Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:২৮ অপরাহ্ণ

আজার বাইজানের বকতি মালভূমি

এ যেন এক রঙ্গিন শাড়ীর আঁচল! তার উপরে যেন বসানো হয়েছে মূল্যবান রক্তিম রুবী পাথর তথা মানিকের টুপি। এ দৃশ্য যেমনি সুন্দর তেমনি অকল্পনীয়। বহু দূর থেকে পরিষ্কার দেখা যায় দিগন্ত প্রসারিত এমন দৃশ্য। এটি আজারবাইজানের বকতি পর্বতমালায় সৃষ্ট একটি নান্দনিক মালভূমি। ভূমিকম্পের কারণে নরম মাটি বসে গিয়েছিল অতঃপর বহু বছর বৃষ্টির পানির মাধ্যমে সে মাটি সরে গিয়ে পাথরের শক্ত স্তরটি উন্মুক্ত হয়। আর এভাবেই প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য ভেসে এসেছে প্রকাশ্যে।


এখানে পাথরের প্রতিটি স্তর সৃষ্টি হতে লাখো বছর সময় লেগেছিল। ফটোগ্রাফারদের কাছে নান্দনিক একটি দৃশ্য এবং মনোরম একটি ছবি কিন্তু ভূ-গবেষকদের কাছে এটি একটি বিস্ময়! তাদের ব্যাখ্যা আরো চিত্তাকর্ষক ও মনোরম। প্রতিটি রঙ্গিন স্তরের বৈজ্ঞানিক ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। মাটির অভ্যন্তর লোহা, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, সালফার সহ যত ধরনের মৌলিক যৌগ রয়েছে; এ সবের আচরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের মাটি ও পাথরের বর্ণ পরিবর্তন হয়। এখানেও তাই হয়েছে।


বকতি মালভূমিতে গেলেই এমন দৃশ্য দেখা যাবে না। সেটার জন্যে সময়, ঋতু ও দিনের এমন মুহূর্তে থাকতে হয়, যখন সূর্যের কিরণ পড়ে এ ধরনের সুন্দর দৃশ্যের অবতারণা হয়। আর ফটোগ্রাফার সেই সময়টির জন্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেই ছবি ধারণ করে।


পৃথিবীর প্রতিটি পেশা, প্রতিটি কাজ এবং সে সব আঞ্জাম দেবার জন্যে মহান আল্লাহ বহু বিচিত্র স্বভাবের মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাদের দিয়েই দুনিয়ার অজানা সব বিষয়ের রহস্য উদঘাটন করেন। সুতরাং এই পৃথিবীর কোন মানুষের কাজই ঘৃণিত নয় এবং কোন মানুষের কাজই অবহেলার যোগ্য নয়। পৃথিবী পরিচালনার জন্যে বহু সখ ও স্বভাবের মানুষ সৃষ্টিও মহান আল্লাহর এক অন্তর্নিহিত পরিকল্পনার অংশ। 

©নজরুল ইসলাম টিপু

মন্তব্য করুন

ব্লগ