Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

কানাইলাল ভট্টাচার্য আজও হয়তো অনেকের কাছে জানা একটা নাম।

#_আরো_অজানা_এক_ইতিহাস

কানাইলাল ভট্টাচার্য আজও হয়তো অনেকের কাছে জানা একটা নাম। কানাইলাল ভট্টাচার্য এর জন্ম হয় ২২ আগস্ট ১৯০৯ সালে। জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার মজিলপুরে। ইনি ছিলেন ভারতীয় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী। কানাইলাল ভট্টাচার্য এর পিতার নাম ছিল নগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ছোটবেলা থেকেই দেশের প্রতি ছিল তাঁর অগাধ ভালোবাসা৷ আর সেই ভালোবাসাই কাল হয়েছিল ব্রিটিশ শাসকদের জন্য৷ বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্য আজও বাঙালিদের কাছে দেশপ্রেমের জ্বলন্ত উদাহরণ৷

কানাইলাল ভট্টাচার্য বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। কানাইলাল মহান বিপ্লবী নেতা সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মী ছিলেন। এক সময় মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পেডির হত্যার ব্যাপারে বিমল দাশগুপ্তকে দোষী করেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কানাইলাল ভট্টাচার্য তার নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে 'বিমল গুপ্ত' ছদ্মনামে বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্তকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।

কানাইলাল ভট্টাচার্য এর প্রকৃত পরিচয় পুলিস দীর্ঘদিন ধরেও জানতে পারেনি। বীর বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত ও  রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসির দণ্ডাদেশকারী বিচারককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় কানাইলাল কে এই কাজে পাঠান। জীবনের এক নতুন অভিযানে পা বাড়ালেন কানাইলাল ভট্টাচার্য, সেও জানত না যে এই দিনটাই ছিল তার জীবনের শেষ দিন। দীনেশ গুপ্ত ও  রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসির দণ্ডাদেশকারী বিচারক গার্লিককে দেখতে পেয়েই কানাইলাল গুলি চালায়, এবং তার সেই গুলিতে গার্লিক মারা যান। হ্যাঁ দিনটি ছিল ২৭ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে।

কানাইলাল ভট্টাচার্য আর রেহাই পেলেন না এক প্রহরী সার্জেন্টে কানাইলালকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় আর সার্জেন্টের গুলিতে তিনিও নিহত হন কানাই। তখন নিহত কানাইলাল ভট্টাচার্য এর পকেটে একখণ্ড কাগজ পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিলো "ধ্বংস হও; দীনেশ গুপ্তকে ফাঁসি দেওয়ার পুরস্কার লও"। এমনকি শনাক্তকরণের সময় কানাইলালের মহীয়সী মাতাও তার দেহকে অস্বীকার করে বলেন "এ তার কানু নয়"। এই নামহীন, পরিচয়হীন শহীদ হয়ে থেকে, অপর এক বিপ্লবীকে বাঁচিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ইতিহাসে বিরল।


(তথ্যসূত্র : বিস্মৃত বিপ্লবী ও ক্ষমা নেই দেশদ্রোহী)

লেখায়:: প্রকাশ রায় 



মন্তব্য করুন