Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ মার্চ, ২০২৫ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

আল কোরআনুল কারীমের আলোকে তাগুত কী? তাগুত বর্জনের উপায়?

কুরআনুল কারিমের আলোকে তাগুত বলতে মূলত আল্লাহর আইন লঙ্ঘনকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, ও আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদতকারীকে বোঝানো হয়েছে। তাগুত এমন এক সত্তা, যা মানুষকে সত্য পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। কুরআনে তাগুতের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।

  • আল্লাহর অবাধ্যতা: তাগুত আল্লাহর আদেশ অমান্য করে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করে।
  • মিথ্যা উপাস্য: তাগুত এমন কোনো সত্তা বা বস্তু হতে পারে, যা আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা করা হয়।
  • অত্যাচারী শাসক: যেসব শাসক আল্লাহর আইন অনুযায়ী শাসন করে না এবং জনগণের ওপর অত্যাচার চালায়, তারাও তাগুতের অন্তর্ভুক্ত।
  • শয়তান: শয়তান মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে এবং খারাপ কাজে প্ররোচিত করে। তাই শয়তানও তাগুতের একটি রূপ।
  • কুফরী শক্তি: যারা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস করে এবং কুফরী কাজে লিপ্ত থাকে, তারাও তাগুতের অংশ।

কুরআনে তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূরা আন-নিসার ৬০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবি করে যে, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে, তার প্রতি ঈমান এনেছে? অথচ তারা বিচারের জন্য তাগুতের কাছে যেতে চায়, যদিও তাদেরকে তা বর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর শয়তান চায় তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দূরে নিয়ে যেতে।"

কুরআনে আরও বলা হয়েছে, "যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। সে তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।" (সূরা আল-বাকারা: ২৫৭)

এসব আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, তাগুত হলো এমন এক শক্তি, যা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং খারাপ কাজে লিপ্ত করে। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত তাগুতকে বর্জন করে আল্লাহর পথে চলা।

ইসলামে তাগুত বলতে আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যকে বোঝানো হয়। তাগুত বর্জনের উপায় হলো:

  • আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন: আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা।
  • তাগুতের প্রতি অবিশ্বাস: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্তা বা শক্তির উপাসনা করা থেকে বিরত থাকা।
  • তাগুতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা: তাগুত সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকাণ্ড, যেমন- শিরক, কুফর, জাদু ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা।
  • সঠিক জ্ঞানার্জন: ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং তাগুত সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
  • সৎকর্ম করা: ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা এবং সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
  • দোয়া করা: আল্লাহর কাছে সর্বদা সঠিক পথে চলার জন্য দোয়া করা এবং তাগুত থেকে আশ্রয় চাওয়া।

তাগুত বর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হতে পারে এবং ইহকাল ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ