Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:২১ অপরাহ্ণ

ইবতেদায়ী শিক্ষকদের প্রস্তাবিত গ্রেড ও বেতনস্কেল

শিরোনাম :"সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকের বেতন গ্রেড পরিবর্তন  এবং  কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা সরকারি প্রাথমিকের মতো অনার্স/ ডিগ্রি বা সমমান  করা সময়ের দাবি ":


এনটিআরসি এর মাধ্যমে নিয়োগ পরিক্রিয়া চালু হওয়ার পারে অনেক দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেতন -ভাতা কম থাকায় এই পদে যোগ্যরা বেশি দিন চাকরি করেন না।ফলে সারা বছর শিক্ষক সংকট লেগেই থাকে। এর ফলে ইবতেদায়ী স্তরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম এবং শিক্ষার মানও কম।ঠিক মতো পাঠদান হয়না।তাই অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে প্রাইভেট মাদ্রাসায় বা নূরানি মাদরাসায় ভর্তি করান।


যদি এই স্তরে শিক্ষকদের বেতনভাতার বৃদ্ধি করা হতো এবং সরকারি প্রাথমিকের মতো শিক্ষক নিয়োগ এর যোগ্যতা অনার্স বা সমমান বা আলিমের পরিবর্তে ফাযিল পাশ করা হতো তাহলে এই স্তরে চাকরি ছেড়ে অন্য পদে বা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রবণতা কমে যেত।


আগে কমিটির মাধ্যমে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই অবসরে চলেগেছেন বা অল্প কিছু দিন পরেই যাবে।নতুনরা আসলেও বেশি দিন থাকেনা।


এনটিআরসি এর শূন্য পদ এই ইবতেদায়ী স্তরেই বেশি। প্রিলি পরীক্ষার এমসিকিউ মোটামুটি কঠিনই হয়।


দ্রুত বেতন কাঠামো  ও কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন না করা হলে দিনদিন ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষার মান তলানিতে যাবে! 


প্রস্তাবিত সংশোধনী:


১.ইবতেদায়ী মৌলভী বা সহকারী শিক্ষক (আরবি) [ইবতেদায়ী ]:


ক.ফাযিল পাশ গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০টাকা।

যারা আলিম পাশ করে ইবতেদায়ী মৌলভী পদে জয়েন করেন। তাদের ফাযিল পাশের সনদ সাবমিট করে ১৩ তম গ্রেডের জন্য আবেদনর সুযোগ প্রদান।


২.ইবতেদায়ী শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক  ভাষা( বাংলা ও ইংরেজি)[ইবতেদায়ী ] :


যে কোনো বিষয়ে অনার্স বা সমমান বা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইসলামি  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাযিল বা অনার্স ডিগ্রি।গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০টাকা।যারা এইচএসসি পাশ বা আলিম পাশ করে জয়েন করেছেন তারা অনার্স বা সমমান বা ফাযিলের সনদ সাবমিট করে ১৩ তম গ্রেডের জন্য আবেদনর সুযোগ প্রদান।


৩. ইবতেদায়ি কারী বা সহকারী শিক্ষক (কারী) [ইবতেদায়ী ]:


ক.দাখিল মুজাব্বিদ অথবা আলিম মুজাব্বিদ মাহির পাশ সহ ফাযিল পাশ। গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০ টাকা।


খ.দাখিল  ও আলিম[জেনারেল ] পাশ এবং ফাযিল পাশ সহ ইলমুল কিরায়াতে ১বছরের ডিপ্লোমা গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০টাকা।যারা আলিম পাশ করে ইবতেদায়ী মৌলভী পদে জয়েন করেন। তাদের ফাযিল পাশের সনদ সাবমিট করে ১৩ তম গ্রেডের জন্য আবেদনর সুযোগ প্রদান।


প্রস্তাবিত গ্রেড ও বেতনস্কেল:

১- ইবতেদায়ি কারী:

ক- যোগ্যতা দাখিল/আলিম মুজাব্বিদ গ্রেড ১২ বেতন ১১৩০০ টাকা

খ- ফাযিলসহ ইলমুল কিরাতে ডিপ্লোমা গ্রেড ১১ বেতন ১২৫০০ টাকা ৷

গ- কামিলসহ ইলমুল কিরাতে ডিপ্লোমা গ্রেড ১০ বেতন ১৬০০০ টাকা


২- জুনিয়র শিক্ষক:

ক- যোগ্যতা আলিম/এইচএসসি গ্রেড ১২ বেতন ১১৩০০ টাকা

খ- যোগ্যতা ফাযিল/ডিগ্রী গ্রেড ১১ বেতন ১২৫০০ টাকা

গ- যোগ্যতা কামিল/মাস্টার্স গ্রেড ১০ বেতন ১৬০০০ টাকা


৩- জুনিয়র মৌলবী:

ক-যোগ্যতা আলিম গ্রেড ১২ বেতন ১১৩০০ টাকা

খ- যোগ্যতা ফাযিল গ্রেড ১১ বেতন ১২৫০০ টাকা

গ- যোগ্যতা কামিল গ্রেড ১০ বেতন ১৬০০০ টাকা


৪- ইবতেদায়ি প্রধান:

ক-যোগ্যতা ফাযিল গ্রেড ১১ বেতন ১২৫০০ টাকা

খ- যোগ্যতা কামিল গ্রেড ১০ বেতন ১৬০০০ টাকা।


[❝আলিয়া মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তরে শিক্ষার্থী স্বল্পতা ও শিক্ষক সংকটের কারণ ও প্রতিকার ❞

আব্দুল হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ  প্রভাষক (আরবি)

ফুলবাড়িয়া খাদেমুল ইসলাম ফাযিল মাদ্রাসা। ]


ইবতেদায়ী ক্বারী ও সহকারী মৌলভী ক্বারী পদে ফাঁকা সবচেয়ে বেশি। কারণ দাখিল ও আলিম মুজাব্বিদ ক্বারী অনেক মাদরাসায় গ্রুপ নেই এবং শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে তেমন কিছু জানেওনা। অথচ এই পদে ফাঁকা বেশি পাশ করলে চাকরি পাওয়া সহজ।


প্রথমত এই সংকট দূর করতে এবং আলিয়ার শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে ফাযিল পাশের  পাশাপাশি এক বছর ইলমুল কিরায়াতে ডিপ্লোমা কোর্সধারীদের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এই কাজটি নামকরা মাদ্রাসাগুলো ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে চালু করতে পারে।শিক্ষক সংকট কেটে গেলে এই নিয়ম বাতিল হয়ে যাবে। 


দ্বিতীয়ত বর্তমানে সংযুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষকদের বেতনস্কেল- ৯৩০০ টাকা ও গ্রেড- ১৬ যা স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীর সমান ৷ আর ইবতেদায়ি শিক্ষকগণ বোনাস পান বেতনের ২৫% আর কর্মচারীরা ৫০% ৷ ফলে ইবতেদায়ি শিক্ষকগণ আর্থিক সুবিধায় কর্মচারীর চেয়েও নিচে তাই ইবতেদায়ি শিক্ষকদের প্রাইমারি শিক্ষকদের সমান গ্রেডে বেতন দিলে শিক্ষকের সংকট কিছুটা দূর হবে ৷


 

লেখক:

আব্দুর রহিম 

আরবি বিভাগ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ