Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৭:৫৯ অপরাহ্ণ

ঋতু চক্রের দেশ বাংলাদেশ।

ঋতু চক্রের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ।

ছয়টি ঋতুর বিচিত্র রূপের মধ্যে আমরা ডুবে থাকি সারাটি বছর। একটা ঋতুর মনোমুগ্ধতার রেশ কাটতে না কাটতেই এসে যায় আর এক ঋতুর রূপের বাহার। সে রূপ শুধু আকাশ, বাতাস আর প্রকৃতি ঘিরেই নয়_ তার ছুঁয়া লাগে প্রতিটি প্রাণের গভীরে।


শীতের বুড়ি পালিয়ে যেতেই কালো কোকিলের কুহু স্বরে মন ভরে ওঠে আমাদের। আবার সূর্যের প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে প্রাণিকুল। প্রকৃতিও হয়ে পড়ে কেমন বিবর্ণ বিষণ্ন। তার পর বৈশাখ এসে ভাঙা-গড়ার খেলা খেলতে খেলতে হঠাৎ যখন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে, ঠিক তখনই ধূসর বরণ এলোকেশে বর্ষা এসে হাজির হয় বাংলার আকাশে। গুড়গুড় শব্দে জানান দেয় তার আগমন বার্তা। যেনো জাদুর ছোঁয়ায় মস্নান করে দেয় সূর্যের খরতাপ। এক ঝলকা হিমেল বাতাসের পরশ আমাদের অনুভবে আসে। আমরা বুঝে নেই, এ আমাদের বর্ষার অকৃত্রিম ভালোবাসার পরশ।

আষাঢ় ও শ্রাবণ বর্ষা ঋতুর ভাগে পাওয়া দু'টি মাস। তাই বর্ষা এসেই বাংলার আকাশ বাতাস আর প্রকৃতি ঘিরে জারি করে তার শাসনতন্ত্র। কালো মেঘ ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে ওঠে। সেই কালো মেঘের কাছে বৃষ্টি চায় চাতক পাখি। তৃষ্ণার্ত মাঠঘাট আর বাংলার প্রতিটি প্রাণ ব্যাকুল মনে প্রতীৰায় থাকে বোবা দৃষ্টি মেলে।

বর্ষা আমাদের প্রাণের কথা জানে, আমাদের অভাব অভিযোগের কথা জানে। তাই বৃষ্টির নূপুর পায়ে ঝুমুর ঝুমুর তালে ঝরে পড়ে বাংলার মাটিতে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হাসতে হাসতে ঘর ছেড়ে বাইরে এসে দাঁড়ায়। সুরে সুরে বলে- 'আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেবো মেপে...'।

তখন পথের মানুষ আর দৌড়ে ঘরে ফিরতে চায় না। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে তারা ভিজতে চায়। এ যেনো বর্ষার সাথে বাংলার মানুষের অনাদিকালের সম্পর্ক। বড় পাওয়ার জন্য ছোটখাটো ৰতি সেও যে আনন্দের। চোখের পলকে ছড়িয়ে পড়ে মেঘ। কানে বাজে সেই চেনা গুরম্ন গুরম্ন মেঘের ডাক। আর থেকে থেকে কালো মেঘের বুক চিরে, চোখ ঝলসানো সেই অাঁকাবাঁকা বিজলি চমক। আমাদের মনে সূচিত হয় নতুন দিনের নতুন স্বপ্ন।


টিনের চালে ঝমঝম অবিরাম বৃষ্টির শব্দ। পৃথিবীর আর কোনো শব্দই পেঁৗছায় না কানে। কেবল বৃষ্টির ঝম্ঝম্ শব্দ। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দু'হাতে কান ঢাকে_ আবার ছাড়ে। শা-শা একটা শব্দের ঢেউ, তাদের মনকে যেনো ডেকে নিয়ে যায় স্বপ্নের সুদূরে। এভাবে বৃষ্টির শব্দ নিয়ে খেলা চলে তাদের।


মন্তব্য করুন

ব্লগ