Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ

নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। তুমি তাদের চেহারাসমূহে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের লাবণ্যতা দেখতে পাবে.. হবে।


নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। তুমি তাদের চেহারাসমূহে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের লাবণ্যতা দেখতে পাবে..তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় থেকে পান করানো হবে।

সূরাঃ আল-মুতাফফিফীন আয়াতঃ ১৯-৩০মাক্কী

:১৯ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا عِلِّیُّوۡنَ

কিসে তোমাকে জানাবে ‘ইল্লিয়্যীন’ কী? আল-বায়ান

তুমি কি জান ইল্লিয়ীন কী? তাইসিরুল

ইল্লিয়্যীন কি তা কি তুমি জান? মুজিবুর রহমান

And what can make you know what is 'illiyyun? Sahih International

১৯. আর কিসে আপনাকে জানাবে ইল্লিয়্যীন কী?

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। কিসে তোমাকে জানাল, ইল্লিয়্যীন কি?

:২০ كِتٰبٌ مَّرۡقُوۡمٌ

লিখিত কিতাব। আল-বায়ান

সীলমোহরকৃত কিতাব। তাইসিরুল

(তা হচ্ছে) লিখিত পুস্তক। মুজিবুর রহমান

It is [their destination recorded in] a register inscribed Sahih International

২০. চিহ্নিত আমলনামা।(১)

(১) এখানেও এটাই সঠিক যে, এটা ‘ইল্লীয়্যীন’ এর কোন বিশেষণ নয়, বরং পূর্বে উল্লেখিত (كِتَابَ الْأَبْرَارِ) এর বিশেষণ। [দেখুন: কুরতুবী; ইবন কাসীর] এর প্রমাণ উপরোক্ত বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, فَيَقُوْلُ اللهُ عزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ “অতঃপর মহান আল্লাহ্ বলবেন, আমার বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিখে রাখ”। সুতরাং ইল্লিয়্যীন কিতাব নয় বরং আমলনামা বা কিতাব কপি করে রাখার স্থান।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০ (তা হচ্ছে) লিপিবদ্ধ পুস্তক।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

83. আল-মুতাফফিফীন

৮৩:২১ یَّشۡهَدُهُ الۡمُقَرَّبُوۡنَ

নৈকট্যপ্রাপ্তরাই তা অবলোকন করে। আল-বায়ান

আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত (ফেরেশতারা) তার তত্ত্বাবধান করে। তাইসিরুল

আল্লাহর সান্নিধ্য প্রাপ্তরা ওটা প্রত্যক্ষ করবে। মুজিবুর রহমান

Which is witnessed by those brought near [to Allah]. Sahih International

২১. (আল্লাহর) সান্নিধ্যপ্রাপ্তরাই তা অবলোকন করে।(১)

(১) يشهد শব্দটি شهود থেকে উদ্ভূত। شهود এর এক অর্থ প্রত্যক্ষ করা, তত্ত্বাবধান করা। তখন আয়াতের উদ্দেশ্য হবে এই যে, সৎকর্মশীলদের আমলনামার প্রতি আসমানের নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ দেখবে অর্থাৎ তত্ত্বাবধান ও হেফাযত করবে। [ইবন কাসীর] তাছাড়া شهود এর আরেক অর্থ উপস্থিত হওয়া। [উসাইমীন, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম]। তখন يشهده এর সর্বনাম দ্বারা ইল্লিয়্যীন বোঝানো হবে। আর এর অর্থ হবে, প্রতি আসমানের নৈকট্যপ্রাপ্তগণ সেখানে হাজির হবেন এবং সেটাকে হেফাযত করবেন; কেননা এটা নেক আমলকারীর জন্য জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা পত্র এবং জান্নাতে যাওয়ার সফলতার গ্যারান্টি। [আইসারুত তাফসীর]

এটা ঐ সময়ই হবে, যখন ইল্লিয়্যীন দ্বারা আমলনামা বোঝানো হবে। আর যদি ইল্লিয়্যীন দ্বারা নৈকট্যপ্রাপ্তদের রূহের স্থান ধরা হয়, তখন আয়াতের অর্থ হবে, নৈকট্যশীলগণের রূহ এই ইল্লিয়্যীন নামক স্থানে উপস্থিত হবে। সে হিসেবে ইল্লিয়্যীন ঈমানদারদের রুহের আবাসস্থল; যেমন সিজ্জীন কাফেরদের রূহের আবাসস্থল। এর স্বপক্ষে একটি হাদীস থেকে ধারণা পাওয়া যায়, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বৰ্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “শহীদগণের রূহ আল্লাহর সান্নিধ্যে সবুজ পাখিদের মধ্যে থাকবে এবং জান্নাতের বাগ-বাগিচা ও নহরসমূহে ভ্রমণ করবে। তাদের বাসস্থানে আরশের নিচে ঝুলন্ত প্ৰদীপ থাকবে।” [মুসলিম: ১৮৮৭]

এ থেকে বোঝা গেল যে, শহীদগণের রূহ আরশের নিচে থাকবে এবং জান্নাতে ভ্ৰমণ করতে পারবে। তাছাড়া পবিত্র কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, (عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ) এ থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, জান্নাত সিদরাতুল মুনতাহার সন্নিকটে। সিদরাতুল মুনতাহা যে সপ্তম আকাশে, এ কথা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই আত্মার স্থান ইল্লিয়্যীন জান্নাতের সংলগ্ন এবং আত্মাসমূহ জান্নাতের বাগিচায় ভ্ৰমণ করে। অতএব, আত্মার স্থান জান্নাতও বলা যায়। তাই কোন কোন মুফাস্‌সির ইল্লিয়্যীন এর ব্যাখ্যা করেছেন জান্নাত। [সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

২১। আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত (ফিরিশতা)গণ তা প্রত্যক্ষ করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২২ اِنَّ الۡاَبۡرَارَ لَفِیۡ نَعِیۡمٍ

নিশ্চয় নেককাররাই থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে। আল-বায়ান

পুণ্যবান লোকেরা থাকবে অফুরন্ত নি‘মাতের মাঝে। তাইসিরুল

সৎ আমলকারীতো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে। মুজিবুর রহমান

Indeed, the righteous will be in pleasure Sahih International

২২. নিশ্চয় পুণ্যবানগণ থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে,

তাফসীরে জাকারিয়া

২২। পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৩ عَلَی الۡاَرَآئِكِ یَنۡظُرُوۡنَ

সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। আল-বায়ান

উচ্চ আসনে বসে তারা (চারদিকের সবকিছু) দেখতে থাকবে। তাইসিরুল

তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করবে। মুজিবুর রহমান

On adorned couches, observing. Sahih International

২৩. সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৩। তারা সুসজ্জিত আসনে বসে দেখতে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৪ تَعۡرِفُ فِیۡ وُجُوۡهِهِمۡ نَضۡرَۃَ النَّعِیۡمِ

তুমি তাদের চেহারাসমূহে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের লাবণ্যতা দেখতে পাবে। আল-বায়ান

তুমি তাদের মুখে আরাম আয়েশের উজ্জ্বলতা দেখতে পাবে। তাইসিরুল

তুমি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবে, মুজিবুর রহমান

You will recognize in their faces the radiance of pleasure. Sahih International

২৪. আপনি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবেন,

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪। তুমি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবে। [1]

[1] যেমন দুনিয়ার ধনবান সুখী ব্যক্তিদের মুখমন্ডলে সাধারণতঃ খুশীর আভা ও সজীবতা প্রকাশ পায়; যা তাদের আরাম, আয়েশ এবং পার্থিব সম্পদ লাভের কারণে হয়ে থাকে এবং যা তাদের মাল-ধনের আধিক্যের ফলেই অর্জন হয়। অনুরূপ জান্নাতে জান্নাতীদের জন্য সম্মান, মর্যাদা এবং নানা প্রকার সুখ-সম্পদের যে আধিক্য হবে তার কারণে তাদের মুখমন্ডলেও তা প্রকাশ পাবে। তাদেরকে তাদের রূপ-সৌন্দর্য, লাবণ্য এবং ঔজ্জ্বল্যে চেনা যাবে যে, তারা জান্নাতী ব্যক্তি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৫ یُسۡقَوۡنَ مِنۡ رَّحِیۡقٍ مَّخۡتُوۡمٍ

তাদেরকে সীলমোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় থেকে পান করানো হবে। আল-বায়ান

তাদেরকে পান করানো হবে সীল-আঁটা উৎকৃষ্ট পানীয়। তাইসিরুল

তাদেরকে মোহরযুক্ত বিশুদ্ধ মদিরা হতে পান করানো হবে, মুজিবুর রহমান

They will be given to drink [pure] wine [which was] sealed. Sahih International

২৫. তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হতে পান করানো হবে;

তাফসীরে জাকারিয়া

২৫। তাদেরকে মোহর আঁটা বিশুদ্ধ মদিরা হতে পান করানো হবে।[1]

[1] رحيق (রাহীক) পরিস্কার, নির্মল ও বিশুদ্ধ শারাবকে বলা হয়; যাতে কোন প্রকার ভেজাল মিশ্রিত থাকবে না। مختوم (মাখতূম) ‘মোহরাঙ্কিত’ বলে তার বিশুদ্ধতাকে আরো স্পষ্ট করে বয়ান করা হয়েছে। অনেকের নিকট মাখতূমের অর্থ হল মিশ্রিত। অর্থাৎ, শারাবে কস্তুরী মিশানো থাকবে। যার কারণে তার স্বাদে ও গন্ধে অতিরিক্ত উৎকৃষ্টতা ও আমেজ বৃদ্ধি পাবে। কেউ কেউ বলেন, এটি ‘খতম’ শব্দ হতে এসেছে। অর্থাৎ, তার শেষ ঢোকটি হবে কস্তুরীর সুগন্ধিযুক্ত। কিছু ব্যাখ্যাতা ‘খিতাম’-এর অর্থ সুগন্ধি করেছেন। অর্থাৎ, এমন শারাব যার সুগন্ধি হবে কস্তুরীর মত। (ইবনে কাসীর) হাদীসেও ‘আর-রাহীক্বুল মাখতূম’ শব্দ এসেছে। নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে মু’মিন ব্যক্তি কোন পিপাসিত মু’মিনকে (দুনিয়াতে) এক ঢোক পানি পান করাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ‘আর-রাহীক্বুল মাখতূম’ (মোহরাঙ্কিত বিশুদ্ধ শারাব) পান করাবেন। যে কোন ক্ষুধার্ত মু’মিনকে খাবার খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল-মূল খাওয়াবেন। যে ব্যক্তি কোন বিবস্ত্র মু’মিনকে বস্ত্র পরিধান করাবে, তাকে আল্লাহ জান্নাতের সবুজ বস্ত্র পরিধান করাবেন। (মুসনাদে আহমাদ ৩/ ১৩-১৪) (হাদীসটি যয়ীফ-সম্পাদক)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৬ خِتٰمُهٗ مِسۡكٌ ؕ وَ فِیۡ ذٰلِكَ فَلۡیَتَنَافَسِ الۡمُتَنَافِسُوۡنَ

তার মোহর হবে মিসক। আর প্রতিযোগিতাকারীদের উচিৎ এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা। আল-বায়ান

তার সীল হবে মিশকের, প্রতিযোগীরা এ বিষয়েই প্রতিযোগিতা করুক। তাইসিরুল

ওর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর থাকে যদি কারও কোন আকাংখা বা কামনা, তাহলে তারা এরই কামনা করুক। মুজিবুর রহমান

The last of it is musk. So for this let the competitors compete. Sahih International

২৬. যার মোহর হবে মিসকের(১), আর এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্ৰতিযোগিতা করুক।(২)

(১) মূলে “খিতামুহু মিস্‌ক” বলা হয়েছে। এর একটি অর্থ হচ্ছে, যেসব পাত্রে এই শরাব রাখা হবে তার ওপর মাটি বা মোমের পরিবর্তে মিশকের মোহর লাগানো থাকবে। এ অর্থের দিক দিয়ে আয়াতের অর্থ হয়; এটি হবে উন্নত পৰ্যায়ের পরিচ্ছন্ন শরাব। এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে: এই শরাব যখন পানকারীদের গলা থেকে নামবে তখন শেষের দিকে তারা মিশকের খুশবু পাবে। [ফাতহুল কাদীর] এই অবস্থাটি দুনিয়ার শরাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে শরাবের বোতল খোলার সাথে সাথেই একটি বোটকা গন্ধ নাকে লাগে। পান করার সময়ও এর দুৰ্গন্ধ অনুভূত হতে থাকে এবং গলা দিয়ে নামবার সময় মস্তিষ্কের অভ্যন্তরেও পচা গন্ধ পৌছে যায়। এর ফলে শরাবীর চেহারায় বিস্বাদের একটা ভাব জেগে ওঠে।

(২) কোন বিশেষ পছন্দনীয় জিনিস অর্জন করার জন্যে কয়েকজনের ধাবিত হওয়া ও দৌড়া, যাতে অপরের আগে সে তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এর নাম تنافس এখানে জন্নাতের নেয়ামতরাজি উল্লেখ করার পর আল্লাহ্ তা'আলা গাফেল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, আজ তোমরা যেসব বস্তুকে প্রিয় ও কাম্য মনে করে সেগুলো অর্জন করার জন্যে অগ্ৰে চলে যাওয়ার চেষ্টায় রত আছ, সেগুলো অসম্পূর্ণ ও ধ্বংসশীল নেয়ামত। এসব নেয়ামত প্রতিযোগিতার যোগ্য নয়। এসব ক্ষণস্থায়ী সুখের সামগ্ৰী হাতছাড়া হয়ে গেলেও তেমন দুঃখের কারণ নয়। হ্যাঁ, জান্নাতের নেয়ামতরাজির জন্যই প্রতিযোগিতা করা উচিত। এগুলো সব দিক দিয়ে সম্পূর্ণ চিরস্থায়ী।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬। এর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর তা লাভের জন্যই প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক। [1]

[1] অর্থাৎ, আমলকারীদেরকে এমন আমলে প্রতিযোগিতা করা উচিত, যার দ্বারা জান্নাত এবং তার নিয়ামত লাভ হয়। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন ‘‘এমন সাফল্যের জন্য পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।’’ (সূরা সাফফাত ৬১ আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৭ وَ مِزَاجُهٗ مِنۡ تَسۡنِیۡمٍ

আর তার মিশ্রণ হবে তাসনীম থেকে। আল-বায়ান

তাতে মেশানো থাকবে ‘তাসনীম, তাইসিরুল

ওর মিশ্রণ হবে তাসনীমের। মুজিবুর রহমান

And its mixture is of Tasneem, Sahih International

২৭. আর তার মিশ্রণ হবে তাসনীমের(১),

(১) তাসনীম মানে উন্নত ও উঁচু। [ফাতহুল কাদীর] কোন কোন মুফাসসির বলেন, কোন ঝরণাকে তাসনীম বলার মানে হচ্ছে এই যে, তা উঁচু থেকে প্রবাহিত হয়ে নীচের দিকে আসে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২৭। এর মিশ্রণ হবে তাসনীমের (পানির)। [1]

[1] ‘তাসনীম’ শব্দের অর্থ হল উচ্চতা। উটের কুঁজ তার শরীর থেকে উঁচু, তাই তাকে ‘সিনাম’ বলা হয়। কবর উঁচু করাকেও ‘তাসনীমুল ক্বুবূর’ বলা হয়। ভাবার্থ এটাই হল যে, উক্ত মদিরায় তাসনীম শারাবের মিশ্রণ থাকবে; যা জান্নাতের উঁচু এলাকার এক ঝরনা থেকে প্রবাহিত হবে। আর এটা জান্নাতের সবচেয়ে উত্তম ও উচ্চ পর্যায়ের বিশুদ্ধ শারাব হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৮ عَیۡنًا یَّشۡرَبُ بِهَا الۡمُقَرَّبُوۡنَ

তা এক প্রস্রবণ, যা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে। আল-বায়ান

ওটা একটা ঝর্ণা, যাত্থেকে (আল্লাহর) নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে। তাইসিরুল

এটি একটি প্রস্রবণ, যা হতে নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিরা পান করে। মুজিবুর রহমান

A spring from which those near [to Allah] drink. Sahih International

২৮. এটা এক প্রস্রবণ, যা থেকে সান্নিধ্যপ্রাপ্তরা পান করে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮। এটা একটি প্রস্রবণ, যা হতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পান করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২৯ اِنَّ الَّذِیۡنَ اَجۡرَمُوۡا كَانُوۡا مِنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یَضۡحَكُوۡنَ

নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে নিয়ে হাসত। আল-বায়ান

পাপাচারী লোকেরা (দুনিয়ায়) মু’মিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। তাইসিরুল

অপরাধীরা মু’মিনদেরকে উপহাস করত, মুজিবুর রহমান

Indeed, those who committed crimes used to laugh at those who believed. Sahih International

২৯. নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে উপহাস করত(১),

(১) অর্থাৎ একথা ভাবতে ভাবতে ঘরের দিকে ফিরতো: আজ তো বড়ই মজা। ওমুক মুসলিমকে বিদ্রুপ করে, তাকে চোখা চোখা বাক্যবাণে বিদ্ধ করে বড়ই মজা পাওয়া গেছে এবং সাধারণ মানুষের সামনে তাকে চরমভাবে অপদস্থ করা গেছে। মোটকথাঃ তারা মুমিনদের নিয়ে অপমানজনক কথা-বার্তা, আচার আচরণ, ইশারা-ইঙ্গিত করত আর মজা লাভ করত। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২৯। নিশ্চয় যারা অপরাধী তারা মুমিনদেরকে নিয়ে উপহাস করত।[1]

[1] অর্থাৎ, পাপীরা তাদেরকে তুচ্ছ ভেবে তাদের সাথে ঠাট্টা-ব্যঙ্গ করত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩০ وَ اِذَا مَرُّوۡا بِهِمۡ یَتَغَامَزُوۡنَ

আর যখন তারা মুমিনদের পাশ দিয়ে যেত তখন তারা তাদেরকে নিয়ে চোখ টিপে বিদ্রূপ করত। আল-বায়ান

আর তারা যখন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত। তাইসিরুল

এবং তারা যখন মু’মিনদের নিকট দিয়ে যেত তখন চোখ চিপে কটাক্ষ করত। মুজিবুর রহমান

And when they passed by them, they would exchange derisive glances. Sahih International

৩০. আর যখন তারা মুমিনদের কাছ দিয়ে যেত তখন তারা চোখ টিপে বিদ্রূপ করত।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩০। এবং তারা যখন মুমিনদের নিকট দিয়ে যেত, তখন চোখ টিপে ইশারা করত। [1]

[1] غمز শব্দের অর্থ হল চোখের পলক এবং ভ্রূ দ্বারা ইঙ্গিত করা। অর্থাৎ একে অপরকে নিজ পলক ও ভ্রূ দ্বারা ইঙ্গিত করে তাদেরকে অবজ্ঞা করত এবং তাদের দ্বীনের ব্যাপারে খোঁটা দিত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

মন্তব্য করুন

ব্লগ