সহকারী শিক্ষক
০৩ মে, ২০২৫ ০৪:২৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাস্তিল দুর্গ ও কারাগারকে বিবেচনা করা হতো ফরাসি রাজাদের নিপীড়নের প্রতীক হিসেবে। রাজতন্ত্রের বিরোধী ব্যক্তিদের এখানে আটকে চালানো হতো অত্যাচার। ১৭৮৯ সালের এই দিনে, অর্থাৎ ১৪ জুলাই প্যারিসের বিপ্লবীরা দুর্গে প্রবেশ করে এবং পতন ঘটে বাস্তিলের। আর এর মাধ্যমেই সূচনা হয় ফরাসি বিপ্লবের।
১৭৮৯ সালের গ্রীষ্মে দ্রুত বিপ্লবের দিকে এগোতে থাকে ফ্রান্স। শত শত বছর ধরে নিপীড়নের শিকার ফরাসি জনগণের ভেতর জমা হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এর মাধ্যমে। ফরাসি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত দেশটির ৯৫ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিলেন কেবল ৫ শতাংশ মানুষ। এমনকি এই বিপুল সম্পত্তির জন্য কোনো করও দিতেন না তাঁরা।
প্যারিসে অবস্থিত বাস্তিল দুর্গের সামরিক গভর্নর বের্নাদ রেনে ইয়রদান দে লাউনাই ভয় পাচ্ছিলেন তাঁর দুর্গ বিপ্লবীদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। তাই দুর্গের শক্তি বাড়ানোর অনুরোধ জানান রাজার কাছে। রাজা ষোড়শ লুইয়ের প্রাসাদ থেকে খুব দূরে ছিল না দুর্গটি।
১২ জুলাই রাজার নির্দেশে ২৫০ ব্যারেল গানপাউডার পাঠানো হয় বাস্তিলে। লাউনাই বাইরে অবস্থান করা তাঁর সেনাদের বিশাল দুর্গের ভেতরে নিয়ে আসেন। এ সময় পরিখার ওপরের দুটি ড্র ব্রিজ তুলে দেওয়া হয়, যেন এই সেতু ধরে দুর্গে প্রবেশ করতে না পারে বিপ্লবীরা।
১৪ জুলাই, ভোর। গাদাবন্দুক, তলোয়ারসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত বিক্ষুব্ধ জনতা বাস্তিলের চারপাশে জড়ো হতে শুরু করে। শুরুতে লাউনইয়ের লোকেরা জনতার স্রোতকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু পিঁপড়ার মতো পিল পিল করে মানুষ বাস্তিলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে লউনই দুর্গের ওপরে আত্মসমর্পণের একটি সাদা পতাকা তুলে দিতে বাধ্য হন। তারপর বিপ্লবীসহ বিক্ষুব্ধ জনতা ভেতরে ঢুকে পড়ে দখল নেয় দুর্গের।
লাউনাই ও তার লোকদের আটক করা হয়। বাস্তিলের গোলাবারুদ ও কামান জব্দ করা হয় এবং ভেতরের সাত বন্দীকে মুক্ত করা হয়। হোটেল দ্যু ভিলে পৌঁছানোর পর, যেখানে লাউনাইকে একটি বিপ্লবী কাউন্সিলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার এবং বিচার করার কথা ছিল। তবে উন্মত্ত জনতা তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে।
বাস্তিল দখলকে প্রাচীন শাসনের সমাপ্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি ফরাসি বিপ্লবকে অপ্রতিরোধ্য একটি গতি এনে দেয়। ফলাফল হিসেবে ১৭৯২ সালে ফ্রান্সে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়। সম্রাট ষোড়শ লুই এবং রানি মেরি আতোঁনেতকে ১৭৯৩ সালে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গিলোটিনে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
১৭৮৯- ফরাসি স্বৈরশাসক রাজা ষোড়শ লুইয়ের নির্যাতনের কেন্দ্র বাস্তিল দুর্গের পতন হয়।এর মধ্য দিয়েই ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। জয় হয় ফরাসি রাজত্বের শোষিত-নির্যাতিত মানুষদের। এই বিপ্লবের আগে রাজত্বের ৯৫ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিল মাত্র ৫ ভাগ মানুষ। অথচ সেই ৫ ভাগ মানুষই কোনো আয়কর দিতো না।
যারা আয়কর দিতো তাদের কোনো সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হতো না। এই অসম ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বাস্তিল দুর্গে এদিনই বিক্ষুব্ধ জনতা বাস্তিল দুর্গ অভিমুখে রওয়ানা হয়। রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার শর্ত জনতা স্বৈরশাসকদের দিলেও তারা তা মানেনি।
তখনই জনতার ঢেউ বাস্তিল দুর্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় সামরিক শক্তি কামানসহ অস্ত্র-গোলাবারুদ ব্যবহার করে জনতার বিরুদ্ধে। প্রাণ যায় দুইশ’ বিপ্লবীর। কিন্তু শেষতক জয় হয় সাম্য-স্বাধীনতার স্লোগানধারী বিপ্লবীদের। ১৪ জুলাই দিনটি এখন ফ্রান্সের জাতীয় দিবস। বাস্তিল দিবস হিসেবেও এটি পরিচিত।
১৪
২৪ মন্তব্য