বাংলাদেশে হাদিস শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। এই মাদ্রাসার অনুকরণে বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এ মাদ্রাসাকে উম্মুল মাদারিস বা মাদ্রাসার জননীরূপে আখ্যায়িত করা হয়। এটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধিভুক্ত।
বিদায় বেলা: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হাটহাজারী থেকে চট্রগ্রাম শহরে এসে আমাদের একান্ত প্রিয় জনাব আব্দুল মোঃ বাতেন ভাইয়ের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে নগরীর অলংকার মোড় থেকে রাতে ‘সরকার ট্রাভেলস’ গাড়ীতে পাবনায় ফিরে এলাম। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপূর্ব লীলাভূমি হাটহাজারী ও মধ্যেরখিলের সবুজ পাহাড় যেন বার বার আমাদের ডাকে। মনের অজান্তেই তাদের কথা বার বার সরণ করি, যাঁদের আতিথিয়তা আমরা কোন দিন ভূলতে পারব না্। তারা হলেন- সারা এগ্রো ফার্মের তত্বাবধায়ক খানমমুদপুর নিবাসী জনাব আব্দুল মোঃ বাতেন ভাই, কন্টিনেন্টাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা জনাব জাবেদ জাহাঙ্গীর বিদুৎ ভাই ও গোবিন্দ বরমন্।
৫৩
৯১ মন্তব্য