লাইব্রেরিয়ান
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৩:৫৭ অপরাহ্ণ
লাইব্রেরিয়ান
বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত বিষয়ের মধ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব অন্যতম একটি
বিষয়। "চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলো আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে
প্রচলিত উৎপাদন এবং শিল্প ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়করণের একটি চলমান
প্রক্রিয়া। আজকের যুগের ডিজিটাল বিপ্লব চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে গণ্য
করা হচ্ছে। ইন্টারনেটের আর্বিভাবে তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের পর তথ্যপ্রযুক্তির
বাধাহীন ব্য মাধ্যমে গোটা বিশ্বের জীবন প্রবাহের গতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি
পেয়েছে। ইন্টারনেট অব থিংকিং (আইওটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
বাড়বে যেটি কিনা মানব সম্পদের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এই ডিজিটাল
বিপ্লবের ছোয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থার ঘটবে অকল্পনীয় পরিবর্তন। যেখানে
উৎপাদনের জন্য মানুষকে যন্ত্র চালাতে হবেনা, বরং যন্ত্র সংক্রীয়ভাবে কর্ম
সম্পাদন করবে এবং এর কাজ হবে আরও নিখুঁত ও নির্ভূল চিকিৎসা, যোগাযোগ
প্রকাশনা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব হবে অত্যন্ত জোরানো। বাংলাদেশে এই
বিপ্লবের সুযোগ গ্রহন করতে হলে আগাম ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আইএটি ব্লকচেইন ও রোবটিক্স
ইত্যাদির কৌশলগত পরিকল্পনা করতে হবে। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগকে কাজে
লাগাতে হলে আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী সুদক্ষ
মানবসম্পদ সৃষ্টি, আর এজন্য প্রয়োজন হবে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
বাংলাদেশে বর্তমানে তরুদের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৬ লাশ যা মোট জনসংখ্যার ৩০%।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আগামী ৩০ উৎপাদনশী থাকবে। বাংলাদেশের জন্য ৪র্থ শিল্প
বিপ্লবের সুফল ভোগ করার এটাই সব থেকে বড় হাতিয়ার। জ্ঞানভিত্তিক এই শিল্প
বিপ্লবে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে দক্ষ মানতসম্পদই হবে বেশি মূল্যবান। ৪র্থ
শিল্প বিপ্লবের ফলে বিপুল পরিমাণ মানুষ চাকরি হারালেও এর বিপরীতে সৃষ্টি
হবে নতুন ধারার নানাবিধ কর্মক্ষেত্র। এই বিপ্লবের ফলে দেশের মানুষের আয়ের
পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে জীবন মান বাড়বে। এছাড়া মানুষ তার জীবনকে বেশি
মাত্রায় প্রযুক্তি নির্ভর করবে। আমদানি - রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ থেকে
সহজতর হবে। ফলে বহিবিশ্বের আধুনিক জীবন ও জীবিকার উপকরণ দ্রুত পৌঁছে যাবে
মানুষের হাতে। দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাদের বেশি তরুণ তরুণী অনলাইনে কাজ
করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। দেশিয় হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার রপ্তানির হার
দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং এর বাজার সামে অনলাইন প্লাটফর্মকে পুঁজি করে
কর্মসংস্থানকারীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গী করতে দেশের সাবমেরিন
ক্যাবলের সক্ষমতাকে আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশের নির্মিত ও নির্মাণাধীন
হাইটেক পার্কগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব
সমাজে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। যেমন কম দক্ষতা, কম বেতন কম কাঠামো বনাম উচ্চ
দক্ষতা, উচ্চ কাঠামো অর্থনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তথ্যের সুরক্ষা
নিশ্চিতকরণ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তির মধ্যে অব্যাহত যোগাযোগ রক্ষা
করতে হবে। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি গুলো আপডেট করার পাশাপাশি প্রযুক্তির
নিরাপত্তা ঝুঁকি আপডেটের মাঝে সমন্বয় সাধনের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা
গ্রহন করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পুরো জীবনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে
বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষ প্রকৃতি এবং সমাজের সম্পর্ক
বৃহল রূপান্তর হতে পারে।
১৩
১৯ মন্তব্য