Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ মে, ২০২৫ ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ

আল-আকসা মসজিদের শেষ উসমানীয় খিলাফতের প্রহরী



হাসান আল-ইঘদিরলি (বয়স ৯৩), ছিলেন আল-আকসা মসজিদের শেষ উসমানীয় খিলাফতের প্রহরী, যিনি ১৯৮২ সালে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত এই পবিত্র মসজিদের প্রহরার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেরুজালেম (বায়তুল মুকাদ্দাস) ত্যাগ করে নিজ দেশ তুরস্কে ফিরে যাওয়ার আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন: “কারণ কু*দস (জেরুজালেম) যে কোনো আদেশের ঊর্ধ্বে।”


দশকের পর দশক পর যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় কেন তিনি ফিরে যাননি, তখন তিনি দৃঢ়ভাবে উত্তর দেন, “আমি ভয় পেয়েছিলাম যে, মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) কষ্ট পাবেন যদি আমি প্রথম কিবলা ও তৃতীয় পবিত্র মসজিদ রক্ষা করা ছেড়ে দেই।”


১৯৭২ সালে, একজন তুর্কি সাংবাদিক ইলহান বারদাকজি শুক্রবার আল-আকসা মসজিদে সৌভাগ্যক্রমে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি এই গল্পটি “আমি তার সাথে আল-আকসা মসজিদে সাক্ষাৎ করি” শিরোনামে প্রকাশ করেন।


বারদাকজি বলেন, তিনি জেরুজালেম শহরের ভেতর ঘুরছিলেন এবং মসজিদের প্রবেশদ্বারে পৌঁছান। তিনি দেখেন একজন বৃদ্ধ চুপচাপ মসজিদের দ্বিতীয় প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছেন। মানুষ তাকে বলছিল, “তিনি পাগল, বহু বছর ধরে এখানে আছেন, কারো সাথে কথা বলেন না, কেবল মসজিদের দিকেই তাকিয়ে থাকেন।”


সাংবাদিক তুর্কি ভাষায় সালাম দিলে, বৃদ্ধ সুন্দর আনাতোলিয়ান উচ্চারণে উত্তর দেন, “ওয়া আলাইকুম সালাম, আমার ছেলে।” এই উত্তর শুনে সাংবাদিক অবাক হন এবং তার পরিচয় জানতে চান।


বৃদ্ধ বলেন, “যখন উসমানীয় খিলাফতের পতন ঘটে, আমরা কুদসে একটি ছোট দল রেখে দেই যেন লুটপাট না হয়, যতক্ষণ না ব্রি*টিশ বাহিনী এসে পৌঁছায়। আমি জোর দিয়ে এই দলে থাকার অনুরোধ করি এবং তুরস্কে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানাই।” তিনি নিজেকে পরিচয় দেন—আরেফ হাসান, ২০তম ইউনিট, ৩৬তম ব্রিগেড, ৮ম গ্রুপের ১১ নম্বর মেশিনগান দলের নেতা।


আরেফ হাসান বলেন, “আমরা থেকে যাই যেন আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইরা না ভাবে যে উসমানীয়রা তাদের ছেড়ে গেছে। আমরা চাইনি আল-আকসা চার শতাব্দী পর কাঁদুক। আমরা চাইনি নবী করিম (সা.) কষ্ট পান।”


তিনি বলেন: “বছরগুলো দ্রুত কেটে গেল। আমার বাকি ৫৩ সঙ্গী একে একে মৃত্যুবরণ করল। কোনো শত্রু আমাদের পরাজিত করতে পারেনি, মৃত্যু ও তাকদিরই আমাদের নিয়ে গেছে।”


সাংবাদিক বলেন, আরেফ হাসান তাকে শেষ অনুরোধ করেন: “আমার ছেলে, তুমি যখন আনাতোলিয়ায় ফিরে যাবে, সানজাক তোকাত গ্রামের দিকে যাও। সেখানে আমার অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মুস্তফা আছেন, যিনি আমাকে আল-আকসা পাহারার দায়িত্বে রেখেছিলেন। তাঁর হাত চুম্বন করো আমার পক্ষ থেকে এবং বলো, ‘জনাব ক্যাপ্টেন, আরেফ হাসান, যাকে আপনি এই মসজিদ পাহারার দায়িত্বে পাঠিয়েছিলেন, সে এখনও তার দায়িত্বে অটল আছে। তিনি কখনোই পাহারা ত্যাগ করেননি এবং তিনি আপনার দোয়া প্রার্থনা করছেন।’”


আরেফ হাসান ছিলেন একজন সাহসী, বিশ্বস্ত ও সম্মানিত প্রহরী, যিনি তাঁর দেশ ও পরিবার ছেড়ে পবিত্র ভূমিতে থেকে গেছেন। অবশেষে, ১৯৮২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন—আল-আকসার শেষ উসমানীয় খিলাফতের প্রহরী হিসেবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ