জনতার বিস্তৃত সমুদ্রে আত্মপরিচয়ের অনির্ণেয়তা, অস্তিত্বের রূপান্তর ও ভঙ্গুরতাকে এক অনিবার্য উপনিবেশে পরিণত করে। ভিড়ের অন্তহীন ব্যূহে মিশে গিয়ে, জনতার নির্লিপ্ত চোখে আত্মবিম্বনের যে প্রক্রিয়া, তা এক বহুমাত্রিক বিভ্রান্তি - যেখানে "আমি" প্রতিনিয়ত ছিন্নভিন্ন হয়। আবার নতুন কোনও বৈষ্ণবিক ছদ্মবেশে প্রতিস্থাপিত হয়। এই স্থিতি ও গতির সন্ধিক্ষণেই অস্তিত্বের নৈর্ব্যক্তিকতা এক অভিশপ্ত শাস্ত্র হয়ে ওঠে।
অতিসাধারণের মধ্যে গৌণ হয়ে যাওয়ার শিল্পশাস্ত্র, অবহেলার বিন্দুবৎ নিঃশেষতা, উপেক্ষার মসৃণ অভিঘাত - সব মিলিয়ে নিজেকে অপস্রিয়মাণ এক সত্তা বলে অনুভূত হয়। আমজনতার মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ার যে নিঃশব্দ তত্ত্ব, সেটাই আবার আত্মচেতনার নিষ্করুণ পাঠশালা। কীর্তি ও অবসানের দ্বৈতবোধে শেকলবন্দি সত্তা তখন নিরুপায় আত্মবিশ্লেষণের মগ্নতায় নিমগ্ন হয়। এ এক পরম আত্মসংশয়ের অনুশাসন - জনতার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহে আত্মপরিচয়ের বিকীর্ণতা, ব্যপ্তিহীন এক উপলব্ধির গূঢ়সংগীত। সমাজের অনিঃশেষ ব্যাকরণে সংযোজিত হয়ে যেতে যেতে, আমি ক্রমশ মিশে যাই এক নৈর্ব্যক্তিক অস্তিত্বের মহাশূন্যে। অথচ সেখানে দাঁড়িয়েই আমি পরস্পরবিরোধী দুই বিন্দুতে সমর্পিত - আমি জনতার অংশ, আবার তাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই পরস্পরনির্ভর অথচ পৃথক অস্তিত্ব কি তবে নিছক ছায়ামাত্র? নাকি এই অনন্ত জনতার সায়ম্বন্ধ্যেই লুকিয়ে আছে আত্মপরিচয়ের পরম সংকেত? হ
১৪
২১ মন্তব্য