প্রভাষক
১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
??⏭️মাত্র দুই ঘণ্টার আলাপচারিতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
গুগল এবং স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নতুন গবেষণায় দেখেছেন যে, মাত্র দুই ঘণ্টার আলাপচারিতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এমনভাবে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, যে সেটি ৮৫% সঠিকভাবে সেই ব্যক্তির আচরণ ও প্রতিক্রিয়া নকল করতে সক্ষম। এতে ১,০৫২ জন ব্যক্তির সিমুলেশন এজেন্ট বা AI প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে, যা ওই ব্যক্তিদের সাথে নেওয়া দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারগুলো ব্যবহার করে একটি জেনারেটিভ AI মডেল প্রশিক্ষিত করা হয়েছে যা মানুষের আচরণ নকল করতে সক্ষম।
গবেষণাটি AI এর প্রতিরূপগুলোর সঠিকতা মূল্যায়ন করতে ওই ব্যক্তিদের দুটি রাউন্ডের ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা, সামাজিক জরিপ এবং লজিক্যাল গেমে অংশগ্রহণ করিয়েছিল এবং তাদের দুই সপ্তাহ পর একই পরীক্ষাটি পুনরায় করার জন্য বলা হয়েছিল। যখন AI দিয়ে তৈরি করা প্রতিরূপগুলো একই পরীক্ষাগুলো দেয়, তখন তাদের মানুষের প্রতিরূপগুলোর উত্তর ৮৫% সঠিকভাবে মিলে যায়।
গবেষকরা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে চেয়েছিলেন যে, AI এর তৈরি প্রতিরূপ কতটা সঠিকভাবে মানুষের উত্তর এবং প্রতিক্রিয়া নকল করতে পারে। এতে দেখা যায়, যখন AI মডেলটি সেই একই পরীক্ষাগুলো দেয়, তখন তার উত্তর ৮৫% পর্যন্ত সঠিকভাবে মানুষের প্রতিক্রিয়ার সাথে মিলে যায়।
এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হলো এআই এর আচরণকে আরো গভীরভাবে বোঝা এবং গবেষণার কাজে তা ব্যবহার করা। গবেষকরা মনে করছেন, AI এর মাধ্যমে মানুষের আচরণ অনুকরণ করা নানা ধরনের গবেষণায় সহায়ক হতে পারে। যেমন জনস্বাস্থ্য নীতি, পণ্য বাজারজাতকরণের প্রতিক্রিয়া বা বড় ধরনের সামাজিক ঘটনার প্রতি মানুষের প্রতিক্রিয়া মডেলিং করা। এসব গবেষণায় মানুষের নৈতিক জটিলতার কারণে যে সমস্যাগুলো হতে পারে তা AI এর মাধ্যমে সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
তবে, এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য খারাপ দিকও রয়েছে। যেমন, কিছু মানুষ হয়তো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা বা ভুল তথ্য ছড়াতে পারে। গবেষকরা আরও বলেন, এই AI প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি মানুষের আচরণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে, যা আগে কখনও সম্ভব ছিল না।
১৩
১৯ মন্তব্য