Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

সফল ব্যক্তিদের ৯ অভ্যাস?

সফল ব্যক্তিদের ৯ অভ্যাস?

সফল ব্যক্তিরা অন্য আর দশজন মানুষের মতোই। তাদের ভিন্ন করে তোলে তাদের কিছু অভ্যাস। যে কেউ এই অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করে তিনি নিজেও হতে পারেন সফল। সফল ব্যক্তিদের ৯ অভ্যাস নিয়ে লিখেছেন এজাজ পারভেজ

?পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

সফল ব্যক্তিরা তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে নিঃসন্দেহ থাকেন। তারা যেকোনো কাজ করার আগে স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নেন। এর ফলে কাজে মনোযোগ নিবদ্ধ করা সহজ হয়। চিত্তবিক্ষেপ ঘটে না। আপনিও যদি সফল হতে চান, তাহলে যেকোনো কাজ শুরুর কাজে স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিন। কাজ ও সময়সীমা ভেদে লক্ষ্য নানা রকম হতে পারে। যেমন, দৈনন্দিন লক্ষ্য, মাসিক লক্ষ্য, বাৎসরিক লক্ষ্য

⏰অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সময় বণ্টন করুন

জীবন সময়ের সমষ্টি। আমরা সময়কে যেভাবে কাজে লাগায় আমাদের জীবন তেমন হয়ে ওঠে। সময়ের সদ্ব্যবহার তাই সফল হওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। প্যারেটো তত্ত্বানুসারে, আমাদের জীবনের শতকরা ৮০ ভাগ সফলতা নির্ভর করে শতকরা ২০ ভাগ চেষ্টার ওপর। অর্থাৎ এমন কিছু বিষয় আছে যে বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিলে আমাদের জীবন অনেকাংশে সফলতার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে। এই ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। যেমন, পড়াশোনা, পরিবারকে সময় দেওয়া, পেশাগত দায়িত্বপালন প্রভৃতি ব্যাপারে কোনো কোনো আপস করা যাবে না। 

⌛শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনে অভ্যস্ত হন

সফল ব্যক্তিরা হুট করে কোনো কাজ করেন না। তাদের জীবন পরিকল্পিত। নিজেকে তারা একটি নিয়মে আবদ্ধ করেছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে মসৃণ। এই রুটিন ও নিয়ম তাদের প্রয়োজনীয় কাজটি করার পর্যাপ্ত সময় ও শক্তির উৎস। যারা আত্মশৃঙ্খলাকে পরাধীনতা মনে করে, তারা জীবনে সফল হতে পারে না।

☃️গোছালো হন

বলা হয়ে থাকে, পরিকল্পনা হলো যেকোনো কাজের অর্ধেক। তাই কোনো কাজ শুরু করার আগে পরিকল্পনা করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরঞ্জামাদি গুছিয়ে রাখুন। এর ফলে মনোযোগের ব্যত্যয় ঘটবে না। অল্পতে হাঁপিয়ে পড়বেন না। ঘুম থেকে ওঠার পরে বিছানা গোছান, ফিল্টার থেকে পানি পাত্রে ভরার পরে ফিল্টারে আবার পানি ভরুন। বাইরে থেকে এসে জুতা, মোজা, বেল্ট, ম্যানিব্যাগ, চাবি প্রভৃতি যেখানে সেখানে না ফেলে জায়গা মতো রাখুন। এই গোছালো স্বভাব আপনার অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে।

✒️শেখার কোনো শেষ নেই

‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র’। কবি ঠিকই বলেছেন, শেখার কোনো শেষ নেই। যে কারও কাছ থেকে, যে কোনো বয়সে শেখা যায়। তাছাড়া পৃথিবী প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে খেয়াল রাখতে হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিতে নতুন কী কী যোগ হচ্ছে।

?ইতিবাচক সঙ্গে বাঁচুন

ইতিবাচক সঙ্গ আপনাকে আশা জোগায়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। যারা আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন তাদের কথা ও কাজে হতোদ্যম হয়ে পড়বেন। তাই তাদের সঙ্গ পরিহার করুন। যারা আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে উৎসাহ জোগায়, নানাভাবে সাহায্য করে তাদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন

?কৃতজ্ঞ হন

যা আমরা অর্জন করতে চায় সেদিকে বেশি লক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রায়শই আমরা ভুলে যাই আমাদের কী কী আছে। আমাদের শক্তি সম্পর্কে আমরা সচেতন থাকি না। ফলে আমাদের চারপাশে থাকা বহু সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ থাকলে ব্যবহার করতে পারি না। অথচ এই সম্পদ ব্যবহার করলে লক্ষ্য অর্জনের যাত্রা অনেক মসৃণ হতে পারত। এই চোরাবালি থেকে মুক্তি পেতে নজর ফেরাতে হবে নিজের দিকে। ভেবে দেখতে হবে কী কী আমাদের আছে। এবং তার জন্য কৃতজ্ঞতা পোষণ করতে হবে।

?ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে নিন

ব্যর্থ হলে মুচড়ে পড়বেন না। একে শেখার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করুন। এডিসন বৈদ্যুতিক বাতির টেকসই ফিলামেন্ট আবিষ্কারের জন্য ১০ হাজারবার পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আমি ১০ হাজারবার ব্যর্থ হয়নি। বরং আমি জেনেছি, ওই ১০ হাজার প্রকারের উপকরণ দ্বারা টেকসই ফিলামেন্ট তৈরি সম্ভব নয়। এডিসনের মতো আপনিও ব্যর্থতাকে শেষ হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন।

?কল্পনা নয়, কাজ

অনেকেই আকাশ-কুসুম কল্পনা করে সময় নষ্ট করে। পরিকল্পনা আর সফলতার মাঝে যে ধাপটি থাকে তা হলো, কাজ। পরিকল্পনার শেষ যেখানে কাজের শুরু সেখানে। কাজবিহীন পরিকল্পনা শুধু কল্পনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই, ব্যর্থতার ভয় না করে কাজে নেমে পড়ুন। কাজই আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন