Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

যা ঘ'টেছিল সেদিন, -খান তালাত মাহমুদ রাফি

যা ঘ'টেছিল সেদিন...


গত ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পূর্বঘোষিত কোনো কর্মসূচী ছিলো না। ১০ জানুয়ারি বিকেলে হঠাৎ হান্নান মাসুদ ভাই আমাকে কল দিয়ে বললেন, উনি চট্টগ্রামে লিফলেট বিতরণ করতে আসবেন। আমি বললাম, "ঠিক আছে আসেন।" এটা নিয়ে আমাদের নিজেদের মাঝে কোনো আলোচনা হয়নি, সেজন্য অনেকে জানে, আবার অনেকেই জানে না। আর যেকোনো কর্মসূচী থাকলে সেটা আমার ফেসবুক আইডি এবং পেজে পোস্ট করা হয়, কিন্তু আমাদের কোনো কর্মসূচী না থাকায় আমি পোস্টও করিনি। তাই চট্টগ্রামের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অধিকাংশ সে ব্যাপারে অবগত ছিলো না।


বিকেল ৩ টায় বিপ্লব উদ্যান থেকে লিফলেট বিতরণ শুরু হয়, কিন্তু আমি উপস্থিত হতে পারিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকায় আসতে দেরি হয় এবং এসে দেখি জিইসি মোড় পর্যন্ত এসে কর্মসূচী শেষের দিকে আর আমিই শেষ বক্তা ছিলাম। শেষ করেই হান্নান ভাই ওয়াসার দিকে চলে যান। আমি লিফলেট বিতরণে অংশ নেওয়া কিছুসংখ্যক সহযো'দ্ধাদের নিয়ে হেঁটে হেঁটে লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছিলাম, যাওয়ার পথে রিজাউর ভাই আমাকে কল দিলেন যে উনিও ওয়াসার দিকে আসছেন, তাই অপেক্ষা করতে বললেন। উনিও প্রায় ৩০/৪০ জন নিয়ে লিফলেট বিতরণ করতে করতে আসেন।


তার মধ্যেই হান্নান ভাই যেই অফিসে গিয়ে অবস্থান নিচ্ছিলেন, সেখান থেকে কল আসে এবং আমাকে যেতে বলা হয়। আমি বললাম, "আমার সাথে তো অনেক মানুষ, আসলে সবাইকে নিয়ে আসতে হবে।" তারা বললো, "তাহলে সবাইকে নিয়েই আসেন।" আমার সাথে ২/৪ জন আহত সহযো'দ্ধাও ছিলো, আর যারা ছিলো, অনেককেই চিনি, আবার অনেককেই চিনি না। এর মধ্যেই আমার নাম্বারে পরিচিত অপরিচিত অনেকেরই কল আসে, সব কল রিসিভ করতে পারিনি।


এরপর সবাই মিলে গেলাম অফিসের ভেতর। যারা আমার সাথে ঢুকেছে তাদের সবার বসার মতো জায়গা সেখানে ছিলো না। যারা পেরেছে, তারা বসেছে। উনারা ভেতরে আরেকটা রুমে বসেছিলেন, আমিও ওখানে গিয়ে কথাবার্তা বলি এবং এক পর্যায়ে হান্নান ভাইকে নিয়ে বের হই। সবার মাঝে আসার পর একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘ*টনা ঘ'টে যায়, সেটা আমিও বুঝতে পারিনি। অনেকেই প্রশ্ন করতে থাকে, "আপনারা যে এসেছেন আমাদেরকে কেন জানানো হয়নি?" সেই প্রশ্নটা রিজাউর ভাইও করেন। আমি সাথেই ছিলাম, কিন্তু এমন কিছু হবে, সেটা বুঝতে পারিনি। তাদের ভাষ্যমতে, একজন কেন্দ্রীয় নেতা আসলো, আর সে ব্যাপারটা সবাইকে না জানানোর কারণে সবার মধ্যে অনেকটা ক্ষো*ভ বিরাজ করছিলো। তারই প্রেক্ষিতে এই প্রশ্নটি করা হয়েছিলো!


আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, এটা শুধুমাত্র একজনের প্রশ্ন ছিলো না, মোটামুটি সবাই বলছিলো। রিজাউর ভাই সামনাসামনি থাকায় উনার কথাটাই একটু হাইলাইট হয় এবং বিগত সময় কেন্দ্রেও রিজাউর ভাইয়ের সাথে হান্নান ভাইয়ের কথা হয় (হয়তো উনি ভুলেও যেতে পারেন)। প্রশ্নের উত্তরে হান্নান ভাই বললেন, "Who are you? আপনি কে? আপনাকে আমার জানাতে হবে কেন?" এটা বলার সাথে সাথেই একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেটা মোটেও ম|র|ম|রি বা ওরকম পর্যায়ে যায়নি। কারণ ওখানে যারা ছিলাম, সবাই আমরা নিজেরাই ছিলাম। কিন্তু হান্নান ভাই কোনো কিছু না বলেই ভেতরে চলে যান। আমি সবাইকে না জানানোর ব্যাপারটা ক্লিয়ার করলাম। কিন্তু তখন সবার প্রশ্ন ছিলো, "কেন একজনকে 'Who are you' বলবে?" এটা নিয়ে সবার মাঝে একটা অসন্তোষ ছিলো।


পরবর্তী সময়, আমি হান্নান ভাইয়ের সাথে কথা বলতে ভেতরে যাই এবং কথা বলি। উনার ভাষ্যমতে, উনি সাংগঠনিকভাবে আমাকে এবং আমাদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ককে চেনেন এবং সে জায়গাটা থেকেই উনি এটা বলেছেন। অর্থাৎ, এটা আমাদের একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিলো। ভাইকে বললাম, "এখানে যারা আছে, সবাই আমরা আমরাই, সবাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের।" পরবর্তীতে পুরো বিষয়টা ক্লিয়ার করার জন্য সবার সামনে আসেন এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই আলাপ আলোচনা হচ্ছিলো।


হঠাৎ আমাদেরই একজন সমন্বয়ক ওমর ফারুক সাগর (বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন) এবং কয়েকজন মিলে ভিতরে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধা'ক্কাধা'ক্কি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি ঘো°লাটে হয়ে যায়। ২/৩ মিনিটের মধ্যেই সবাই অফিস থেকে বের হয়ে যায়। আমি নিজ চোখে দেখেছি, সেখানে একজনের হাতে ধ|র|লো অ`স্ত্র ছিলো। আমার কিছু সহযো'দ্ধা আমাকে সবার থেকে আলাদা করে নিয়ে এসে নিরাপদ জায়গায় রাখে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারি, নিচে ধা'ওয়া পাল্টা ধা'ওয়ার ঘ°টনা ঘ°টছে এবং অনেকের হাতেই ল|ঠিসো`টা এবং ধ|র|লো অ`স্ত্র ছিলো।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার বন্ধু আশিকুর রহমান (চবিতে আন্দোলন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলো এবং শেষদিকে তাকে গ্রে/ফতার করে ঢাকায় ক|র|গ|রে রাখা হয়) সেও আ'ঘা'তপ্রাপ্ত হয়। তাকে ম|রধর করা হয়। ফাতেমা লিজা নামের আরেক নারী সহযো'দ্ধা এবং আহত ভাইদেরকে আ ঘা ত করা হয়। এর মধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে আমি অবহিত করি এবং পুলিশের ভাইয়েরা আসে। পরবর্তীতে বিএনপির চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে আমার আরেক সহযো'দ্ধার মাধ্যমে কথা বলে জানতে পারি, একটা ভুল মেসেজ উনাদের নিকট পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা ফোন করে বলেছে যে এখানে ছাত্রলী'গ আছে এবং ঝা'মেলা করছে, আর ছাত্রদলের ভাইদেরকে ডাকা হয়েছিলো, হান্নান ভাইকে সেভ করে বের করার জন্য। কিন্তু সেখানে হান্নান ভাই যে ব্যানারের মূখ্য সংগঠক, সেখানে আমরাই ছিলাম। অতঃপর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পেটানো হলো, আমাদের বোনদের গায়ে হাত তোলা হলো। আবার ট্যাগও দেওয়া হলো।


ওখান থেকে বের হয়ে আমি সাথে সাথে হান্নান ভাইকে কল দিলাম এবং ভাইকে বললাম, বসে কথা বলে সমস্যাটা সমাধান করতে। কিন্তু ভাই বললেন, "উনি আপাতত বসবেন না।" এ ঘটনায় উপস্থিত থেকেও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন আমাদের আরেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল ভাই। আমি উনাকে কল দিলাম, কিন্তু কলে পাইনি। সাথে সাথেই হাসনাত ভাইকে কল দিলাম এবং ঢাকার আরও কয়েকজনের সাথে কথা বললাম। তারই মধ্যে আমার সাথে কোনোরকম আলাপ আলোচনা না করেই রাসেল ভাই সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন। হাসনাত ভাইয়ের সাথে দীর্ঘসময় আমার কথা হয় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে। পরবর্তীতে হান্নান ভাইকেও কলে যুক্ত করা হয়। কিন্তু হাসনাত ভাই অনেকবার কল দিলেও রাসেল ভাই কল রিসিভ করেননি। ততক্ষণে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়ে যায়, আমি একজন আ হ ত ভাইকে সাথে নিয়ে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে যাই। আমি সংবাদ সম্মেলনে বসার সাথে সাথেই তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে দেওয়া হয়। কিছু কিছু ভিডিও খেয়াল করলে দেখবেন আমার হাত থেকে বারবার মাইক কে'ড়ে নেওয়া হচ্ছিলো। কিন্তু সাংবাদিক ভাইয়েরা আমার বক্তব্য নিতে চাচ্ছিলেন। পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে, আমাকে বক্তব্য পর্যন্ত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিভিন্নভাবে আমাকে থ্রেট দেওয়া হচ্ছিলো এবং একজন আমার দিকে তেড়ে আসে ম|রতে। আমি জাস্ট দাঁড়িয়েছিলাম আর দেখছিলাম ঘটনাগুলো। যারা ওখানে ছিলো তাদের অধিকাংশকেই আমি চিনি না। হাতেগোনা ২/৪ জনের চেহারা চিনি।


আমি শুধু এটুকুই বলেছি, এই ঘটনার সাথে যে বা যারাই জ°ড়িত আছে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং শ|স্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষের লাইট বন্ধ হয়ে যায়, শুধুমাত্র সাংবাদিক ভাইদের ক্যামেরার লাইটগুলো জ্বলছিল। আমি সাংবাদিক ভাইদের বললাম, "যাইহোক, আপনারা ক্যামেরা এবং ক্যামেরার লাইটগুলো অফ কইরেন না।" সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতায় আমি স্থান ত্যাগ করি।


হাসিনার টাকা আমাদের কিনতে পারে নাই, হাসিনার বুলেট আমাদের দাবায়ে রাখতে পারে নাই। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগের ১% সত্যতাও পাওয়া যায়, আমি বাংলাদেশের আইনে যে শাস্তি আছে তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি। ইতোমধ্যে, 'দ্য ডেইলি বাংলাদেশ' মিথ্যা সংবাদ প্রচারণা করে আমার মানহানি করেছে। যদিও আমার কাছে কল দিয়ে ক্ষমা চেয়েছে, কিন্তু আমার যে মানহানি হয়েছে, সেটা কি ফিরে আসবে?


এখন পর্যন্ত যতগুলো অভিযোগ উঠেছে, একটারও কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ষ°ড়য°ন্ত্র চলমান। গতকাল দেখলাম মিডিয়াতে আমার নাম মেনশন করে এক ভাই অভিযোগ তুলে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়েছে। আমি পরিস্কারভাবে বলছি, যদি কেউ কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যাচার করে, তাহলে আমি আইনের সহযোগিতা নিতে বাধ্য হবো। রাফি যদি দোষী হয়, রাফির সাজা হতে হবে এবং রাফি দোষী না হলে তার বি°রুদ্ধে যারা মিথ্যাচার করছে, তাদেরকেও মানহানির দায়ে সাজা পেতে হবে।


এই পথে নতুন হওয়ার কারণে আমাদের অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সব ধরনের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করি। কিন্তু আমাদের এই ছোটখাটো সমন্বয়হীনতাকে পুঁজি করে, ছোটখাটো দুর্বলতা গুলোকে কাজে লাগিয়ে যদি অন্য কোন ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী অথবা কোনো ব্যক্তি নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যদি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা কে নষ্ট করতে চায়, আমাদের অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে যদি কেউ ধ্বংস করে দিতে দিতে চায়, ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চায়, বিভাজিত করতে চায়, অন্য কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। তাহলে সেই সুযোগ আমরা কাউকে দিবো না, তাদের এই চক্রান্তকে আমরা সফল হতে দিবো না।আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় থাকবে আমাদের জুলাইকে ধারণ করা, আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই থাকবে শহীদদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। 


"বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন" কারো ব্যক্তিগত ব্যানার নয়। এটা বাংলাদেশের মানুষের ব্যানার, বাংলাদেশের ছাত্র - জনতার ব্যানার, শহীদদের র'ক্তের ব্যানার, জুলাইয়ের ব্যানার, ১৬ বছরের স্বৈ'রাচারকে উৎখাত করে এদেশের মানুষকে মুক্তি দেওয়ার ব্যানার। এই ব্যানারকে বিতর্কিত করার কোনো রাইট কেউ রাখে না। এই ব্যানারে বীর চট্টলাবাসীর অবদান অনস্বীকার্য, জুলাইয়ের রাজপথ তার প্রমাণ। বীর চট্টলার র'ক্তে ভেজা রাজপথের এই ব্যানারকে রক্ষা করা চট্টলার প্রত্যেকটা মানুষের দায়িত্ব। 'বৈছাআ' কে ধ্বংস করার নানান অ`পচেষ্টা, ষ°ড়যন্ত্র প্রতিনিয়ত চলমান। আমরা যেন কোনো ষড়যন্ত্রে পা না দিই। 

এই ব্যানারকে কেউ কলুষিত করতে চাইলে আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে, সেটা যদি আমিও হই আমার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই ব্যানারের মান অক্ষুণ্ণ রাখবো ইনশাআল্লাহ। এবার হারলে আর দাঁড়ানোর সুযোগ নেই, আমাদের ফেরার সব পথ বন্ধ।  


ষড়য'ন্ত্র নিপাত যাক!

নোংরা রাজনীতি বন্ধ হোক!

যতদিন আমরা বেঁচে আছি , জুলুমের বিরুদ্ধে, ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকবো ইনশাআল্লাহ।


-খান তালাত মাহমুদ রাফি 

সহ সমন্বয়ক: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন 


ইনকিলাব 

জিন্দাবাদ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ