Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৫:০১ অপরাহ্ণ

আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’। অবশেষে আল্লাহ তাকে আখিরাত ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন।


আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’। অবশেষে আল্লাহ তাকে আখিরাত ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন।

সূরাঃ   আন-নাযি'আত    আয়াতঃ   মাক্কী

:২১ فَكَذَّبَ وَ عَصٰی

কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং অমান্য করল। আল-বায়ান

কিন্তু সে অস্বীকার করল ও অমান্য করল। তাইসিরুল

কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং অবাধ্য হল। মুজিবুর রহমান

But Pharaoh denied and disobeyed. Sahih International

২১. কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অবাধ্য হল।

তাফসীরে জাকারিয়া

২১। কিন্তু সে মিথ্যাজ্ঞান করল এবং অবাধ্য হল। [1]

[1] কিন্তু এ সমস্ত প্রমাণ এবং মু’জিযা তার মধ্যে কোন প্রভাব ফেলতে পারল না এবং মিথ্যাজ্ঞান ও অবাধ্যতায় সে অটল থাকল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২২ ثُمَّ اَدۡبَرَ یَسۡعٰی

তারপর সে ফাসাদ করার চেষ্টায় প্রস্থান করল। আল-বায়ান

অতঃপর সে (আল্লাহর বিরুদ্ধে) জোর প্রচেষ্টা চালানোর জন্য (সত্যের) উল্টোপথে ফিরে গেল। তাইসিরুল

অতঃপর সে পশ্চাৎ ফিরে প্রতিবিধানে সচেষ্ট হল। মুজিবুর রহমান

Then he turned his back, striving. Sahih International

২২. তারপর সে পিছনে ফিরে প্রতিবিধানে সচেষ্ট হল।(১)

(১) অর্থাৎ হককে বাতিল দ্বারা প্ৰতিহত করতে চেষ্টা করতে লাগল। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২২। অতঃপর সে পিছন ফিরে প্রতিবিধানে সচেষ্ট হল। [1]

[1] অর্থাৎ, সে ঈমান ও আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হল না; বরং যমীনে ফাসাদ ছড়ানোতে এবং মূসা (আঃ)-এর মুকাবিলা করতে প্রচেষ্টা চালালো। সুতরাং সে যাদুকরদেরকে উপস্থিত করে মূসা (আঃ) এর মুকাবেলা করালো; যাতে মূসা (আঃ)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করা যায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২৩ فَحَشَرَ فَنَادٰی

অতঃপর সে লোকদেরকে একত্র করে ঘোষণা দিল। আল-বায়ান

সে লোকদেরকে একত্রিত করল আর ঘোষণা দিল। তাইসিরুল

সে সকলকে সমবেত করল এবং উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করল, মুজিবুর রহমান

And he gathered [his people] and called out Sahih International

২৩. অতঃপর সে সকলকে সমবেত করে ঘোষণা দিল,

তাফসীরে জাকারিয়া

২৩। সে সকলকে সমবেত করল এবং উচ্চ স্বরে ঘোষণা করল।[1]

[1] নিজের সম্প্রদায়কে অথবা যুদ্ধ ও লড়াই করার জন্য নিজের সৈন্য-সামন্তকে কিংবা যাদুকরদেরকে মুকাবেলা করার জন্য সমবেত করল এবং হঠকারিতা প্রদর্শন করে নিজেকেই সর্বশ্রেষ্ঠ রব (প্রভু ও প্রতিপালক) হওয়ার দাবী ঘোষণা করল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৪ فَقَالَ اَنَا رَبُّكُمُ الۡاَعۡلٰی

আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’। আল-বায়ান

সে বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ রব’। তাইসিরুল

আর বললঃ আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ রাব্ব। মুজিবুর রহমান

And said, "I am your most exalted lord." Sahih International

২৪. অতঃপর বলল, আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪। আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।’

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৫ فَاَخَذَهُ اللّٰهُ نَكَالَ الۡاٰخِرَۃِ وَ الۡاُوۡلٰی

অবশেষে আল্লাহ তাকে আখিরাত ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন। আল-বায়ান

পরিশেষে আল্লাহ তাকে আখেরাত ও দুনিয়ার ‘আযাবে পাকড়াও করলেন। তাইসিরুল

ফলে আল্লাহ তাকে ধৃত করলেন আখিরাতের ও ইহকালের দন্ডের নিমিত্ত। মুজিবুর রহমান

So Allah seized him in exemplary punishment for the last and the first [transgression]. Sahih International

২৫. অতঃপর আল্লাহ তাকে আখেরাতে ও দুনিয়ায় কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করলেন।(১)

(১) نكال শব্দের অর্থ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যা দেখে অন্যরাও আতঙ্কিত হয়ে যায় এবং শিক্ষা পায়। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

২৫। ফলে আল্লাহ তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলেন। [1]

[1] অর্থাৎ, আল্লাহ তাকে এমনভাবে পাকড়াও করলেন যে, আগামীতে দুনিয়ায় আগমনকারী আল্লাহদ্রোহীদের জন্য শিক্ষণীয় ও উপদেশস্বরূপ হয়ে রইল। আর কিয়ামতের আযাব তো তার জন্য আছেই, যা সে সেখানে ভোগ করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২৬ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَعِبۡرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی

নিশ্চয় যে ভয় করে তার জন্য এতে শিক্ষা রয়েছে। আল-বায়ান

যে ভয় করে এমন প্রতিটি লোকের জন্য এতে অবশ্যই শিক্ষা আছে। তাইসিরুল

যে ভয় করে তার জন্য অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে। মুজিবুর রহমান

Indeed in that is a warning for whoever would fear [Allah]. Sahih International

২৬. নিশ্চয় যে ভয় করে তার জন্য তো এতে শিক্ষা রয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬। যে (আল্লাহকে) ভয় করে, তার জন্য অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে। [1]

[1] এতে নবী (সাঃ)-এর জন্য সান্ত্বনা এবং মক্কার কাফেরদের জন্য হুমকি রয়েছে যে, যদি তারা পূর্বেকার লোকদের ঘটনাসমূহ থেকে উপদেশ গ্রহণ না করে, তাহলে তাদের পরিণামও ফিরআউনের মত হতে পারে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২৭ ءَاَنۡتُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمِ السَّمَآءُ ؕ بَنٰهَا

তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন। আল-বায়ান

তোমাদের সৃষ্টি বেশি কঠিন না আকাশের? তিনি তো সেটা সৃষ্টি করেছেন। তাইসিরুল

তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন। মুজিবুর রহমান

Are you a more difficult creation or is the heaven? Allah constructed it. Sahih International

২৭. তোমাদেরকে(১) সৃষ্টি করা কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনিই তা নির্মাণ করেছেন(২);

(১) কিয়ামত ও মৃত্যুর পরের জীবন যে সম্ভব এবং তা যে সৃষ্টি জগতের পরিবেশ পরিস্থিতির যুক্তিসংগত দাবী একথার যৌক্তিকতা এখানে পেশ করা হয়েছে। [ইবন কাসীর]

(২) এখানে মরে মাটিতে পরিণত হওয়ার পর পুনরুজ্জীবন কিরূপে হবে, কাফেরদের এই বিস্ময়ের জওয়াব দেওয়া হয়েছে। এখানে সৃষ্টি করা মানে দ্বিতীয়বার মানুষ সৃষ্টি করা। মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে এই যুক্তিটিই কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পেশ করা হয়েছে। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “আর যিনি আকাশ ও পৃথিবী তৈরি করেছেন, তিনি কি এই ধরনের জিনিসগুলোকে (পুনর্বার) সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন না? কেন নয়? তিনি তো মহাপরাক্রমশালী স্রষ্টা। সৃষ্টি করার কাজ তিনি খুব ভালো করেই জানেন।” [সূরা ইয়াসীন: ৮১] অন্যত্র আরও বলা হয়েছেঃ “অবশ্যি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টির চাইতে অনেক বেশী বড় কাজ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না। [সূরা গাফির: ৫৭ আয়াত] [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২৭। তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ? [1] যা তিনি নির্মাণ করেছেন।

[1] এই আয়াতে মক্কার কাফেরদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হল এই ধমক দেওয়া যে, যে আল্লাহ এত বড় আসমান এবং তার আশ্চর্যজনক বস্তুকে সৃষ্টি করতে পেরেছেন, তাঁর জন্য কি পুনর্বার মানুষকে জীবিত করা অসম্ভব কাজ?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৮ رَفَعَ سَمۡكَهَا فَسَوّٰىهَا

তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন। আল-বায়ান

তার ছাদ অনেক উচ্চে তুলেছেন, অতঃপর তাকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন। তাইসিরুল

তিনি এটাকে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন। মুজিবুর রহমান

He raised its ceiling and proportioned it. Sahih International

২৮. তিনি এর ছাদকে সুউচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮। তিনি তার ছাদকে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন।[1]

[1] কোন কোন আলেম سمك -এর অর্থ ছাদ বলেছেন। সুবিন্যস্ত করার অর্থ হল, তাকে এমন আকৃতি ও গঠন দান করা, যাতে তাতে কোন প্রকার খুঁত, ত্রুটি, বঙ্কিমতা ও ফাটল না থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২৯ وَ اَغۡطَشَ لَیۡلَهَا وَ اَخۡرَجَ ضُحٰهَا

আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন। আল-বায়ান

তিনি তার রাতকে আঁধারে ঢেকে দিয়েছেন, আর তার দিবালোক প্রকাশ করেছেন। তাইসিরুল

এবং তিনি ওর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং ওর জ্যোতি বিনির্গত করেছেন। মুজিবুর রহমা

And He darkened its night and extracted its brightness. Sahih International

২৯. আর তিনি এর রাতকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং প্রকাশ করেছেন এর সূর্যালোক;

তাফসীরে জাকারিয়া

২৯। এবং তিনি এর রজনীকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং (দিবসে) এর সূর্যালোক প্রকাশ করেছেন।[1]

[1] أغطش মানে أظلم অর্থাৎ আঁধার করা এবং أخرج মানে أبرز অর্থাৎ প্রকাশ করেছেন। আর نهارها -এর স্থানে ضحاها শব্দ এই জন্য বলা হয়েছে যে, চাশতের সময়টা হল খুবই উত্তম ও উৎকৃষ্ট সময়। এর ভাবার্থ হল, দিনকে সূর্য দ্বারা উজ্জ্বলময় করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:৩০ وَ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ ذٰلِكَ دَحٰىهَا

এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন। আল-বায়ান

অতঃপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন। তাইসিরুল

এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন। মুজিবুর রহমান

And after that He spread the earth. Sahih International

৩০. আর যমীনকে এর পর বিস্তৃত করেছেন।(১)

(১) “এরপর তিনি যমীনকে বিছিয়েছেন”-এর অর্থ এ নয় যে, আকাশ সৃষ্টি করার পরই আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। কেননা, কুরআনে কোথাও পৃথিবী সৃষ্টির ব্যাপারটি আগে এবং আকাশ সৃষ্টির ব্যাপারটি পরে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সূরা আল বাকারার ২৯ নং আয়াতে। কিন্তু এ আয়াতে আকাশ সৃষ্টির ব্যাপারটি আগে এবং পৃথিবী সৃষ্টির ব্যাপারটি পরে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি আসলে কোন বিপরীতধর্মী বক্তব্য নয়। কেননা, পৃথিবী সৃষ্টি আকাশ সৃষ্টির পূর্বে হলেও পৃথিবী বিস্তৃতকরণ, পানি ও তৃণ বের করা, পাহাড় স্থাপন ইত্যাদি করা হয়েছে আকাশ সৃষ্টির পর। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩০। এবং তারপর তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।[1]

[1] পূর্বে হা-মীম সিজদার ৯ আয়াতে উল্লেখ হয়েছে যে, خلق (সৃষ্টি করা) এক জিনিস এবং دحى (সমতল, বিস্তৃত ও বাসোপযোগী করা) করা অন্য এক জিনিস। পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে আকাশের পূর্বে। কিন্তু তাকে বিস্তৃত করা হয়েছে আকাশ সৃষ্টির পর। এখানে সেই তত্ত্বই বর্ণিত হয়েছে। সমতল ও বিস্তৃত করার মানে হল, পৃথিবীকে সৃষ্টির বাসোপযোগী করার জন্য যে সমস্ত জিনিসের প্রয়োজন আল্লাহ তাআলা তার প্রতি গুরুত্ব দিলেন। যেমন, যমীন থেকে পানি নির্গত করলেন অতঃপর তা হতে নানা খাদ্যসামগ্রী উৎপন্ন করলেন। পাহাড়সমূহকে পেরেকস্বরূপ মজবুতভাবে যমীনে গেড়ে দিলেন যাতে যমীনটা না হিলে। যেমন, আগামী আয়াতসমূহে এর বর্ণনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন