Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

♻️?⭕মাথা ছাড়া ১৮ মাস জীবিত ছিলো যে মোরগটি!

মাথা ছাড়া ১৮ মাস জীবিত ছিলো যে মোরগটি! 

১৯৪৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ফ্রুইটা শহরের এক খামারে লয়েড ওলসেন এবং তার স্ত্রী ক্লারা তাদের মুরগিগুলো জ*বাই করছিলেন। কিন্তু সেদিনের ৪০-৫০টি মুরগির মধ্যে একটি মুরগির অদ্ভুত আচরণ লক্ষ করল। সেই মুরগিটির গলা কেটে ফেলার পরও মুরগিটি স্বাভাবিকভাবেই হাঁটছিল, লাফাচ্ছিল, এমনকি ভারসাম্যও ধরে রাখছিল। পরবর্তীতে তারা মুরগিটিকে একটি আপেলের বাক্সের মধ্যে রেখে দিলেন। পরের দিন সকালে লয়েড বাইরে গিয়ে দেখলেন যে মুরগিটি তখনও  জীবিত ছিলো


লয়েড এরপর মুরগির মৃতদেহগুলো বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে বেঁচে থাকা এই মুরগিটিকেও সঙ্গে নিয়ে যান। তিনি বাজি ধরে বলেন, “দেখো, আমার কাছে এক জীবিত কিন্তু মাথাবিহীন মুরগি আছে!” অনেকে অবিশ্বাস করলেও মুরগিটির চলাফেরা দেখে অবাক হয়ে যায়। রীতিমতো এই খবরটি দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদপত্র এ নিয়ে প্রতিবেদন করে। এরপর সল্ট লেক সিটি থেকে এক সাইডশো প্রোমোটার হোপ ওয়েড প্রায় ৩০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসে এবং মুরগিটিকে সার্কাসে প্রদর্শন করার প্রস্তাব দেয়। সেই সময় লয়েডের পরিবার আর্থিকভাবে সংকটে ছিল, তাই তিনি রাজি হন।


প্রথমে তারা সল্ট লেক সিটি এবং ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, যেখানে বিজ্ঞানীরা মুরগিটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। বলা হয়, বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করেছিলেন একই ধরনের আরও মুরগি তৈরি করতে, কিন্তু সফল হতে পারেননি। এরপর শুরু হয় মুরগির নামকরণ—"মিরাকল মাইক দ্য হেডলেস চিকেন।"


লয়েড, ক্লারা এবং মাইক পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করে, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। হোপ ওয়েড পরে মুরগিটিকে নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতেও প্রদর্শনী চালিয়ে যান।


এই ঘটনা নিয়ে অনেক চিঠি আসে, যার সংখ্যা প্রায় ৪০-৫০টি। কিছু চিঠিতে মুরগিটিকে নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়, আবার কিছু চিঠি নেতিবাচকও ছিল। কেউ কেউ ওলসেন দম্পতিকে না*ৎসিদের সাথে তুলনা করেছিল! এমনকি আলাস্কা থেকে এক ব্যক্তি মুরগির একটি পা কাঠের পায়ের সাথে বিনিময়ের প্রস্তাবও দেয়।


১৯৪৭ সালের বসন্তে, মাইক যখন ফিনিক্স, অ্যারিজোনায় ছিল, তখন এক রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। মাইকের গলা পরিষ্কার করার জন্য যে সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হতো, সেটি তারা ভুলে সাইডশোতে ফেলে আসেন। বিকল্প কিছু খুঁজে পাওয়ার আগেই মাইক দম বন্ধ হয়ে মা'রা যায়। ট্রয় ওয়াটার্স জানান, তার প্রপিতামহ প্রথমে বলেছিলেন যে মাইককে তিনি সার্কাসের একজনের কাছে বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি স্বীকার করেন যে মাইক আসলে তার কাছেই মারা গিয়েছিল। মাইকের মৃতদেহ নিয়ে ওলসেন কী করেছিলেন, তা তিনি কখনো জানাননি। ট্রয় ধারণা করেন, মুরগির দেহ মুরগির ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত ক্লারা একটি স্ক্র্যাপবুকে লিপিবদ্ধ করতেন, যা এখনো পরিবারের গানের সিন্দুকে রাখা আছে।


এখন অনেকের মনে এই প্রশ্নটা জেগেছে যে এই মুরগীটা মাথা ছাঠা কীভাবে ১৮ মাস বেঁচেছিলো?

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিদ ড. টম স্মল্ডার্স বলেন, মাইকের বেঁচে থাকার রহস্য হলো তার মস্তিষ্কের বেশিরভাগ অংশ অক্ষত থাকা। মুরগির মস্তিষ্কের বড় একটি অংশ মাথার পেছনে থাকে, যা হৃদস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস, এবং হজমের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাইকের ক্ষেত্রে গ'লা কা'টার পর রক্তক্ষরণ তেমন হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সুরক্ষিত ছিল। মস্তিষ্কের যে অংশটি 'ব্রেইন স্টেম' হিসেবে পরিচিত, সেটিই মাইকের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। মাইকের মালিক লয়েড ওলসেন তাকে তরল খাবার খাওয়াতেন। মাইকের কাটা গলার মধ্য দিয়ে একটি ছোট সিরিঞ্জ বা ড্রপার ব্যবহার করে পানি, ছোট শস্যকণা সরাসরি তার খাদ্যনালীতে প্রবেশ করানো হতো। এছাড়া, মাইক মাঝে মাঝে নিজের গলায় শ্লেষ্মা বা খাবারের টুকরো আটকে ফেলত, তাই লয়েড ও তার স্ত্রী নিয়মিতভাবে সিরিঞ্জের সাহায্যে মাইকের গলা পরিষ্কার করতেন, যাতে সে শ্বাস নিতে পারে এবং দম বন্ধ হয়ে না যায়।

সংগ্রহীত

মন্তব্য করুন