Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ মার্চ, ২০২৫ ০১:৪৩ অপরাহ্ণ

দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (

স্মরন -


                গোবিন্দ চন্দ্র দেব 

----------------------------------------------------

দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জিসি দেব) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হন। 


এদিন বিকেলে জগন্নাথ হলের ভেতরে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেয়া হয় হলের প্রভোস্ট ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেবসহ অন্যদের মৃতদেহ। 


ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব চিন্তা চেতনায় ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য। অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে। 


তাঁর চিন্তাধারার মূলে কাজ করেছে বিশ্বজনীন মানবপ্রেম, সাম্য ও মৈত্রী। তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।


দর্শনে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৬৭ সালে তিনি সম্মানসূচক ‘দর্শনসাগর’ উপাধিতে ভূষিত হন। 


জন্ম ১৯০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের বিয়ানী বাজার উপজেলার লাউতা গ্রামে। 


তাঁর পুরো নাম গোবিন্দচন্দ্র দেব পুরকায়স্থ। ১৯২৯ সালে তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে দর্শন বিষয়ে বিএ (সম্মান) এবং ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করে অধ্যাপনায় যোগ দেন। 


অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি ‘রিজন, ইনটুইশন অ্যান্ড রিয়ালিটি’ নামক অভিসন্দর্ভ রচনা করে ১৯৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। 


জিসি দেব দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। 


১৯৬৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 


তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ মোট ৯টি, যার মধ্যে তাঁর জীবদ্দশায় সাতটি এবং মৃত্যুর পর দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। 


বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৫ সালে ড. দেবকে ‘একুশে পদক’ এবং ২০০৮ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করে। 


১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে তাঁর স্মরণে 'গোবিন্দ দেব দর্শন গবেষণা কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা হয়। 


তিনি মানবকল্যাণ সাধনায়, মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে এবং অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দর্শন প্রচারের জন্য তাঁর সকল সম্পত্তি ও অর্থকড়ি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে গেছেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।


-- মেসবা খান

মন্তব্য করুন