Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

?♻️?মজিদপুর জমিদার বাড়ি।

মজিদপুর জমিদার বাড়ি। 

মজিদপুর,তিতাস,কুমিল্লা। 


 দুইশ’ বছরের প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি চরম অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। দিন দিন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে। ভবনের কোথাও কোথাও  জন্মেছে আগাছা  পরগাছা। কোনও অংশ ঢাকা পড়েছে লতা-পাতায়।ইট চুন সুরকির তৈরি ভবনগুলো এখনও দাড়িয়ে আছে  তবে নেই কোন সংস্কার।  দিনে দিনে খয়ে যাচ্ছে ভবন গুলো।


জমিদারি শাসনের শুরুর দিকে মজিদপুর জমিদার বাড়ির প্রথম পুরুষ শ্রী রামলোচন রায় মজিদপুরে এসে বসতি স্থাপন করেন। হোমনা, মেঘনা, তিতাস,  ও মুরাদনগর পর্যন্ত তাদের জমিদারি ছিল। 


শ্রী রামলোচন রায়ের ছিলো তিন ছেলে  তারা হলেন শ্রী কালীচরণ রায়, ব্রজেন্দ্র কুমার রায় এবং শিবচরণ রায়। জমিদারি আইন বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত বংশপরম্পরায় তাদের জমিদারি চলতো । শ্রী কালীচরণের পাঁচ ছেলে যথাক্রমে পিয়ারী মোহন রায়, বিহারী মোহন রায়, শশী মোহন রায়, শরৎচন্দ্র রায় এবং মোহিনী মোহন রায়।


ব্রজেন্দ্র কুমার রায়ের তিন ছেলে হলেন ক্ষিতিষ চন্দ্র রায়, যিনি মজিদপুর ইউনিয়নের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন, গিরিশ চন্দ্র রায় ও শিরিশ চন্দ্র রায়। শিবচরণ রায়ের দুই ছেলে হররাল রায় এবং যোগেশ চন্দ্র রায়। শিরিশ চন্দ্র রায় গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা করে উম্মাদ হয়ে যান। তাকে জমিদার বাড়ির একটি প্রকোষ্টে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ক্ষিতিশ চন্দ্র রায়ের দুই ছেলে শ্রী নারায়ণ চন্দ্র রায় এবং শ্রী দুর্গাচরণ রায়।


শ্রী দুর্গাচরণ রায়ের তিন ছেলের মধ্যে ক্ষেত্র মোহন রায় তিতাস উপজেলার প্রথম গ্রাজুয়েট এবং প্রথম আইনজীবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। অপর ছেলে কুঞ্জ মোহন রায় মজিদপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। শরৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে উপেন্দ্র চন্দ্র রায় তিতাস উপজেলার প্রথম গ্রাজুয়েট ডাক্তার। রামলোচন ছাড়াও তাদের বংশের আরও যারা জমিদারী করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাম সুন্দর রায় এবং রামগতি রায়। এদের মধ্যে রামগতি রায়ের ছেলে নলিনী ভূষণ রায় মজিদপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আর এইভাবে বংশপরাম্পপরায়  প্রায় ২০০ বছর ধরে তাদের জমিদারী চলতে থাকে। পরবর্তীতে ভারতবর্ষ ভাগ এবং জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে তারা তাদের জমিদারী ছেড়ে ভারতে চলে যান।এখন আর তাদের পূর্বপুরুষ  কেউ নেই, আছে শুধু তাদের স্মৃতি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ