Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৮:২৭ অপরাহ্ণ

পাপাচারী লোকেরা (দুনিয়ায়) মু’মিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। আর যখন তারা মুমিনদের পাশ দিয়ে যেত তখন তারা তাদেরকে নিয়ে চোখ টিপে বিদ্রূপ করত…অতএব আজ মুমিনরাই কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে।


পাপাচারী লোকেরা (দুনিয়ায়) মু’মিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। আর যখন তারা মুমিনদের পাশ দিয়ে যেত তখন তারা তাদেরকে নিয়ে চোখ টিপে বিদ্রূপ করত…অতএব আজ মুমিনরাই কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে।

সূরাঃ আল-মুতাফফিফীন আয়াতঃ২৯- ৩৬ মাক্কী

:২৯ اِنَّ الَّذِیۡنَ اَجۡرَمُوۡا كَانُوۡا مِنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یَضۡحَكُوۡنَ

নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে নিয়ে হাসত। আল-বায়ান

পাপাচারী লোকেরা (দুনিয়ায়) মু’মিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। তাইসিরুল

অপরাধীরা মু’মিনদেরকে উপহাস করত, মুজিবুর রহমান

Indeed, those who committed crimes used to laugh at those who believed. Sahih International

২৯. নিশ্চয় যারা অপরাধ করেছে তারা মুমিনদেরকে উপহাস করত(১),

(১) অর্থাৎ একথা ভাবতে ভাবতে ঘরের দিকে ফিরতো: আজ তো বড়ই মজা। ওমুক মুসলিমকে বিদ্রুপ করে, তাকে চোখা চোখা বাক্যবাণে বিদ্ধ করে বড়ই মজা পাওয়া গেছে এবং সাধারণ মানুষের সামনে তাকে চরমভাবে অপদস্থ করা গেছে। মোটকথাঃ তারা মুমিনদের নিয়ে অপমানজনক কথা-বার্তা, আচার আচরণ, ইশারা-ইঙ্গিত করত আর মজা লাভ করত। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২৯। নিশ্চয় যারা অপরাধী তারা মুমিনদেরকে নিয়ে উপহাস করত।[1]

[1] অর্থাৎ, পাপীরা তাদেরকে তুচ্ছ ভেবে তাদের সাথে ঠাট্টা-ব্যঙ্গ করত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩০ وَ اِذَا مَرُّوۡا بِهِمۡ یَتَغَامَزُوۡنَ

আর যখন তারা মুমিনদের পাশ দিয়ে যেত তখন তারা তাদেরকে নিয়ে চোখ টিপে বিদ্রূপ করত। আল-বায়ান

আর তারা যখন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত। তাইসিরুল

এবং তারা যখন মু’মিনদের নিকট দিয়ে যেত তখন চোখ চিপে কটাক্ষ করত। মুজিবুর রহমান

And when they passed by them, they would exchange derisive glances. Sahih International

৩০. আর যখন তারা মুমিনদের কাছ দিয়ে যেত তখন তারা চোখ টিপে বিদ্রূপ করত।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩০। এবং তারা যখন মুমিনদের নিকট দিয়ে যেত, তখন চোখ টিপে ইশারা করত। [1]

[1] غمز শব্দের অর্থ হল চোখের পলক এবং ভ্রূ দ্বারা ইঙ্গিত করা। অর্থাৎ একে অপরকে নিজ পলক ও ভ্রূ দ্বারা ইঙ্গিত করে তাদেরকে অবজ্ঞা করত এবং তাদের দ্বীনের ব্যাপারে খোঁটা দিত।

৩১ وَ اِذَا انۡقَلَبُوۡۤا اِلٰۤی اَهۡلِهِمُ انۡقَلَبُوۡا فَكِهِیۡنَ

আর যখন তারা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসত তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে ফিরে আসত। আল-বায়ান

আর তারা যখন তাদের আপন জনদের কাছে ফিরে আসত, তখন (মু’মিনদেরকে ঠাট্টা ক’রে আসার কারণে) ফিরত উৎফুল্ল হয়ে। তাইসিরুল

এবং যখন তাদের আপনজনের নিকট ফিরে আসতো তখন তারা ফিরতো উৎফুল্ল হয়ে। মুজিবুর রহমান

And when they returned to their people, they would return jesting. Sahih International

৩১. আর যখন তাদের আপনজনের কাছে ফিরে আসত তখন তারা ফিরত উৎফুল্ল হয়ে,

তাফসীরে জাকারিয়া

৩১। এবং যখন তারা আপনজনের নিকট ফিরে আসত, তখন তারা ফিরত উৎফুল্ল হয়ে। [1]

[1] অর্থাৎ, ঈমানদারদের কথা উল্লেখ করে খুশীর সাথে মজা নিত এবং আমোদ করত। দ্বিতীয় মর্মার্থ এটাও হতে পারে যে, যখন তারা গৃহে ফিরত, তখন স্বাচ্ছন্দ্য ও অবসর তাদেরকে স্বাগত জানাত এবং যা চাইত, তারা তাই পেয়ে যেত। এ সত্ত্বেও তারা আল্লাহর কৃতজ্ঞ হয়নি; বরং ঈমানদারদের প্রতি ঘৃণাপোষণ এবং হিংসা করাতে অবিচল ছিল। (ইবনে কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩২ وَ اِذَا رَاَوۡهُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَضَآلُّوۡنَ

আর যখন তারা মুমিনদেরকে দেখত তখন বলত, ‘নিশ্চয় এরা পথভ্রষ্ট’। আল-বায়ান

আর তারা যখন মু’মিনদেরকে দেখত তখন বলত, ‘এরা তো অবশ্যই গুমরাহ্।’ তাইসিরুল

এবং যখন তাদেরকে দেখত তখন বলতঃ এরাইতো পথভ্রষ্ট। মুজিবুর রহমান

And when they saw them, they would say, "Indeed, those are truly lost." Sahih International

৩২. আর যখন মুমিনদেরকে দেখত তখন বলত, নিশ্চয় এরা পথভ্ৰষ্ট।(১)

(১) অর্থাৎ এরা বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে গেছে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের চক্করে ফেলে দিয়েছেন। ফলে এরা নিজেরা নিজেদেরকে দুনিয়ার লাভ, স্বাৰ্থ ও ভোগ-বিলাসিতা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে এবং সব রকমের আশংকা ও বিপদ আপদের মুখোমুখি হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] যা কিছু এদের সামনে উপস্থিত আছে তা কেবল এ অনিশ্চিত আশায় ত্যাগ করছে যে, এদের সাথে মৃত্যুর পরে কি এক জান্নাত দেবার ওয়াদা করা হয়েছে, আর পরবর্তী জগতে নাকি কোন জাহান্নাম হবে, এদেরকে তার আযাবের ভয় দেখানো হয়েছে এবং তার ফলেই এরা আজ এ দুনিয়ায় সবকিছু কষ্ট বরদাশত করে যাচ্ছে। এভাবে যুগে যুগে মুমিনদেরকে অপমানজনক কথা সহ্য করতে হয়েছে। বর্তমানেও কেউ দ্বীনদার হলে তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে শোনা যায়। [উসাইমীন, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩২। এবং যখন তাদেরকে দেখত, তখন বলত, এরাই তো পথভ্রষ্ট। [1]

[1] তওহীদবাদীরা মুশরিকদের দৃষ্টিতে এবং ঈমানদাররা কাফেরদের দৃষ্টিতে ভ্রষ্ট বলে পরিচিত। এই অবস্থা আজও বিদ্যমান রয়েছে। ভ্রষ্ট বাতিলপন্থীরা নিজেদেরকে হকপন্থী ভাবে এবং আসল হকপন্থীদেরকে ভ্রষ্ট মনে করে। এমনকি পরিপূর্ণরূপে বাতিল ফির্কাও নিজেদের ছাড়া কাউকে মু’মিন বলে না এবং ভাবেও না। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে হিদায়াত করুন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩৩ وَ مَاۤ اُرۡسِلُوۡا عَلَیۡهِمۡ حٰفِظِیۡنَ

আর তাদেরকে তো মুমিনদের হিফাযতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি। আল-বায়ান

তাদেরকে তো মু’মিনদের হিফাযাতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি (মু’মিনদের কৃতকর্মের হিসাব মু’মিনরাই দিবে)। তাইসিরুল

তাদেরকে তো এদের সংরক্ষকরূপে পাঠানো হয়নি! মুজিবুর রহমান

But they had not been sent as guardians over them. Sahih International

৩৩. অথচ তাদেরকে মুমিনদের তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয়নি।(১)

(১) এই ছোট বাক্যটিতে বিদ্রূপকারীদের জন্য বড়ই শিক্ষাপ্রদ হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে অর্থাৎ ধরে নেয়া যাক মুসলিমরা যা কিছুর প্রতি ঈমান এনেছে সবকিছুই ভুল। কিন্তু তাতে তারা তোমাদের তো কোন ক্ষতি করছে না। যে জিনিসকে তারা সত্য মনে করছে সেই অনুযায়ী তারা নিজেরাই আমল করছে। তোমরা তাদের সমালোচনা করছ কেন? আল্লাহ কি তোমাদেরকে এই দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন? মুমিনদের কর্মকাণ্ড হেফাযত করার দায়িত্ব তো তোমাদেরকে দেয়া হয়নি। তাহলে সেটা করতে যাবে কেন? এটাকেই তোমাদের উদ্দেশ্য বানিয়েছ কেন? [দেখুন: ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৩। অথচ তাদেরকে তো এদের সংরক্ষকরূপে পাঠানো হয়নি! [1]

[1] অর্থাৎ, এই কাফেরদেরকে মুসলিমদের উপর পাহারাদার হিসাবে পাঠানো হয়নি যে, তারা সব সময় মুসলিমদের আমল ও অবস্থা দেখে বেড়াবে এবং তাদের সমালোচনা করতে থাকবে। মোট কথা, তারা যখন এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়, তখন তারা কেন এমন ব্যবহার করে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩৪ فَالۡیَوۡمَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنَ الۡكُفَّارِ یَضۡحَكُوۡنَ

অতএব আজ মুমিনরাই কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে। আল-বায়ান

আজ (জান্নাত হতে) মু’মিনরা কাফিরদের (পরিণতির) উপর হাসছে, তাইসিরুল

আজ তাই মু’মিনগণ উপহাস করছে কাফিরদেরকে – মুজিবুর রহমান

So Today those who believed are laughing at the disbelievers, Sahih International

৩৪. অতএব আজ মুমিনগণ উপহাস করবে কাফিরদেরকে,

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৪। আজ তাই মুমিনগণ উপহাস করবে কাফিরদেরকে নিয়ে। [1]

[1] অর্থাৎ, যেমন দুনিয়াতে কাফেররা মুসলিমদেরকে নিয়ে হাসি-মজাক ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তেমনি কিয়ামতের দিন যখন তারা আল্লাহর কবলে এসে যাবে, তখন মু’মিনরা তাদেরকে নিয়ে হাসতে থাকবে। তাদের হাসি এই জন্য হবে যে, এরা নিজেরা ভ্রষ্ট হওয়ার সত্ত্বেও আমাদের ভ্রষ্ট বলত এবং উপহাস করত। এখন তারা বুঝে নিয়েছে যে, কারা ভ্রষ্ট ছিল? আর কারা উপহাসের পাত্র ছিল?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩৫ عَلَی الۡاَرَآئِكِ ۙ یَنۡظُرُوۡنَ

উচ্চ আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে। আল-বায়ান

উচ্চ আসনে বসে তাদের অবস্থা দেখছে। তাইসিরুল

সুসজ্জিত আসন হতে তাদেরকে অবলোকন করে। মুজিবুর রহমান

On adorned couches, observing. Sahih International

৩৫. সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৫। সুসজ্জিত আসনে বসে তারা দেখতে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩৬ هَلۡ ثُوِّبَ الۡكُفَّارُ مَا كَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ

কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হল তো? আল-বায়ান

কাফিররা যা করত তার ‘সওয়াব’ পেল তো? তাইসিরুল

কাফিরেরা তাদের কৃত কর্মের ফল পেলো তো? মুজিবুর রহমান

Have the disbelievers [not] been rewarded [this Day] for what they used to do? Sahih International

৩৬. কাফিররা তাদের কৃতকর্মের ফল পেল তো?

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৬। কাফিররা যা করত, তার ফল তারা পেল তো? [1]

[1] أثيب ثوِّب এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে, তার মানেঃ প্রতিফল দেওয়া হল। অর্থাৎ, কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল তাদেরকে দেওয়া হল তো?

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ