সহকারী শিক্ষক
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৮:০০ পূর্বাহ্ণ
শাখা আলু, শাঁখালু বা শাকালু ফলের পুষ্টিগুন!
শাখা আলু, শাঁখালু বা শাকালু ফল !!
দেখতে খানিকটা শঙ্খ বা শাঁখা আকৃতির বলে সন্ধিযোগে নাম শাঁখালু। শাক-আলু = শাকালু এক ধরনের মূলজাতীয় সবজি। পুজোর প্রসাদে বাঁধাধরা থাকতো এই শাঁখালু। লাটিমের মতো দেখতে মিষ্টি আলু অনেকটা স্বচ্ছ সাদা ও ঘোলাটে সাদা। কচকচে পানসে-পানসে ও হালকা মিষ্টি স্বাদের এই আলু খেতে খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
পাতলা খোসা ছাড়িয়ে দুধসাদা মাংসল ফল কাঁচা খাওয়া যায় ফলের মতো, আবার রান্না করে তরকারি হিসেবেও খাওয়া যায়। এই মিষ্টি স্বাদের ঠান্ডা আলু যেটি অঞ্চলভেদে কেশর আলু নামেও পরিচিত, বলা হয় শরবতী আলুও।
ছোট শিশু থেকে শুরু করে, কিশোর, তরুণ, প্রাপ্তবয়স্ক এমনকি বৃদ্ধদেরও নিয়মিতভাবে ফল খাওয়া উচিৎ এবং প্রতিদিন কিছু পরিমাণে হলেও ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ। কারণ সকল মৌসুমি ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি বিদ্যমান থাকে যা খেলে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। অনেক নামি-দামি ফলের কথা সবাই জানি আজ না হয় অখ্যাত এক ফলের আলোচনা করি যা মাটির নীচের।
শাক আলুর উৎপত্তি মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা। আস্তেধীরে চীন, ফিলিপিন, ভারত প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে শাক আলুর চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, যশোর প্রভৃতি জেলায় শাক আলুর প্রচুর চাষ হয়। বীজ থেকে দ্রুত চারা বের হয় এবং কোন কিছুকে অবলম্বন করে গাছ বাড়তে থাকে। গোড়ার কন্দ বা রাইজোম লাগালে তা থেকেও চারা হয়। চরাঞ্চলে বালুর নিচে গুপ্তধনের মতো থোকায় থোকায় ধরে এই আলু। এটি চিরহরিৎ লতা জাতীয় উদ্ভিদ যার মাটির নীচের অংশে আলুর ফলন হয়। এর মূলের খোসা সাদাটে বাদামি, ভেতরটা সাদা শালগম আকৃতির। শাখ আলুতে প্রচুর স্টার্চ ও আমিষ থাকে। এই গাছে যে শিম হয় তা আমিষ সমৃদ্ধ, শিমও খাওয়া যায়। এর পাতায়ও আমিষ থাকে এবং এই পাতাও খাওয়া যায়।
শাঁখালুর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে অদ্রবণীয় ফাইবার। যা হজম করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে গ্যাস, অম্লও হয় না। পেটের সমস্যাতেও ভীষণ উপকারী শাঁখালু। ওজন কমাতেও ভীষণ ভাবে সাহায্য করে শাঁখালু। কারণ এর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ফাইবার অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। হজমও ভাল করায় এবং তাড়াতাড়ি ফ্যাট কমে। ডায়াবেটিসের রোগীরাও কিন্তু নির্ভয়ে খেতে পারেন শাঁখালু। কারণ এই শাঁখালু রক্ত শর্করার পরিমাণ বাড়ায় না। শাঁখালুর মধ্যে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম। যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। সেই সঙ্গে রক্তনালীকে শিথিল করে। যে কারণে রক্তচাপ কম থাকে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য খুব ভাল শাঁখালু।
এই ফলের মধ্যে আছে ফ্ল্যাভিনয়েড সহ অন্যান্য অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। আছে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস। যা দাঁত আর হাড়ের জন্য খুবই ভাল। হাড় শক্তিশালী করে। হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় এছাড়াও শাঁখালুর মধ্যে অ্যামাইনো অ্যাসিড আর ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে ভরপুর। এতে শরীরের ক্ষতিকর ব়্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশ ভূমিকা রাখে। প্রচুর ফাইবার থাকায় কোষ্ঠ পরিষ্কারে সহায়তা করে। মস্তিষ্ককে শীতল রাখা সহ হৃদপিণ্ডকে সবল করার কাজেও বেশ ভূমিকা পালন করে থাকে এই শুভ্র সুস্বাদু শাঁখ আলু।
১৮
২৯ মন্তব্য