হান্টার কমিশন, ১৯৮২
ব্রিটিশ ভারতের স্যার চার্লস উডের শিক্ষা কমিশনের পরবর্তী কমিশন ছিল হান্টার কমিশন। ১৮৮২ সালে আধুনিক সরকারিভাবে গঠিত প্রথম কমিশন হান্টার কমিশন নামে পরিচিত ছিল। এই কমিশনের অফিসিয়াল ভাবে নাম রাখা হয় ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন।
 |
| উইলিয়াম হান্টার |
হান্টার কমিশনের প্রস্তাবাবলী-
হান্টার কমিশন ১৮৮৩ সালের অক্টোবর মাসে তাদের শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট জমা দেন। শিক্ষার উপর এই কমিশনের সুপারিশ ছিল মোট ৩৬ টি। হান্টার কমিশনের রিপোর্টে বলা হয় যে শিক্ষার প্রতিটি শাখায় যথার্থভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার দাবি করতে পারবে, তখন দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণপ্রাথমিক শিক্ষা এর শর্তাবলী, বিস্তার ও উৎকর্ষকে শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া। এবং প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সরকারের পূর্বেকার প্রচেষ্টার তুলনায় আরো ব্যাপকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ সমূহ
এই কমিশন প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছিল স্থানীয় সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাক বা না যাক বৃটিশ ভারতে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে ।
প্রাথমিক শিক্ষার উপরে ৩৬ টি সুপারিশের কিছু এখানে উল্লেখ করা হলো।
১। প্রাথমিক শিক্ষাকে জনগণের শিক্ষা হিসাবে বিবেচনা করতে হবে এবং জীবন ঘনিষ্ঠ বিষয়ে সমূহ
শিক্ষা মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রদান করা হবে এবং তা কোনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হবে
না।
২। আইনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ বিস্তৃতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
নিতে হবে।
৩। স্কুল গুলিকে প্রাথমিক শিক্ষা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে যেখানে দেশিয়া স্কুল
রয়েছে সেখানে সেগুলিকে সহযোগিতা প্রদান এবং সেগুলি মানোন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। প্রাথমিক শিক্ষাকে জনশিক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। যেখানে শিক্ষা খাতে নির্দিষ্টকৃত স্থানীয় অর্থের ওপর এবং প্রাদেশিক রাজস্বের ওপর একচেটিয়া
দাবি রয়েছে।
৫। পৌর ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার উভয়কেই স্বতন্ত্র স্কুল ফান্ড রাখতে হবে ।
৬। পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান সম্ভবপর স্থানে নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে ।
৭।গ্রামীণ পরিবারের সুবিধা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে অবস্থানের সময় নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে।
৮। ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান প্রভৃতির ব্যবস্থা করতে হবে।
মাধ্যমিক শিক্ষার সুপারিশ
হান্টার কমিশন সুপারিশে বলেছিল সমাজের স্বাভাবিক সুষম অগ্রগতির জন্য প্রাথমিক শিক্ষার মত উচ্চ শিক্ষারও সমভাবে প্রয়োজন
রয়েছে এবং সে অনুযায়ী গুরুত্ব দিতে হবে।কমিশন মাধ্যমিক শিক্ষার উপরেও ২০টি সুপারিশ করেছিল মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে সুপারিশে
উল্লেখ করেছিল,মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য উক্ত স্থানকে উপযোগী করে তুলতে হবে । কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমিক স্কুলগুলোকে তখনি সমর্থন করা
যাবে, যখন সেখানে স্থানীয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে । ভারত সরকার সেই সময়ে এই কমিশনের প্রায় সব সুপারিশইগ্রহণ করেছিল ।
হান্টার কমিশন গঠন
হান্টার কমিশন গঠনের জন্য উইলিয়াম হান্টরকে এই কমিশনের সভাপতি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তার নামেই এই কমিশনে নাম
করণ করা হয় "হান্টার কমিশন"।
এছাড়া হান্টার কমিশনে আরো যারা সদস্য হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এখানে তাদের নাম উল্লেখ করা হলো-
১। এক আনন্দ মোহন বসু
২। এ ডব্লিউ ক্রাফট (পরিচালক,বেঙ্গল পাবলিক ইন্সট্রাকশন)
৩। ভূদেব মুখোপাধ্যায়
৪। যতেন্দ্র মোহন ঠাকুর
৫। কাশিনাথ তিম্বক তীলং
৬। সৈয়দ আহমদ খান (তিনি পুত্র সৈয়দ মুহম্মদকে নিজের নিযুক্তি করে নিজে নাম প্রত্যাহার করেন) ।
বৃটিশ ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ আধিপত্যের ফলে তাদের ভাষাগত শিক্ষা এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করার ফলে আজকের বাংলাদেশ আন্তজাতিক ভাবে পেশাগত জ্ঞান অর্জন ছারাও ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, সামজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা ও অবদান রাখতে পারছে।
০
০ মন্তব্য