প্রভাষক
১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:৪২ অপরাহ্ণ
???ইউনিকর্ন হচ্ছে একশিং ওয়ালা পৌরাণিক ঘোড়া
ইউনিকর্ন হচ্ছে একশিং ওয়ালা পৌরাণিক ঘোড়া। কিন্তু মাহিঞ্জো দারুর শৈল্পিক কারুকার্যে পাওয়া সিলের ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে তার আকৃতি আসলে ঘোড়ার মত না। লেজ, শরীরের আকৃতি, উপখুর, জননাঙ্গের অবস্থান সবই ষাঁড়ের(গরুর) সাথেই বেশি মিলে। মজার কথা হচ্ছে আরক্স (Aurochs) বা ???? ??????????? নামের এক বিলুপ্ত গরুর প্রজাতির তথ্য পাওয়া যায় যা আরও চার হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে উপমহাদেশ থেকে। ফসিল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এটা সিন্ধু সভ্যতার ঐ ইউনিকর্ন সিলের প্রাণীর আকারের সাথে মিলে যায়। অর্থাৎ ঐ সময় এই প্রজাতির গরুটির অস্তিত্ত্ব ছিল। মাহিঞ্জো দারুর প্রাণীটির শিং আসলে একটি নয় বরং দুইটি, কিন্তু একপাশ থেকে দেখে একটি আঁকা হয়েছে বলে একটি মনে হচ্ছে। সামনের দিকে কিছুটা বাঁকানো শিংয়ের গরুর একটা প্রজাতি এই অঞ্চলে কিন্তু এখনো আছে, যাকে বলে চিটাগাং বাইসন বা চাঁটগাঁইয়া গয়াল। চিটাগাং বাইসন বা গয়াল প্রাচীন চট্টগ্রাম অঞ্চলের জংলি গরু। এটার বৈশিষ্ট্যের সাথেও খানিকটা মিল আছে ঐ সিন্ধু সিলে উৎকীর্ণ গরু বা ইউনিকর্নের। আমরা হয়তো অনেকেই রেড চিটাগং গরুর কথা জানিনা, জানিনা চিটাগং গন্ডারের কথা , জানিনা চিটাগং বাইসন বা গয়ালের কথা, জানিনা গ্রে চিটাগং কোক্রেল ব্রাহ্মি জাতের মুরগির কথা। এসকল কিছুই চট্টগ্রামের সম্পদ, এগুলোই আমাদের নিজস্বতা ও স্বকীয়তার প্রতীক। অথচ আমরা কয় জনে জানি আমাদের এই সম্পদের কথা!! Chittagong WildLife নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার বেশি বেশি, যাতে প্রজন্ম জানে তাদের চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও সব দিক থেকেই তাদের ধারণার চাইতে কতটা সম্মৃদ্ধ!!
৩
৩ মন্তব্য