সহকারী শিক্ষক
০৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
জীববিজ্ঞান পরীক্ষা প্রস্ততি // এসএসসি পরীক্ষা ২০২৫ বর্ণনামূলক প্রশ্ন
বর্ণনামূলক প্রশ্ন
ক। নিউক্লিয়াস কাকে বলে?নিউক্লিয়াসের চিত্র অংকন কর। এর গঠন ও কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা কর? 5
নিউক্লিয়াস (Nucleus): পৃষ্ঠা : ২৭ চিত্র : ২.১০: নিউক্লিয়াস
প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, পর্দাঘেরা এবং প্রায় গোলাকার অংশকে নিউক্লিয়াস বলে। এটি কোষের সব জৈবনিক ক্রিয়া বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। নিম্নলিখিত চারটি অংশ নিয়ে নিউক্লিয়াস(Nucleus) গঠিত হয় –
১. নিউক্লিয়ার এনভেলপ
২. নিউক্লিয়োপ্লাজম
৩. নিউক্লিয়োলাস
৪. নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম
নিউক্লিয়াসের গঠন(Structure of the Nucleus):
(ক) নিউক্লিয়ার এনভেলপ (Nuclear Envelop):
গঠন (Structure):
নিউক্লিয়াস দুটি দ্বিস্তরী মেমব্রেন দ্বারা আবৃত স্থান। প্রতিটি মেমব্রেন দ্বিস্তরী ফসফোলিপিড বাইলেয়ার দ্বারা গঠিত। নিউক্লিয়ার এনভেলপে(Nuclear Envelop) সর্বদাই বিশেষ ধরনের অসংখ্য ছিদ্র থাকে যা অন্যান্য আবরণীতে থাকে না। প্রতিটি ছিদ্র সংকোচন-প্রসারণশীল একটি প্রোটিন নেটওয়ার্ক দ্বারা এর সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রিত হয়। ছিদ্রটিকে ঘিরে চারপাশে বৃত্তাকারে প্রোটিন গ্রানিউল থাকে এবং মাঝখানে একটি অপেক্ষাকৃত বড় আকারে প্রোটিন থাকে। একে ট্রান্সপোর্ট বলে। অ্যাংকর প্রোটিন দ্বারা ট্রান্সপোর্টার নিউক্লিয়ার এনভেলপের সাথে সংযুক্ত থাকে। বৃত্তাকার প্রোটিনগুলো স্পক দ্বারা সংযুক্ত থাকে। মোট ৮ টি প্রোটিন গ্রানিউল দ্বারা ছিদ্রটি নিয়ন্ত্রিত। নিউক্লিয়ার এনভেলপের (Nuclear Envelop) ভেতর হতে উৎপন্ন ফোস্কাকে নিউক্লিয়ার ফোস্কা বলে।
কাজ:
অভ্যন্তরীণ দ্রব্য ও বহিস্থ সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা ও পরিবহন করা।
সাইটোপ্লাজম হতে নিউক্লিয়োপ্লাজম, নিউক্লিয়োলাস এবং ক্রোমাটিন জালিকাকে পৃথক করা এবং সংরক্ষণ করা।
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের সাথে যুক্ত হয়ে নিউক্লিয়াসের অবস্থানকে দৃঢ় করা।
অভ্যন্তরে উৎপন্ন উপাদান রন্ধ্রের মাধ্যমে সাইটোপ্লাজমে পাঠানো।
(খ) নিউক্লিয়োপ্লাজম (Nucleoplasm) :
গঠন (Structure) :
নিউক্লিয়ার এনভেলপ (Nuclear Envelop) দ্বারা আবৃত স্বচ্ছ, ঘন ও দানাদার তরল পদার্থই নিউক্লিয়োপ্লাজম। নিউক্লিয়োলাস ও ক্রোমসোম এতে অবস্থান করে।
কাজ:
ক্রোমাটিন জালিকা ধারণ করা।
নিউক্লিয়োলাস ধারণ করা।
নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন জৈবনিক কাজে সাহায্য করা।
এনজাইমের কার্যকলাপের মূল ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করা।
(গ) নিউক্লিয়োলাস (Nucleolus):
নিউক্লিয়াস যে ছোট ও অধিকতর ঘন গোলাকার বস্তু দেখা যায় তাই নিউক্লিয়োলাস।
অবস্থান (Location):
নিউক্লিয়োলাস সাধারণত নির্দিষ্ট ক্রোমোসোমের একটি নির্দিষ্ট স্থানে লাগানো থাকে। ক্রোমোসোমের যে স্থানটিতে এটি লাগানো থাকে সে স্থানটিকে বলা হয় SAT বা স্যাটেলাইট।
সংখ্যা (Number):
প্রতি নিউক্লিয়াস এর (Nucleus) সাধারণত একটি নিউক্লিয়োলাস থাকে। সাধারণত যে সব কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় না সেসব কোষের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়োলাস থাকে না। যেসব কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ বেশি পরিমাণে হয় সেসব কোষের নিউক্লিয়াসে একাধিক নিউক্লিয়োলাস থাকতে পারে।
উৎপত্তি (Origin):
SAT ক্রোমোসোমের স্যাটেলাইটে অবস্থিত জিন নিউক্লিয়োলাস উৎপাদনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে বলে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
ভৌত গঠন (Physical Structure):
এর কোনো ঝিল্লি আবিষ্কৃত হয়নি। নিউক্লিয়োলাসকে সাধারণত তন্তুময়, দানাদার ও ম্যাট্রিক্স- এ তিন অংশে ভাগ করা যায়।
রাসায়নিক গঠন (Chemical Composition):
নিউক্লিয়োলাসের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো প্রোটিন, RNA এবং যৎসামান্য DNA।
কাজ:
বিভিন্ন প্রকার RNA সংশ্লেষণ করা।
প্রোটিন সংশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করা।
নিউক্লিওটাইডের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করা।
(ঘ) নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম (Nuclear Reticulum) বা ক্রোমাটিন তন্তু:
নিউক্লিয়াসের(Nucleus) ভেতরে জালিকার আকারের কিছু তন্তু দেখা যায়। তন্তুঘটিত এই জালিকাকে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম (Nuclear Reticulum) বা ক্রোমাটিন তন্তু বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে DNA এবং এর সাথে সাথী প্রোটিনের মিলিত তন্তুই ক্রোমাটিন।
রাসায়নিক গঠন (Chemical Composition):
রাসায়নিকভাবে প্রতিটি ক্রোমোসোম DNA, RNA, হিস্টোন ও নন-হিস্টোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত। এ ছাড়া কিছু ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম ধাতু আছে।
কাজ:
(i) বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করা।
(ii) মিউটেশন, প্রকরণ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজেও মুখ্য ভূমিকা পালন করা।
খ। শ্রেণিবিন্যাস এর ধাপ সমূহ কারণ সহ বর্ণনা কর? 5
উত্তর : রাজা (Kingdom): Animalia; কারণ, সুকেন্দ্রিক কোষবিশিষ্ট, বহুকোষী, পরভোজী এবং জটিল টিস্যুতন্ত্র আছে।
পর্ব (Phylum): Chordata; কারণ, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নটোকর্ড থাকে।
শ্রেণি (Class): Mammalia; কারণ, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ায় এবং লোম/চুল আছে।
বর্গ (Order): Primate; কারণ, আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত এবং ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত।
গোত্র (Family): Hominidae; কারণ, শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বানর প্রভৃতির সাথে সাদৃশ্য আছে।
গণ (Genus): Homo; কারণ, দেহের অনুপাতে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড় এবং খাড়াভাবে দুই পায়ে হাঁটতে পারে।
প্রজাতি (Species): Homo sapiens; কারণ, চওড়া এবং খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত।
তৌফিক সুলতান, সহঃ প্রধান শিক্ষক - ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমি, কাপাসিয়া, গাজীপুর।, মহাপরিচালক - ওয়েল্ফশন লাভ অফ ওয়েলফেয়ার। এবং প্রাক্তন শিক্ষক - ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল।
৫৩
৯১ মন্তব্য