Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ মার্চ, ২০২৫ ০২:০৮ পূর্বাহ্ণ

লাইপোমার লক্ষণ ও প্রতিকার

লাইপোমা একটি নির্দোষ টিউমার যা চর্বিযুক্ত টিস্যু দিয়ে গঠিত। নরম টিস্যু টিউমারগুলোর মধ্যে লাইপোমা হচ্ছে সবচেয়ে সাধারণ ধরন। লাইপোমাগুলোতে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে নরম অনুভূত হয়, সাধারণত নড়ানো চড়ানো যায় এবং সাধারণভাবে এগুলো ব্যথাহীন। অনেক লাইপোমা ছোট আকারের, সাধারণত এক সেন্টিমিটার ব্যাসের কম; কিন্তু কোনো কোনো লাইপোমা ছয় সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় আকারের হতে পারে।


সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে লাইপোমা বেশি দেখা দেয়, তবে শিশুদেরও এটা হতে পারে। কারও কারও মতে লাইপোমা ক্যান্সারে রূপান্তর ঘটতে পারে।

লাইপোমার ধরন : বিভিন্ন ধরনের লাইপোমা রয়েছে, যেমন- *  অ্যানজিওলাইপোমা : ত্বকের নিচে ব্যথাপূর্ণ গোটা। লাইপোমায় অন্য সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।


লাইপোমা একটি চর্বিযুক্ত ফোলা অংশ। এটি বেশ ধীরে বড় হয়। ত্বক ও মাংসপেশির মধ্যে হয়। রোগটি ফ্যাটি টিউমার নামেও পরিচিত। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে নড়াচড়া করে। সহজেই শনাক্ত করা যায়।


লাইপোমা একটু শক্ত প্রকৃতির হয়। একজন ব্যক্তির একাধিক লাইপোমা হতে পারে। যে কোনো বয়সেই এটি দেখা দিতে পারে। মধ্যবয়সীদের এটি বেশি হয়।


সাধারণ লাইপোমাগুলো নরম অনুভূত হয়। এগুলো ব্যথাহীন। অনেকগুলো ছোট আকারের, ব্যাস এক সেন্টিমিটারেরও কম। কোনো লাইপোমা ছয় সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় হতে পারে।


লাইপোমা কোনো ক্যান্সার নয় এবং সাধারণত এর ফলে বিশেষ ক্ষতি হয় না। এর জন্য তেমন চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না। তবে যদি এটি বিরক্তিকর মনে হয় বা বড় হয়ে যায় বা ব্যথার সৃষ্টি হয় তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।


বিভিন্ন টাইপের লাইপোমা রয়েছে। অ্যানজিও লাইপোমা ত্বকের নিচে ব্যথাপূর্ণ গোটা। পরীক্ষা করলে নরম মাংসপেশি কোষ, রক্তনালি, সংযোজক কলা ও চর্বি পাওয়া যায়।


l নিউরাল ফাইব্রো লাইপোমায় নার্ভ ট্রাঙ্ক বরাবর ফাইব্রো-ফ্যাটি টিস্যুর অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে। এতে নার্ভে চাপ পড়ে। কনড্রয়েড লাইপোমা নারীদের পায়ে বেশি দেখা যায়। এটি শক্ত ও হলুদ। স্পিনডল-সেল লাইপোমা উপসর্গবিহীন। বয়স্ক পুরুষদের পিঠ, ঘাড় ও কাঁধের ত্বকের নিচে হয়। ধীরে ধীরে বড় হয়।


l প্লিওমরফিক লাইপোমা বয়স্ক পুরুষদের পিঠের বেশিরভাগ জায়গায় ও ঘাড়ে হয়ে থাকে। ইন্ট্রাডার্মাল স্পিনডল সেল লাইপোমা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের হয়। সচরাচর মাথা, ঘাড়, পেট, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ে হয়ে থাকে।


l হাইবারনোমায় থাকে বাদামি চর্বি। লাইপোমার সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো সুপারফিসিয়াল সাবকিউটেনিয়াস লাইপোমা। এগুলো বুক, পিঠ, পেট, ঊরু ও হাতে দেখা যায়।


লাইপোমা টিউমারের লক্ষণ


লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে—ত্বক ফুলে যাওয়া, পিঠে শক্ত পিণ্ড বা চাকা, বাহু, ঘাড়, কাঁধে শক্ত পিণ্ড, ত্বকের বৃদ্ধি, স্তনে চাকা বা পিণ্ড, ত্বকের ক্ষত অস্বাভাবিক ও পায়ে শক্ত পিণ্ড দেখা দেওয়া।


চিকিৎসা


এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেকেরই এটি হয় এবং অনেকে আক্রান্ত হলে বুঝতেও পারেন না। ব্যথা না করলে কিংবা হাঁটাচলার অসুবিধা না হলে সাধারণত লাইপোমার চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। সৌন্দর্যগত কারণে এগুলো অপসারণ করা যেতে পারে।


অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনের পর আবার লাইপোমা দেখা দিতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রেই এটি জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।


তবে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের লাইপোমা মারাত্মক হতে পারে। আন্ত্রিক লাইপোমাগুলো রক্তপাত ঘটায়, ক্ষত সৃষ্টি করে এবং ব্যথাপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। লাইপোমার ক্যান্সার রূপান্তর হওয়ার ঘটনাও বিরল। এই অবস্থার নাম লাইপোসারকোমা। হাড় ও কিডনিতে এমনটা ঘটে থাকে।


লাইপোমা কেন হয়?


এর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে অনেকের মতে এটি জিনঘটিত। অনেকের মতে, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার খেলে হয়। আবার হৃদরোগ, রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়া, মেটাবলিজম ঠিক না থাকাও লাইপোমার কারণ হতে পারে।


হোমিও সমাধান


হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার ছাড়াই লাইপোমা থেকে সুস্থতা লাভ করা সম্ভব। তবে এতে রোগীর লক্ষ্মণ ও রোগের উপসর্গ দেখে ওষুধ নির্বাচন করতে হয়। THUJA OC 1M ওষুধটি লাইপোমায় ব্যবহার করা হয়। সেইসঙ্গে CAL.FOUR 6X , NATRUM SULPH 6X এ দুটিও একসঙ্গে গ্রহণ করতে হয়। এ সংক্রান্ত আরও কিছু হোমিও ওষুধ হলো BARYTA CARB 200, LAPIS ALBUS 30/200, KALI IOD 200, CALCAREA ARS 200, PHYTOLOCCA 200/1M ইত্যাদি। তবে এসব ওষুধ অবশ্যই অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করতে হবে।

মন্তব্য করুন