Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বছরের শুরুতেই শীত কুয়াশা বাড়ার আভাস ,ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হতে পারে যোগাযোগ

নতুন বছরের শুরু থেকে আবারো শীত জেঁকে বসতে পারে। সকালে বাড়তে পারে কুয়াশা। উত্তরাঞ্চল ছাড়া দেশের বাকি এলাকায় কমতে পারে তাপমাত্রা। দেশের কয়েকটি এলাকায় শুরু হতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। আগামী দুই-তিন দিন শৈত্যপ্রবাহের এলাকা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এমনটা বলা হয়েছে।


এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত ডিসেম্বর শীত যতটা পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা হয়নি। মাসের শেষের দিকে সারাদেশে তাপমাত্রা বেশ বেড়ে যায়। শৈত্যপ্রবাহও বিদায় নেয়। এর কারণ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একাধিক লঘুচাপের কথা বলছেন আবহাওয়াবিদরা।আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, দেশের কয়েকটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে শুরু করবে কুয়াশাও। আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শীত বেশি থাকবে। আগামী সপ্তাহের দিকে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে। এ সময় হালকা বৃষ্টিও হতে পারে। জানুয়ারির ১০ তারিখের পর শৈত্যপ্রবাহ তীব্র হতে পারে।আগামী শুক্র বা শনিবার বঙ্গোপসাগরে আরেকটি লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছে আবহাওয়া অফিস। এতে শীতের অনুভূতি কমে যেতে পারে বলে জানালেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।পৌষের মাঝামাঝি এসে রাজধানীসহ সারাদেশে আবার বাড়ছে শীতের তীব্রতা। রাতের পাশাপাশি দিনেও শীত অনুভূত হয়। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে দেশের প্রায় সব এলাকা। তাপমাত্রা ক্রমশ কমছে। দিনাজপুরসহ উত্তরের কয়েকটি জেলায় দেখা মিলছে না সূর্যের। শীতে কাবু সাধারণ মানুষ। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক পরিবহন যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আজ থেকে দুই দিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। এমন আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।গতকাল বুধবার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, আজ বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। রাজশাহী বিভাগে ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং দেশের অন্যত্র প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তিনি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সারাদেশের কোথাও কোথাও দিনেও শীত অনুভূত হতে পারে।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রির নিচে। আবহাওয়ার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে। গতকাল ঢাকায় সূর্য উঁকি দিলেও উত্তাপ ছিল না। কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল গোটা রাজধানী। ঠাণ্ডাও অনুভূত হয়েছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের তিন জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। কনকনে শীত নামে সারাদেশে।

আমাদের দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না উত্তরের এই জেলায়। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাসে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন এই জনপদের মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে। শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে এখানকার আবহাওয়া। তবে ৩ জানুয়ারির পর হিমেল বাতাসের প্রভাব কমবে, ফলে বাড়বে তাপমাত্রা।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল সকাল ৯টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৪ শতাংশ। উত্তরের হিমালয়ের সামনে জলীয় বাষ্পের বলয় সৃষ্টির একটি সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারির পর সেই বলয় অবস্থান করলে এই এলাকায় হিমেল বাতাসের প্রভাব থাকবে না। এতে করে তাপমাত্রা বাড়বে এবং শীতের দাপট কমবে।

আমাদের পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, শীতের দাপট অব্যাহত রয়েছে পঞ্চগড়ে। কনকনে বাতাসে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। মঙ্গলবার থেকেই ঘন কুয়াশা পড়ছে। রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকে কুয়াশা। গত কয়েক দিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা ১২ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে।


হিমালয় থেকে আসা কনকনে হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন মানুষ। গতকাল বুধবার ভোর থেকে পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।


আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ