Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৮:০১ পূর্বাহ্ণ

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ। এটাই বিরাট সফলতা। নিশ্চয় তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন।



নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ। এটাই বিরাট সফলতা। নিশ্চয় তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, প্রেমময়।

সূরাঃ   আল-বুরুজ   আয়াতঃ  ১১-২০ মাক্কী

১১ اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمۡ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ ۬ؕؑ ذٰلِكَ الۡفَوۡزُ الۡكَبِیۡرُ

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ। এটাই বিরাট সফলতা। আল-বায়ান

যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের জন্য আছে জান্নাত, যার পাদদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী, এটা বিরাট সাফল্য। তাইসিরুল

যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদের জন্যই আছে জান্নাত, যার নিম্নে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত; এটাই সুমহান, সফলকাম। মুজিবুর রহমান

Indeed, those who have believed and done righteous deeds will have gardens beneath which rivers flow. That is the great attainment. Sahih International

১১. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; এটাই মহাসাফল্য।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যই রয়েছে জান্নাত, যার নিম্নে নদীমালা প্রবাহিত; এটাই মহা সাফল্য।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১২ اِنَّ بَطۡشَ رَبِّكَ لَشَدِیۡدٌ

নিশ্চয় তোমার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন। আল-বায়ান

তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও অবশ্যই বড় কঠিন। তাইসিরুল

তোমার রবের শাস্তি বড়ই কঠিন। মুজিবুর রহমান

Indeed, the vengeance of your Lord is severe. Sahih International

 

১২. নিশ্চয় আপনার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও বড়ই কঠিন। [1]

[1] যারা আল্লাহর রসূলকে মিথ্যা ভেবেছিল এবং তাঁর আদেশ উল্লংঘন করেছিল, যখন আল্লাহ এই সমস্ত শত্রুদেরকে পাকড়াও করলেন তখন তাঁর পাকড়াও হতে কেউ পরিত্রাণ পেল না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:১৩ اِنَّهٗ هُوَ یُبۡدِئُ وَ یُعِیۡدُ

নিশ্চয় তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আল-বায়ান

তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন অতঃপর সৃষ্টির আবর্তন ঘটান। তাইসিরুল

তিনিই অস্তিত্ব দান করেন ও পুনরাবর্তন ঘটান, মুজিবুর রহমান

Indeed, it is He who originates [creation] and repeats. Sahih International

১৩. তিনিই অস্তিত্ব দান করেন ও পুনরাবর্তন ঘটান,

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। তিনিই অস্তিত্ব দান করেন ও পুনরাবর্তন ঘটান।[1]

[1] অর্থাৎ, তিনিই নিজ পূর্ণ শক্তি ও কুদরত দ্বারা প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং কিয়ামতের দিন পুনর্বার ঠিক সেভাবেই সৃষ্টি করবেন যেভাবে তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৪ وَ هُوَ الۡغَفُوۡرُ الۡوَدُوۡ

আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, প্রেমময়। আল-বায়ান

তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়, তাইসিরুল

এবং তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়, মুজিবুর রহমান

And He is the Forgiving, the Affectionate, Sahih International

১৪. এবং তিনি ক্ষমাশীল, অতিম্নেহময়(১),

(১) الْوَدُود শব্দটির কয়েকটি অর্থ বর্ণিত আছে। কারও কারও মতে, ‘ওয়াদূদ’ বলা হয় তাকে যার কোন সন্তান নেই। অর্থাৎ যার এমন কেউ নেই। যার প্রতি মন টানতে থাকবে। [ফাতহুল কাদীর] তবে অধিকাংশ মুফাস্‌সিরের মতে এর অর্থ, প্রিয় বা প্রিয়পাত্র। [ইবন কাসীর] যার ভালবাসায় কোন খাদ নেই। যারা তাঁকে ভালবাসেন তিনিও তাদেরকে ভালবাসেন। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তিনি তাদেরকে ভালবাসেন আর তারাও তাঁকে ভালবাসে”। [সূরা আল-মায়েদাহ: ৫৪] তিনি এমন সত্তা যাঁকে তার ভালবাসার পাত্ররা এমন ভালবাসে যে ভালবাসার কোন উদাহরণ দেয়া সম্ভব হয় না। যার কোন তুলনা নেই। তাঁর খালেস বান্দাদের অন্তরে তাঁর যে ভালবাসা রয়েছে সেটার তুলনা কোন ভালবাসা দিয়ে দেয়া যাবে না। আর এজন্যই ভালবাসা হচ্ছে আল্লাহর দাসত্বের মূল কথা। যে ভালবাসার কারণে যাবতীয় ভালবাসার পাত্রের উপর সেটা স্থান করে নেয়। অন্য ভালবাসা যদি আল্লাহর ভালবাসার অনুগামী না হয় তবে সেটা বান্দার জন্য বিপদ ও শাস্তির কারণ হয়। [সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। তিনিই ক্ষমাশীল, প্রেমময়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:১৫ ذُو الۡعَرۡشِ الۡمَجِیۡدُ

আরশের অধিপতি, মহান। আল-বায়ান

‘আরশের অধিপতি, মহা সম্মানিত। তাইসিরুল

আরশের অধিপতি মহিমময়, মুজিবুর রহমান

Honorable Owner of the Throne, Sahih International

১৫. আরশের অধিকারী ও সম্মানিত।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। তিনি আরশের অধিপতি গৌরবময়। [1]

[1] অর্থাৎ, তিনি সমস্ত সৃষ্টি হতে সুমহান এবং সুউচ্চ। ‘আরশ’ যা সব থেকে উচ্চে অবস্থিত, যার উপরে আল্লাহ আছেন। যেমন সাহাবাগণ, তাবেয়ীনগণ এবং মুহাদ্দিসগণদের এ বিশ্বাস। المَجِيدُ শব্দের অর্থ হল মর্যাদাবান ও গৌরবময়। পেশ অবস্থায় এ জন্য আছে যে, এটা ذو বা রবের সিফাত (বিশেষণ); العَرشِ এর বিশেষণ নয়। যদিও কেউ কেউ এই শব্দটাকে العَرشِ এর বিশেষণ ধরে المجيدِ শব্দকে যের দিয়ে পাঠ করেছেন। অর্থের দিক দিয়ে উভয় অর্থ নির্ভুল এবং বিশুদ্ধ। (ইবনে কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

:১৬ فَعَّالٌ لِّمَا یُرِیۡدُ

তিনি তা-ই করেন যা চান । আল-বায়ান

যা করতে চান তাই করেন। তাইসিরুল

তিনি যা ইচ্ছা করেন তা’ই করে থাকেন, মুজিবুর রহমান

Effecter of what He intends. Sahih International

১৬. তিনি যা ইচ্ছে তা-ই করেন।(১)

(১) “তিনি ক্ষমাশীল” বলে এই মর্মে আশান্বিত করা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি গোনাহ করা থেকে বিরত হয়ে যদি তাওবা করে তাহলে সে আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারে। তিনি গোনাহগারদের প্রতি এতই ক্ষমাশীল যে, তাদেরকে লজ্জা দেন না। আর তাঁর আনুগত্যকারী বন্ধুদেরকে অতিশয় ভালবাসেন। [ফাতহুল কাদীর] “অতিস্নেহময়” বলে الْوَدُود শব্দের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। কারণ, স্নেহ ও ভালবাসার মধ্যে খাঁটি হলেই তবে তাকে “ওয়াদূদ” বলা যাবে। তিনি নিজের সৃষ্টিকে অত্যধিক ভালোবাসেন। তাকে তিনি কেবল তখনই শাস্তি দেন যখন সে বিদ্রোহাত্মক আচরণ করা থেকে বিরত হয় না। এখানে غَفُور বা ক্ষমাকারী বলার পরে وَدُود বা অতি স্নেহময় বলে এটাই বুঝাচ্ছেন যে, যারা অন্যায় করে তারপর তাওবাহ করবে, তাদেরকে তিনি শুধু ক্ষমাই করবেন না। বরং নিখাদভাবে ভালও বাসবেন। [সা’দী] “আরশের মালিক” বলে মানুষের মধ্যে এ অনুভূতি জাগানো হয়েছে যে তিনি যেহেতু আরশের মালিক। আর আরশ সবকিছুর উপরে। তাই তিনিও সবকিছুর উপরে। [ইবন কাসীর]

সবকিছু মহান আল্লাহর আরশের সামনে অতি নগন্য। বরং সমস্ত আসমান, যমীন ও কুরসী সবগুলোকেই আরশ শামিল করে। [সা’দী] কাজেই তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কেউ তার হাত থেকে নিস্তার পেতে পারে না। “শ্রেষ্ঠ সম্মানিত” বলে এ ধরনের বিপুল মর্যাদাসম্পন্ন সত্তার প্রতি অশোভন আচরণ করার হীন মনোবৃত্তির বিরুদ্ধে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়া এটি আরশের গুণও হতে পারে। [ইবন কাসীর] তার শেষ গুণটি বর্ণনা করে বলা হয়েছে, “তিনি যা চান তাই করেন” অর্থাৎ আল্লাহ যে কাজটি করতে চান তাতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এ সমগ্র সৃষ্টিকুলের কারো নেই। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মৃত্যু শয্যায় কেউ জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনাকে কি কোন ডাক্তার দেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারা বললেন, ডাক্তার কী বলেছেন? তিনি বললেন, ডাক্তার আমাকে বলেছেন, আমি যা ইচ্ছা তাই করি। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। তিনি যা ইচ্ছা, তাই করে থাকেন। [1]

[1] অর্থাৎ, তিনি যা চান তা বাস্তবে করে থাকেন। তাঁর আদেশ ও চাহিদাকে রুখার সাধ্য কারো নেই। আর না কেউ তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা রাখে। আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর মৃত্যু রোগের সময় তাঁকে কেউ জিজ্ঞাসা করল যে, আপনাকে কি কোন ডাক্তার দেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, তিনি কি বলেছেন? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, তিনি বলেছেন, إني فعَّال لما أريد অর্থাৎ, আমি যা চাই, তাই করি। আমার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার মত কেউ নেই। (ইবনে কাসীর) উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এ ব্যাপারটা এখন আর কোন ডাক্তারের হাতে নেই। এখন আল্লাহই হলেন আমার ডাক্তার। যাঁর ইচ্ছাকে কেউ টলাতে পারে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৭ هَلۡ اَتٰىكَ حَدِیۡثُ الۡجُنُوۡدِ

তোমার কাছে কি সৈন্যবাহিনীর খবর পৌঁছেছে? আল-বায়ান

তোমার কাছে কি সৈন্য বাহিনীর খবর পৌছেছে? তাইসিরুল

তোমার নিকট কি পৌঁছেছে সৈন্য বাহিনীর বৃত্তান্ত – মুজিবুর রহমান

Has there reached you the story of the soldiers - Sahih International

১৭. আপনার কাছে কি পৌছেছে সৈন্যবাহিনীর বৃত্তান্ত—

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। তোমার নিকট কি সৈন্যবাহিনীর বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? [1]

[1] অর্থাৎ, তাদের উপর যখন আমার আযাব এল এবং তাদেরকে আমি নিজের কবলে করে নিলাম; তখন তা কেউ টলাতে পারেনি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৮৫:১৮ فِرۡعَوۡنَ وَ ثَمُوۡدَ ﴿ؕ۱۸﴾فرعون و ثمود ﴿۱۸﴾

ফির‘আউন ও সামূদের। আল-বায়ান

ফেরাউন ও সামূদের? (আল্লাহর ক্ষমতার বিরুদ্ধে তাদের লোক-লস্কর কোন কাজে আসেনি)। তাইসিরুল

ফির‘আউন ও ছামূদের? মুজিবুর রহমান

[Those of] Pharaoh and Thamud? Sahih International

১৮. ফিরআউন ও সামুদের?

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। ফিরআউন ও সামূদের?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৯ بَلِ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا فِیۡ تَكۡذِیۡبٍ

বরং কাফিররা মিথ্যারোপে লিপ্ত। আল-বায়ান

তবুও কাফিররা সত্য প্রত্যাখ্যান করেই চলেছে। তাইসিরুল

তবু কাফিরেরা মিথ্যা আরোপ করায় রত, মুজিবুর রহমান

But they who disbelieve are in [persistent] denial, Sahih International

১৯. তবু কাফিররা মিথ্যারোপ করায় রত;

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। তবুও কাফেররা মিথ্যাজ্ঞান করায় রত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২০ وَّ اللّٰهُ مِنۡ وَّرَآئِهِمۡ مُّحِیۡطٌ

আর আল্লাহ তাদের অলক্ষ্যে তাদের পরিবেষ্টনকারী। আল-বায়ান

আর আল্লাহ আড়াল থেকে ওদেরকে ঘিরে রেখেছেন। তাইসিরুল

এবং আল্লাহ তাদের পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। মুজিবুর রহমান

While Allah encompasses them from behind. Sahih International

 

২০. আর আল্লাহ্ সবদিক থেকে তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০। আর আল্লাহ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।[1]

[1] এই আয়াত إِنَّ بَطشَ رَبِّكَ لَشَدِيد আয়াতেরই প্রতিপাদক এবং তাকীদস্বরূপ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

মন্তব্য করুন