Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

ধ্রুব তারাদের খোঁজে।সংগীত - এর সুরকার - গীতিকার ধীর আলী মিয়া সম্পর্কে কিছু কথা।

ধীর আলী মিয়াঃ

বিশিষ্ট সুরকার ও সংগীত পরিচালক

------------------------------------------------------

ধীর আলী মিয়া একজন খ্যাতিমান যন্ত্রসঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক, ও সুরকার।

ধীর আলী মিয়া ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারী মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ী থানার বাশঁগাড়ী গ্রামে  জন্মগ্রহন করেন। 


ধীর আলী মিয়ার পিতার নাম ওস্তাদ শের আলী মিয়া। শের আলী মিয়া ছিলেন এই বাংলাদেশের প্রথম বাংগালী মুসলমান যন্ত্রশিল্পী । তাঁর চাচা ওস্তাদ যাদব আলী এবং ওস্তাদ সাদেক আলী এই উপমহাদেশের প্রখ্যাত যন্ত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 


ধীর আলী মিয়ার অনুজ আলী হোসেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের  জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ছিলেন। তাঁর চাচাতো ভাই আলাউদ্দীন আলী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একজন স্বনামধন্য  জনপ্রিয় কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক । তাঁর ছেলে আবু তাহের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একজন  জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ছিলেন।  


ধীর আআলী মিয়া শৈশবকাললেই চাচা প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ সাদেক আলীর কাছে থেকে বাদ্যযন্ত্র তালিম শুরু করেন। সুদীর্ঘদিন সংগীত সাধনা করে বাঁশী ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শীতা অর্জন করেন।


১৯৪৮ সালে তদানীন্তন রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে নিজস্ব শিল্পী হিসেবে ধীর আলী মিয়া যোগ দেন। সুরকার ও অকেষ্ট্রা পরিচালক হিসেবে অতি অল্পসময়েই খ্যাতি লাভ করেন তিনি।


ধীর আলী মিয়া  লাহোরে অনুষ্ঠিত অল পাকিস্তান মিউজিক কনফারেন্স এবং ভারতে অনুষ্ঠিত বংগ সংস্কৃতি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখেন। তিনি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি রাশিয়াসহ অন্যান্য দেয়া সফর করেন। 


শুধু তাই নয় ধীর আলী মিয়া বুলবুল ললিতকলা এবং আর্টস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কোর্সে অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলার লোকসঙ্গীতে আধুনিক ধারার প্রবর্তক।


ধীর আলী মিয়া চলচ্চিত্রের গানের সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র 'মুখ ও মুখোশ'-এ তিনি সমর দাসের সহকারী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু  করেন। 


পরবর্তীতে ধীর আলী মিয়া - নাচঘর, উজালা, জোয়ার এলো, কাঞ্চনমালা, রহিম বাদশা ও রূপবান, দস্যুরানী, চম্পাকলি, শ্রীমতি ৪২০, কাঞ্চনমালা, রাজমুকুট, কাজলরেখা প্রভৃতি চলচ্চিত্রের সুনামের সাথে সঙ্গীত পরিচালনা করে দর্শক মহলে সমাদৃত হন।


ধীর আলী মিয়া রেডিও বাংলাদেশের ঢাকা কেন্দ্রের উপপ্রধান সংগীত প্রযোজক হিসেবে অবসরগ্রহন করেন। 


সংগীত ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ধীর আলী মিয়াকে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার তাঁকে 'তমঘায়ে ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত করেন। 


১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন ধীর আলী মিয়া।

ধীর আলী মিয়া ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকায় ইন্তেকাল করেন এই সঙ্গীতজ্ঞ।


আজ বাংলাদেশের রেডিও ও চলচ্চিত্র জগতের  গুণি  সঙ্গীতজ্ঞ' ধীর আলী মিয়ার জন্মদিন। আজকের এই দিনে  তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।আল্লাহ পরম করুণাময় তিনি উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন।


সৌজন্যে আলীম আল রশীদ

মন্তব্য করুন

ব্লগ