Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

সেদিন ধ্বংস অস্বীকারকারীদের জন্য…তারপর নিশ্চয় তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। অবশ্যই পুণ্যবানদের ‘আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে,

সেদিন ধ্বংস অস্বীকারকারীদের জন্য…তারপর নিশ্চয় তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। অবশ্যই পুণ্যবানদের ‘আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে,

সূরাঃ আল-মুতাফফিফীন আয়াতঃ১০-২০ মাক্কী

১০ وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُكَذِّبِیۡنَ

সেদিন ধ্বংস অস্বীকারকারীদের জন্য । আল-বায়ান

সেদিন দুর্ভোগ হবে অস্বীকারকারীদের, তাইসিরুল

সেদিন মন্দ পরিণাম হবে মিথ্যাচারীদের – মুজিবুর রহমান

Woe, that Day, to the deniers, Sahih International

১০. সেদিন দুর্ভোগ হবে মিথ্যারোপকারীদের,

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। সেদিন দুর্ভোগ হবে মিথ্যাচারীদের।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

83. আল-মুতাফফিফীন

১১ الَّذِیۡنَ یُكَذِّبُوۡنَ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ

যারা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে। আল-বায়ান

যারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে। তাইসিরুল

যারা কর্মফল দিনকে অস্বীকার করে, মুজিবুর রহমান

Who deny the Day of Recompense. Sahih International

১১. যারা প্রতিদান দিবসে মিথ্যারোপ করে,

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। যারা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা মনে করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১২ وَ مَا یُكَذِّبُ بِهٖۤ اِلَّا كُلُّ مُعۡتَدٍ اَثِیۡمٍ

আর সকল সীমালঙ্ঘনকারী পাপাচারী ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করে না। আল-বায়ান

কেবল সীমালঙ্ঘনকারী, পাপাচারী ছাড়া কেউই তা অস্বীকার করে না। তাইসিরুল

আর সীমা লংঘনকারী মহাপাপী ব্যতীত কেহই ওকে মিথ্যা বলতে পারেনা। মুজিবুর রহমান

And none deny it except every sinful transgressor. Sahih International

১২. আর শুধু প্ৰত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারীই এতে মিথ্যারোপ করে;

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। আর সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠ ব্যতীত কেউই ওকে মিথ্যা মনে করে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৩ اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡهِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ

যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, ‘পূর্ববর্তীদের রূপকথা।’ আল-বায়ান

তার সামনে যখন আমার আয়াত পড়ে শোনানো হয়, তখন সে বলে, ‘এ তো প্রাচীন কালের লোকেদের কাহিনী’’। তাইসিরুল

তার নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলেঃ এটাতো পূরাকালীন কাহিনী। মুজিবুর রহমান

When Our verses are recited to him, he says, "Legends of the former peoples." Sahih International

১৩. যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, পূর্ববর্তীদের উপকথা।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। তার নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলে, এটা তো পূর্বকালীন উপকথা! [1]

[1] অর্থাৎ, তাদের পাপকর্মে অবিচলতা ও সীমালংঘন এত বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে যে, আল্লাহর আয়াত শুনে তার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার পরিবর্তে তাকে ‘পূর্বযুগের উপকথা’ বলে থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৪ كَلَّا بَلۡ ٜ رَانَ عَلٰی قُلُوۡبِهِمۡ مَّا كَانُوۡا یَكۡسِبُوۡنَ

কখনো নয়, বরং তারা যা অর্জন করত তা-ই তাদের অন্তরসমূহকে ঢেকে দিয়েছে। আল-বায়ান

কক্ষনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে। তাইসিরুল

না, এটা সত্য নয়, বরং তাদের কৃতকর্মের ফলেই তাদের মনের উপর মরিচা জমে গেছে। মুজিবুর রহমান

No! Rather, the stain has covered their hearts of that which they were earning. Sahih International

১৪. কখনো নয়; বরং তারা যা অর্জন করেছে তা-ই তাদের হৃদয়ে জঙ ধরিয়েছে।(১)

(১) ران শব্দটি رين থেকে উদ্ভূত। অর্থ প্রাধান্য বিস্তার করা। [কুরতুবী] ঢেকে ফেলা। [তাতিম্মাতু আদওয়াইল বায়ান] যাজ্জাজ বলেন, মরিচা ও ময়লা। [কুরতুবী] অর্থাৎ শাস্তি ও পুরস্কারকে গল্প বা উপকথা গণ্য করার কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই। কিন্তু যে কারণে তারা একে গল্প বলছে তা হচ্ছে এই যে, এরা যেসব গোনাহে লিপ্ত রয়েছে তাদের অন্তরে মরিচা ধরেছে। মরিচা যেমন লোহাকে খেয়ে মাটিতে পরিণত করে দেয়, তেমনি তাদের পাপের মরিচা তাদের অন্তরের যোগ্যতা নিঃশেষ করে দিয়েছে। ফলে তারা ভাল ও মন্দের পার্থক্য বোঝে না। ফলে পুরোপুরি যুক্তিসংগত কথাও এদের কাছে গল্প বলে মন হচ্ছে। [ইবন কাসীর] এই জঙ্‌ ও মরীচার ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন কোন গোনাহ করে, তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। সে তওবা করলে দাগটি উঠে যায়। কিন্তু যদি সে গোনাহ করে যেতেই থাকে তাহলে সমগ্র দিলের ওপর তা ছেয়ে যায়। [তিরমিযী: ৩৩৩৪ ইবনে মজাহঃ ৪২৪৪]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। না এটা সত্য নয়; [1] বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়ে দিয়েছে। [2]

[1] অর্থাৎ, এই কুরআন কোন কেচ্ছা-কাহিনী নয়; যেমন কাফেররা বলে থাকে। বরং এটা হল আল্লাহর বাণী এবং তাঁর প্রত্যাদেশ যা তদীয় রসূল (সাঃ)-এর উপর জিবরীল (আঃ) মারফৎ অবতীর্ণ করা হয়েছে।

[2] অর্থাৎ, তারা এই কুরআন এবং আল্লাহর অহীর প্রতি ঈমান এই জন্য আনে না যে, গোনাহ করার দরুন তাদের অন্তরে পর্দা পড়ে গেছে এবং জং ধরে গেছে। رين গোনাহর সেই কালিমাকে বলা হয়, যা একাধারে পাপাচরণ করার কারণে অন্তরে ছেয়ে যায়। হাদীসে এসেছে যে, বান্দাহ যখন পাপ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো বিন্দু পড়ে যায়। যদি সে পাপ থেকে তওবা করে, তাহলে সেই কালো বিন্দু পরিষ্কার হয়ে যায়। আর তওবার পরিবর্তে যদি পাপের পর পাপ করেই যায়, তাহলে সেই কালো বিন্দুটি আরো বৃহৎ আকার ধারণ করে। এমনকি তা তার গোটা অন্তরে ছেয়ে যায়। এটাই হল সেই ‘রাইন’ যার কথা কুরআন মাজীদে এসেছে। (তিরমিযী সূরা মুতাফফিফীনের তফসীর পরিচ্ছেদ, ইবনে মাজাহ যুহদ অধ্যায় গোনাহ প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ, মুসনাদে আহমাদ ২/২৯৪ )

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৫ كَلَّاۤ اِنَّهُمۡ عَنۡ رَّبِّهِمۡ یَوۡمَئِذٍ لَّمَحۡجُوۡبُوۡنَ

কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে। আল-বায়ান

কক্ষনো না, তারা সেদিন তাদের প্রতিপালক থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে। তাইসিরুল

না, অবশ্যই সেদিন তারা তাদের রবের সাক্ষাত হতে অন্তরীণ থাকবে; মুজিবুর রহমান

No! Indeed, from their Lord, that Day, they will be partitioned. Sahih International

১৫. কখনো নয়; নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব হতে অন্তরিত থাকবে(১);

(১) অর্থাৎ কেয়ামতের দিন এই কাফেররা তাদের রবের দীদার বা দর্শন ও যেয়ারত থেকে বঞ্চিত থাকবে এবং পর্দার আড়ালে অবস্থান করবে। এই আয়াত থেকে জানা যায় যে, সেদিন মুমিনগণ আল্লাহ্ তা'আলার দীদার ও যেয়ারত লাভে ধন্য হবে। নতুবা কাফেরদেরকে পর্দার অন্তরালে রাখার কোন উপকারিতা নেই। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। কক্ষনো না, অবশ্যই তারা সেদিন তাদের প্রতিপালক (দর্শন) থেকে পর্দাবৃত থাকবে। [1]

[1] আর এর বিপরীত ঈমানদারগণ আল্লাহর দর্শন লাভ করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:১৬ ثُمَّ اِنَّهُمۡ لَصَالُوا الۡجَحِیۡمِ

তারপর নিশ্চয় তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। আল-বায়ান

অতঃপর তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তাইসিরুল

অনন্তর নিশ্চয়ই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে; মুজিবুর রহমান

Then indeed, they will [enter and] burn in Hellfire. Sahih International

১৬. তারপর নিশ্চয় তারা জাহান্নামে দগ্ধ হবে;

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা জাহীম (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে;

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৭ ثُمَّ یُقَالُ هٰذَا الَّذِیۡ كُنۡتُمۡ بِهٖ تُكَذِّبُوۡنَ

তারপর বলা হবে, এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে। আল-বায়ান

অতঃপর বলা হবে ‘এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে।’ তাইসিরুল

অতঃপর বলা হবেঃ এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে। মুজিবুর রহমান

Then it will be said [to them], "This is what you used to deny." Sahih International

১৭. তারপর বলা হবে, এটাই তা যাতে তোমরা মিথ্যারোপ করতে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। তারপর বলা হবে, এটাই তা, যা তোমরা মিথ্যাজ্ঞান করতে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৮ كَلَّاۤ اِنَّ كِتٰبَ الۡاَبۡرَارِ لَفِیۡ عِلِّیِّیۡنَ

কখনো নয়, নিশ্চয় নেককার লোকদের আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যীনে ।* আল-বায়ান

(ভাল-মন্দের বিচার হবে না, শাস্তি-পুরস্কার কিছুই হবে না তা) কক্ষনো না, নিশ্চয়ই সৎলোকদের ‘আমালমানা ‘ইল্লিয়ীনে (সংরক্ষিত) আছে। তাইসিরুল

অবশ্যই পুণ্যবানদের ‘আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে, মুজিবুর রহমান

No! Indeed, the record of the righteous is in 'illiyyun. Sahih International

*আমল নামা। অথবা সপ্তম আকাশে জান্নাতের নিচে অবস্থিত একটি স্থান। অথবা জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থান।

১৮. কখনো নয়, নিশ্চয় পূণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে(১),

(১) কারও কারও মতে عِلِّيِّينَ শব্দটি علوّ এর বহুবচন। উদ্দেশ্য উচ্চতা। [ইবন কাসীর] আবার কেউ কেউ বলেন, এটা জায়গার নাম- বহুবচন নয়। [কুরতুবী; ইবন কাসীর] বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে এসেছে যে, ফেরশেতাগণ রূহ নিয়ে উঠতেই থাকবেন حَتّٰى يُنْتَهٰى بِهِ إِلَى السَّمَاءَ السَّابِعَةِ فَيَقُوْلُ اللهُ عزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ “শেষ পর্যন্ত সপ্তম আসমানে উঠবেন তখন মহান আল্লাহ বলবেন, আমার বান্দার কিতাব ইল্লিয়্যীনে লিখে নাও।” [মুসনাদে আহমাদ: ৪/২৮৭]। এ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ইল্লিয়্যীন সপ্তম আকাশে আরশের কাছে এক স্থানের নাম। এতে মুমিনদের রূহ ও আমলনামা রাখা হয়। [ইবন কাসীর ইবন আব্বাস থেকে]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে। [1]

[1] عليين (ইল্লিয়্যীন) শব্দটি علو থেকে এসেছে (যার অর্থ মহা উচ্চ), এটা হল ‘সিজ্জীন’ শব্দের বিপরীত। এটা আসমানে অথবা জান্নাতে কিংবা সিদরাতুল মুন্তাহায় কিংবা আরশের নিকটবর্তী এক স্থান। যেখানে নেক লোকদের আত্মা এবং তাদের আমল-নামা সংরক্ষিত আছে। যার নিকটে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা উপস্থিত হন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৯ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا عِلِّیُّوۡنَ

কিসে তোমাকে জানাবে ‘ইল্লিয়্যীন’ কী? আল-বায়ান

তুমি কি জান ইল্লিয়ীন কী? তাইসিরুল

ইল্লিয়্যীন কি তা কি তুমি জান? মুজিবুর রহমান

And what can make you know what is 'illiyyun? Sahih International

১৯. আর কিসে আপনাকে জানাবে ইল্লিয়্যীন কী?

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। কিসে তোমাকে জানাল, ইল্লিয়্যীন কি?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:২০ كِتٰبٌ مَّرۡقُوۡمٌ

লিখিত কিতাব। আল-বায়ান

সীলমোহরকৃত কিতাব। তাইসিরুল

(তা হচ্ছে) লিখিত পুস্তক। মুজিবুর রহমান

It is [their destination recorded in] a register inscribed Sahih International

২০. চিহ্নিত আমলনামা।(১)

(১) এখানেও এটাই সঠিক যে, এটা ‘ইল্লীয়্যীন’ এর কোন বিশেষণ নয়, বরং পূর্বে উল্লেখিত (كِتَابَ الْأَبْرَارِ) এর বিশেষণ। [দেখুন: কুরতুবী; ইবন কাসীর] এর প্রমাণ উপরোক্ত বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, فَيَقُوْلُ اللهُ عزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ “অতঃপর মহান আল্লাহ্ বলবেন, আমার বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিখে রাখ”। সুতরাং ইল্লিয়্যীন কিতাব নয় বরং আমলনামা বা কিতাব কপি করে রাখার স্থান।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০ (তা হচ্ছে) লিপিবদ্ধ পুস্তক।

মন্তব্য করুন

ব্লগ