Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ১০:৫০ অপরাহ্ণ

লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত

ইসলাম ধর্মমতে লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত (যা সচরাচর শবেমেরাজ নামে অধিকতর পরিচিত) হচ্ছে যে রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা:) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অনেক মুসলমান এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদ্‌যাপন করেন। আবার অনেক মুসলমান এই রাত উদ্‌যাপন করেন না বরং এই রাত উদ্‌যাপন করাকে বিদআত বলেন।[১] ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করার বিধি মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন নবি মুহাম্মদ (সা:)।

ইসলামের ইতিহাস-অনুযায়ী মুহাম্মাদের (সা:) নবুওয়াতের দশম বৎসরে (৬২১ খ্রিষ্টাব্দে) এক রাতে ইসলামের নবি মুহাম্মাদ ﷺ প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন[২]। এটাকে কুরআনের ভাষায় ইসরা বলা হয়। সেখানে তিনি নবিদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। এটাকে মেরাজ বলা হয়। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করেন। নবি মুহাম্মদ (সা:)-এর আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার আগ পর্যন্ত এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) তার সফরসঙ্গী ছিলেন।[৩] কুরআন শরিফের সুরা বনি ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:[৪]

"পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তার বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনি-ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"

মেরাজ কবে কখন সংঘটিত হয় তা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কারো মতে হিজরতের ১ বছর আগে, আবার কারো মতে হিজরতের ৫ বছর আগে সংঘটিত হয়। কোন মাসে সংঘটিত হয়েছে তা নিয়েও রয়েছে মতানৈক্য। কারো মতে, রবিউল আউয়াল মাসে, কারো মতে রজব মাসে, আবার কারো মতে রমজান মাসে সংঘটিত হয়। ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে সংঘটিত হবার বর্ণনা বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয়। তবে এ তারিখে হওয়া ইমাম নববীর উক্তি।[৫]

মেরাজ ঘটেছিল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নবুয়্যত বা ঐশ্বিক বাণী প্রাপ্তির দশম বছরে। মেরাজের ঘটনায় দুটো অংশ ছিল:

  1. আল-ইসরা বা জেরুজালেমে নৈশ-ভ্রমণ
  2. মেরাজ বা ঊর্ধ্বারোহণ বা স্বর্গারোহণ।[৬]

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ঐ রাতে মুহাম্মদ কাবাতে ঘুমান, এবং তিনি কাবা'র ঐ অংশে ঘুমান, যেখানে কোনো ছাদ ছিল না (হাতিম)।[৬]

মন্তব্য করুন