Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১১:১১ অপরাহ্ণ

ভিটায় ভ্রমন! (Travel to the village!)

সময়টা শিতকাল।বছরের শুরু। বিদ্যালয়ের ক্লাশ তেমন ভালো করে শুরু হয়নি। চারদিকে বিল শুকিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক সেজেছে অপরুপ রুপে।মাঠে সরিষা ফুলের হলুদের সমাহার।। এলাকাটা নতুন আমার জন্য। শিক্ষকতার জন্য এখানে আসা। হিন্দু -মুসলিমদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সমাজ ব্যবস্থা।

ছাত্রদের কাছে ভিটার গল্প শুনিছি।ক্ষেতের মাঝে আছে শত বছরের পুরান ভিটা।

গত কয়েক বছর আগে নাকি সেখানে বাগ ধরেছিলো এলাকাবাসি।তাই সেখানে যাবো বলে সময় খুজতেছিলাম।

আজ পেলাম সেই সময়।

ছাত্রদের বললাম আজ ভিটায় যাবো। সাথে সকল ছাত্রদের নিয়ে যাবো।ওরা উৎফুল্ল হয়ে উঠলো।কিছু শুকনো খাবার নিয়ে রওয়ানা হলাম ভিটার দিকে। স্কুলের পিছনে বড় বিলের ঠিক মাঝখানে ভিটা। দুর থেকে মনে হয় মাঠ সবুজ টুপি পরে আছে। যতই কাছে আসতে লাগলাম ততই বড় হতে লাগলো গাছ পালা। ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে হাসি মুখে গান

"বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয়"

ভিটার কাছে চলে আসলাম। আধুনিক সভ্যতার থেকে যেনো হাজার বছর আগের সবুজ সভ্যতায় চলে আসলাম।বড় গাছগুলো রাজকীয় ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে।লতাদিয়ে ঘেরা ভিটার চারপাশ। এক জায়গায় দিয়ে প্রবেশ করলাম ভিতরে। অবাক হলাম।সবার চোখ তখন বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছে গাছপালা।

এখানে অনেক আগের ঘরের ভিটার উচ জায়গা রয়েছে।পুকুর। উঠান। কবরস্থান।  কিন্তু সব ঘনজঙ্গলের নিচে। পাখিদের যেনো মিলনমেলা। অনেক বড় ভিটার এরিয়া। এক জায়গায় আসলে অন্য জায়গা থেকে শব্দ করলে শুনা যায়না।

আমরা সবাই বিভিন্ন অজানা বৃক্ষর না জানার চেষ্টা করতে লাগলাম। অনেকে গাছে শাখায় উঠে দোল খাচ্ছে।কেহো ক্লান্ত হয়ে বসে পরছে।সুর্যের আলো পরে না ভিতরে।

আমি ছবি তোলায় ব্যস্ত।

এখন ফেরার পালা।

তখন ভরদুপুর।

কেহোর যাওয়ার ইচ্ছা নাই।

সবাই বেড়িয়ে আসতে লাগলো।

কিন্তু

প্রনামের দেখা নেই।অপেক্ষা করলাম ওর বেরিয়ে আসার।কিন্তু ওর দেখা নেই।প্রনাম করে ডাক দিলাম কিন্তু সাড়া নেই। আমরা ভিটায় আবার প্রবেশ করলাম।প্রনাম বলে ডাকতে লাগলাম কিন্তু প্রনাম কোথায়ও নেই।শেষ ওরে বেত ঝোপের কাছে দেখেছিলাম।কিন্তু নেই প্রনাম

খুজতে লাগলাম ওরে। সবাই চারদিকে খুজতে লাগলাম।

না প্রনামকে কোথায় খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

আমার মাথায় কাজ করতেছে না।

এখন কি হবে ।

এই গহিন বনে আমি নিয়ে এসেছি।এখন প্রনাম কোথায়।

ওর বাবা মাকে কি বলবো!

চোখে আতঙ্ক ভর করলো!সুর্য পশ্চিম দিকে হেলে পরছে। সবাই তখন আমরা ক্লান্ত। নিচে বসে পরলাম।ভাবতে লাগলাম কি করা যায়।

(চলমান)

মন্তব্য করুন