প্রধান শিক্ষক
১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
আজকের কোন গৃহিণীকে যদি সিন্ধু সভ্যতার রান্নাঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তাহলে বাসনপত্র নিয়ে তাঁর খুব একটা অসুবিধা কিছু হবেনা। হাজার হাজার বছরেও বাসনপত্রের আকার বা ব্যবহার তেমন কিছুই বদলায়নি। যা বদলেছে তা হল উপাদান। তখন বাসন মানেই পোড়ামাটির। তামার তৈরী Frying pan ইত্যাদি পেলেও মনে রাখতে হবে যে ধাতু ছিল দুর্মূল্য এবং আম জনতা তার দৈনন্দিন বস্তুতে খুব কমই ধাতু নির্মিত কিছুর ব্যবহার করতো। তাই রুটি বানাবার চাকলা বেলন থেকে হাঁড়ি, থালা বাটি সবই হতো মাটির। মাটির হলেও হরপ্পা firing এর একটা আলাদা ব্যাপার ছিল। ভাটার আগুনে এমন ভাবে সেই সুদক্ষ কুমোরের হাতে তৈরি মিহি দানার মাটির পাত্র পোড়ানো হতো যে আজও দুটি পাত্রের টুকরো পরস্পর আঘাত করলে ধাতুর ঘণ্টার মতো আওয়াজ হয়।
আজ দেখাবো হরিয়ানার বানাওআলি প্রত্নক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করা পোড়ামাটির একটি বাটি। কয়েক হাজার বছর পর এমন একটা নমুনা প্রায় আস্ত অবস্থায় পাওয়া খুবই দূর্লভ। একটু লক্ষ্য করে দেখবেন যে বাটির নিচে একটি সুন্দর খুরো দেওয়া আছে। J S Nigam এর তালিকা মতো এটি খ বা B শ্রেণীর পাত্র। ঘন লাল রঙের বাটিটার পাশে আজকের দিনের একটা সেরামিক বাটি রাখলাম। তার সঙ্গে সিন্ধু সভ্যতার বাটির তুলনা করলে মুখ হাঁ হয়ে যেতে হয়। আমাদের পূর্বপুরুষের দক্ষতা এমন ছিল যে চাক থেকে নামিয়ে খুরোটাকে আলাদা করে লাগিয়েছেন অথচ বাইরে থেকে তার কোন চিহ্ন নেই। বাটির ভিতরটা দেখলে আন্দাজ করা যায় যে কারিগর কীভাবে ভিতরে চাপ দিয়ে সেটিকে লাগিয়েছিলেন। একটি মেশিনে তৈরী ছাঁচের বাটি আর অপরটি পাঁচ হাজার বছর আগের আমাদের কারিগরের হাতে তৈরী পোড়ামাটির বাটি। আপনার ভোট কার দিকে?
তথ্যসূত্র: Nigam J S, Harappan pottery
১৮
২৯ মন্তব্য