১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ কমলাপুর রেল স্টেশনে আমার ছেলে রাত ৮ টার ট্রেন ফেল করে। তারপরে স্টেশনের কর্তব্যরত টিটিকে জিজ্ঞাসা করার পর তখন বললো ট্রেন এই মূহুর্তে চলে গেল। পরে এক জন ছেলে এসে ওই টিটি কে একই কথা জিজ্ঞেসা করে। টিটির উত্তর ট্রেন এই মূহুর্তে চলে গেল।
ছিনতাই কারী: ভাই আপনি কথায় যাবেন? (সেই ছেলেটি)
মুনাব্বর : আমি পীরগঞ্জ যাবো।( আমার ছেলে)
ছিনতাইকারী: ওহ! আমিও তো ভাই দিনাজপুর যাবো।
ছিনতাই কারী: আচ্ছা, যেহেতু দুই জনরই ট্রেন মিস তো এখন কি করবেন? আমার এক মামা আছে টিটি। আমার আরো একবার এমন হয়েছিল। তার পর মামার সাথে যোগাযোগ করি মামা টিকিট মেনেজ করে দিয়েছিল।
ছেলে : যেহেতু ট্রেন মিস করছি তো এখন আর কিছু করার নাই। আমি মেসে চলে যাবো।
ছিনতাই কারী : ভাই আমার মামা কে একবার কল করি। কি বলে ?
ছেলে: করতে পারেন।
ছিনতাই কারী এক জন কে কল দিলো তার পর যা হলো - হ্যালো মামা আমি তো আমার দ্রুতযান ট্রেন মিস করেছি। এখন কি করবো? মামা ( ফেক টিটি)
আচ্ছা আমি দেখতেছি, ২ মিনিট পর কল দিলো সেই টিটি বললো মামা টিকিট আছে কোনো সমস্যা নাই।
ছিনতাইকারী : মামা আমার সাথে আরো একজন ট্রেন মিস করছে ওর জন্যে এক টা মেনেজ করিয়েন। আবার ২ মিনিট পর কল দেওয়ার পর
ফেক টিটি : আচ্ছা। সমস্যা নাই পাওয়া গেছে।
ছেলেকে আমি ১০০০টা বিকাশ করে দিলাম নতুন টিকিট এর জন্যে।
ছিনতাই কারী : ভাই যেহেতু দুজনেরই ট্রেন মিস একটা মন খারাপ করে সেলফি তুলি। এখন তো কোনো সমস্যা নাই আমরা টিকিট পাচ্ছি।
ছেলে : না ভাই।
আরো ভালো ভাবে মিসুক হওয়ার জন্যে লুডু খেলতে বলে।
আরো পড়াশোনার ব্যাপারে কথা বলা শুরু করে। ছিনতাই কারী পড়াশোনা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্টুডেন্ট কার্ড দেখায়। ফেসবুকে তার ছবি দেখায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ক্লাস করার সময় এমন এমন আরো অনেক ছবি দেখায়। যা দেখ যে কেউ বাধ্য হবে যে সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের।
তার পর আসে পারিবারিক পরিচয় ছিনতাইকারী নিজে নিজে পরিচয় দিচ্ছে তার বাড়ি দিনাজপুরে কতুয়ালি থানার পিছনের পাড়ায় । ছিনতাইকারী অনেক কিছু বলতেছিলো যা হুুবহু মিলে যাই। কারন আমার ছেলে দিনাজপুরে থাকতো। আমার ছেলেও তার পর তার পরিচয় দিলো।
আমর ছেলে কে সেই টিটির ফোন নাম্বার দিলো। যে পরবর্তীতে এমন কোনো সমস্যা হলে কাজে লাগবে এই নাম্বার টা। ছেলের ফোনে নাম্বার সেভ করার পর ছবি চলে আসলো টিটির ড্রেস পরা নাম নজরুল । এই নাম্বার দিয়ে ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট খোলা টিটির ড্রেস পরা ছবি দিয়ে। এতে করে ছেলে আরো একটা ক্লিয়ার হলো।
এর পর আরো অনেক কথা হয়েছে ইমান, হাদিস, নামাজ- কালাম ইত্যাদি বিষয়ে।
ফেইক টিটির কল: মামা আমার ১০ টাই ডিউটি শেষ। ১০ টার মধ্যে আসতে না পারো, তা হলে আমি আরো একটা নাম্বার দিচ্ছি ওনি ওসি আলাউদ্দিন। উনাকে আমি টিকিট ২ টা দিয়ে দিবো।
সেই নাম্বার টা তে আমর ছেলের ফোন থেকে কল দিতে বললো।কল দেওয়ার সাথে সাথে আবার পুলিশের পোশাক পরা ওসি আলাউদ্দিন নামে এক জন পুলিশ। সেম এই নাম্বারেও হোয়াটসঅ্যাপে ফেসবুক খোলা পুলিশের পরিহিত পোশাক ।
এখন ছেলে উপায় না পেয়ে একটা ট্রেনে বিমানবন্দর স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। স্টেশনে নামনের সময় সেই পুলিশ কে কল দেওয়া হয়। পুলিশ বাহিরে আসতে বলে টিকিট নিতে।ছিনতাইকারী আমার ছেলের কাছ থেকে টিকিট এর হাফ টাকা নিয়ে যাই এবং এই জায়গায় থাকতে বলে। বাহির থেকে ছিনতাইকারী আবার আসে বলে খুঁজে পাওয়া যাই নি। ইতোমধ্যে ছিনতাইকারী ফোনের টাকা শেষ। ছেলের ফোন থেকে ফোন দিতে বলে।কল দেওয়ার পর ছিনতাইকারী ফোন নিয়ে কথা বলা শুরু করে। ওই সময় একটা ট্রেন থেকে যাত্রী নামতে শুরু করে ভীরের মধ্যে থেকে ছিনতাইকারী ফোন নিয়ে দৌড়। মুনাব্বর তখন মানুষ এবং ছিনতাইকারী ডাকতে ডাকতে গেট পর্যন্ত যায়। কে শুনে কার কথা। কেউ শুনেও না শুনার ভান করে, কেউ দেখে না দেখার ভান করে ওই খান থেকে দেখলো ছিনতাইকারীরা ৪-৫ জন মিলে আছে। জানি না ওই দিক গেলে কি হয়তো!
সেই স্টেশন এর টিটি এবং পুলিশ বক্সে গিয়ে জানতে পারলো। সেই টিটি নজরুল ওসি আলাউদ্দিন নামে কেহ নাই। রেল স্টেশনের পুলিশ,টিটিকে জিজ্ঞেসা করলো টিটি নজরুল ও ওসি আলাউদ্দিন নামে কেহ কি এখানে থাকেন,তারা বলে, না! ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়েছে তোমাকে আয়ত্তে আনার কৌশল।রেল স্টেশনের পুলিশ,একজন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আমার ছেলে মুনাব্বরকে তাদের সাথে থাকতে বলে।এবং টিকিট সংগ্রহ করে দেন।
ছিনতাইকারি ছেলের ফোন নিয়ে আমাকে কল করে আমার নাম,আমি কি করি,আমার ভাই এর নাম সব তারা বলতে পারছে।
আমি এস আই আলাউদ্দিন, আপনার ছেলে বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠেছিল,টিটি ও ম্যাজিস্টেকে লাথি মেরে পালানোর চেষ্টা করছিল,তখন আমরা তাকে আটক করি্।তাকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে,অনাদায়ে ৫ বছর জেল।,সে এখন ভৈরব থানায় আছে। আমি বললাম আমার ছেলেকে ফোনটা দেন, তারা দিল,কন্না শুনতে পেলাম,কান্নার শুরে, আমার কন্ঠ শুনে সন্দেহ হলো,তারা যে কতো নাটক,অভিনয় জানে।ছিনতায় কারিদের এসব কথা শুনে আমি হতভম্ব,আমার স্ত্রী মেয়ে আমার মা সবায় কান্না শুরু করছে।আরো একজন ফোন দিয়ে বলছে আমিও তিতুমীর কলেজে পড়ি আংকেল কিছু টাকা দিয়ে মুনাব্বরকে ছারিয়ে নেন না হয় জিবনটা মাটি হয়ে যাবে।ঐ মহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্যের ফোন দিয়ে আমার ছেলে বলে আব্বা আমার ফোনটি ছিনতায় হয়ে গেল,আমাকে বিকাশে টাকা দাও।ফায়ার সার্ভিসের সদস্যের ফোন নাম্বারে টাকা দিলাম তারপরে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠে সকাল ১০:৩০ টায় বাসায় আসে।সবাই সতর্ক হয়ে চলি।ধন্যবাদ।
৪
৪ মন্তব্য