Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০২:২৮ অপরাহ্ণ

♻️??আমরা কোনো বস্তু কখন দেখতে পাই

আমরা কোনো বস্তু তখনই দেখতে পাই, যখন তার থেকে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্ক সেটি প্রসেস করে। তবে এটি বুঝতে আমাদের গড়ে ১৩ মিলিসেকেন্ড সময় লাগে। এর কম সময়ে প্রতিফলিত আলো চোখে থাকলে, আমরা সেটি স্পষ্টভাবে বুঝতে বা দেখতে পারি না। আমার নিচে দেওয়া ফ্যাক্ট এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করিনি। বরং আমরা যে আমাদের চারপাশ স্থির দেখি সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন ক্যামেরার সাথে আমাদের চোখের তুলনা দেই। ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও 

করলে সেটা অনেকটা কাঁপা-কাঁপি ভাবে উঠে। এবার আমরা আমাদের মাথা ঝাঁকুনি দিই। ঝাঁকুনি দিলে আমরা আমাদের চারপাশ কাঁপা-কাঁপি না দেখে স্থির দেখবো। কারণ ক্যামেরায় চারপাশের পরিবেশের কোনো গড় চিত্র ধারণ করা হয় নাই কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কে গড় চিত্র ধারন করে। বিষয়টি তারাই খুব সহজে বুঝবেন যারা ভিডিও এডিটিং এর সময় ভিডিও স্ট্যাবলাইজার ব্যবহার করেন।


মূল ফ্যাক্ট -


একদল গবেষক দাবি করেছেন আমরা চোখ দিয়ে যে জগৎ দেখি তা প্রকৃতপক্ষে ঠিক এই মুহূর্তের নয়। বরং এটি বিগত ১৫ সেকেন্ড আগের একটি গড় দৃশ্য। এই ভিজুয়াল প্রসেস এর ফলে আমরা আমাদের চারপাশকে স্থিতিশীল ও মসৃণভাবে দেখতে পারি।


আমরা চোখ দিয়ে যা দেখি, সেই আলোক সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছায় বিভিন্ন ফ্রেম বা মুহূর্ত হিসেবে। তবে, মস্তিষ্ক সরাসরি সেসব সংকেত প্রসেস করে না। বরং একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে। এটি বিগত ১৫ সেকেন্ডের বিভিন্ন ফ্রেম বা মুহূর্তের গড় চিত্র তৈরি করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। এই প্রক্রিয়ায় আমরা চারপাশকে ধারাবাহিক, মসৃণ ও স্থিতিশীল দেখি।


যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষকদের যৌথ এই গবেষণায় এই প্রক্রিয়াটিকে "সিরিয়াল ডিপেনডেন্স" নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহজ কথায়, আমাদের মস্তিষ্ক বর্তমান দৃশ্যের সঙ্গে অতীতের দৃশ্যের তুলনা করে। যখনই মিল পাওয়া যায় তখনই আমাদের চারপাশকে স্বাভাবিক এবং স্থির বলে মনে হয়।


ক্যামেরার উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। আপনি যদি মোবাইলে কোনো ভিডিও করেন, সেটি প্রায়ই কাঁপা-কাঁপা বা অস্পষ্ট ভাবে রেকর্ড হয়। যদিও আধুনিক ফোনগুলোতে "স্ট্যাবিলাইজার" প্রযুক্তি রয়েছে, তারপরও ভিডিও একেবারে স্ট্যাবিলাইজড ও মসৃণ হয় না। কিন্তু আপনি যখন একই দৃশ্য নিজের চোখে দেখেন, তা পুরোপুরি স্থির ও স্বাভাবিক মনে হয়। কারণ মস্তিষ্ক ক্যামেরার মতো ফ্রেমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে দেখায় না। বরং এটি প্রতিটি ফ্রেমকে একটি ধারাবাহিক চিত্রে গড়ে তোলে, যাতে সবকিছু স্থির ও মসৃণ মনে হয়।


ধরুন, আপনি রাস্তায় হাঁটছেন। আপনার চোখে গাড়ি বা মানুষের চলাফেরা স্থিতিশীল এবং স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কিন্তু যদি সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ভিডিও করেন, দেখবেন ভিডিওতে অনেক ঝাঁকুনি দেখা যাচ্ছে। কেন এমন হয়? কারণ, বাস্তবিক অর্থে আমাদের চোখ থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছানো প্রতিটি দৃশ্য খুবই খণ্ডিত এবং অসংলগ্ন। তবে মস্তিষ্ক সেই দৃশ্যগুলোকে প্রক্রিয়া করে একটি মসৃণ এবং ধারাবাহিক চিত্র তৈরি করে, যা আমরা বাস্তব বলে উপলব্ধি করি।


মস্তিষ্ক লাইভ কাজ করে না। এটি অতীতের ১৫ সেকেন্ডের তথ্যের গড় তৈরি করে এবং সেটিকে একটি সমন্বিত চিত্র হিসেবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। এটি ঠিক যেন কোনো পুরনো মুহূর্তের ওপর একটি ফিল্টার বসিয়ে বর্তমানকে মসৃণভাবে দেখার মতো। এই কারণেই আমরা আমাদের চারপাশকে ঝাঁকুনিমুক্ত, স্ট্যাবিলাইজড এবং স্বাভাবিক বলে মনে করি।


সত্যি বলতে, মস্তিষ্ক যদি তাৎক্ষণিক সবকিছু প্রসেস করত, তাহলে আমাদের পরিবেশ এতটা স্থিতিশীল মনে হতো না।

মন্তব্য করুন

ব্লগ