মোহা:গোলাম কবির
সহকারী শিক্ষক
১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
স্যাডলার কমিশন ইন্টারমিডিয়েট পাসকে বিস্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা বলে বিবেচিত করেন। এক মিশনের রিপোর্টএই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । এর ফলে পূর্ববঙ্গের মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হয়। এদেশের শিক্ষার ইতিহাসে এত মূল্যায়ন আর কোন রিপোর্ট ইতিপূর্বে রচিত হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার এমন কোন প্রয়োজনীয় দিক নেই যা এই কমিশন আলোচনা করেননি। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কে উপেক্ষা করে কমিশন গঠন করা হলেও ভারতের সকল বিশ্ববিদ্যালয় এই কমিশনের সুপারিশে উপকৃত হয়েছে। মাইকেল স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ গুলি এখানে আলোচনা করা হোল - কমিশনের রিপোর্টগুলো ছিল নিম্নরূপ - (i) মাধ্যমিক শিক্ষা কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষার সমস্যাগুলিকে অধ্যায়ন করা হয়।কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষণের উন্নয়নের জন্য ভিত্তি হলো মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলি। কমিটি সেগুলি পুনর্গঠনের জন্য সুপারিশ পেশ করেছিলেন সেগুলি হল - (ক) মাধ্যমিক ও ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা একটি মাধ্যমিক ও ইন্টারমিডিয়েট বোর্ডের হাতে অর্পণ করা উচিত। এই বোর্ডে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চ স্কুল ও ইন্টারমিডিয়েট কলেজ গুলির প্রতিনিধিরা থাকবেন। (খ)ইন্টারমিডিয়েট কলেজের পাঠ্যক্রমে থাকবে বিজ্ঞান,কলা, শিক্ষা, কৃষি, বানিজ্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিল্প ইত্যাদি। (গ) ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে পাঠ শেষ করার পরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ লাভের যোগ্যতা অর্জন করা যাবে। (ii) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিশ্ববিদ্যালয়ের কমিশনের সুপারিশ গুলি হল - (ক) ঢাকায় একটি শিক্ষণধর্মী আবশ্যিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। (খ) কলিকাতার বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রকৃত শিক্ষণধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় রুপে গড়ে তুলতে হবে। (গ) মফস্বল এলাকার কলেজগুলোকে উন্নত করে তুলতে হবে। (iii) পরিচালনা সম্পর্কেক. বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে কলেজের শিক্ষকদের হাতে শিক্ষাদান সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে অধিকতর ক্ষমতা অর্পণ করতে হবে। খ. অন্যান্য বিষয়ের পরিচালনার ব্যাপারে সেনেট এবং একটি ক্ষুদ্র কার্যকর পরিষদ গঠন করতে হবে। গ. পাঠ্যক্রম নির্ধারণ, ডিগ্রী দান প্রভৃতি পরিচালনার জন্য একাডেমি কাউন্সিল বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফল থাকবে। ঘ. পূর্ণকালীন বেতনভুক্ত উপাচার্য নিয়োগ করতে হবে। (vi) শিক্ষা দান বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষা সংক্রান্ত ক্রটি দূর করার উদ্দেশ্যে কমিশন সুপারিশ করেন যে সাহিত্যধর্মী পাঠ্যক্রম ছাড়াও বিভিন্ন প্রকারের কারিগরি শিক্ষার আয়োজন করতে হবে। ব্যক্তিগত পাঠ্য প্রস্তুতি, উন্নত গবেষণা, পরিচালনা ভারতীয় ভাষা চর্চার ব্যবস্থা করতে হবে। (v) শিক্ষক শিক্ষণকমিশন পরামর্শ দেন যে বিশ্ববিদ্যালযয়ে একটি পৃথক শিক্ষা বিভাগ স্থাপন করতে হবে এবং B A ও ইন্টারমিডিয়েট পাঠ্যক্রমে শিক্ষা তত্ত্ব নামে একটি নতুন বিষয় শুরু করতে হবে। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গুলির মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ রক্ষার জন্য আন্তবিশ্ববিদ্যালয় পর্ষদ গঠনের পরামর্শ দেই এই কমিশন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য স্যাডলার কমিশনের নির্দেশগুলি বিশেষভাবে প্রগতিশীল ছিল। এই প্রসঙ্গে মিস্টার এ এন বাসু বলেছেন, "ভারতবর্ষের শিক্ষার ইতিহাসে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিব্তি পূর্বে লিখিত হয়নি। পরবর্তী কালে শিক্ষামূলক উন্নয়ন এর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল । যার অবশিষ্টাংশ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, যে দেশে তথা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিহ্ন আমরা দেখতে পাই তার পটভূমিকায় স্যাডলার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। |
২
২ মন্তব্য