প্রভাষক
০৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৮:১২ অপরাহ্ণ
প্রকল্প ভিত্তিক পাঠের সফলতার গল্প
একজন শিক্ষকের প্রকল্পভিত্তিক শিখনে সফলতার গল্প
ঝিনাইদহের এক প্রত্যন্ত গ্রামের উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জনাব আরিফ হোসেন। তার বিশ্বাস, প্রকল্পভিত্তিক শিখন কেবল পড়াশোনায় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলো সমাধানের সক্ষমতাও তৈরি করে।
আরিফ স্যার তার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেন—"আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায় খোঁজা"। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে গ্রামবাসীদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে সচেতন করা।
প্রকল্প শুরু
প্রথমে, আরিফ স্যার শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে ভাগ করেন এবং প্রত্যেক দলকে তাদের গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবহারের ধরন এবং অপচয়ের কারণ খুঁজে বের করতে বলেন। শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর তারা দেখেন, বেশিরভাগ গ্রাহক পুরনো বাতি ব্যবহার করেন, যা অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।
সমাধান উদ্ভাবন
শিক্ষার্থীরা গবেষণা করে জানতে পারে, এলইডি বাল্ব ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। এরপর তারা একটি সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করে, যেখানে তারা গ্রামের মানুষদের সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলে কীভাবে এলইডি বাল্ব বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়তা করে।
তারা বিদ্যুৎ চুরি রোধের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা একটি মডেল গ্রিডও তৈরি করে দেখায়, যেখানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
ফলাফল
গ্রামের মানুষ প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত সমাধানগুলো বাস্তবায়ন করতে শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা যায়, গ্রামের বিদ্যুৎ বিল ২০% পর্যন্ত কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে পুরস্কারও পায়।
শিক্ষকের সফলতা
এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, গবেষণা, যোগাযোগ এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার দক্ষতা অর্জন করে। আরিফ স্যার মনে করেন, প্রকল্পভিত্তিক শিখন তাদের বাস্তব জীবনে বড় সমস্যাগুলোর সমাধান করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
শিক্ষার্থীদের চোখে সাফল্যের ঝিলিক দেখে আরিফ স্যার আত্মবিশ্বাসী হন যে, তিনি তাদের ভবিষ্যতের পথে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পেরেছেন। তার এই গল্প এখন অন্য শিক্ষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।
১৮
২৮ মন্তব্য