সিনিয়র শিক্ষক
১০ মে, ২০২৫ ১২:১৭ অপরাহ্ণ
"মনুষ্যত্ব হচ্ছে বিলীন "
মানুষ। সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব, অমায়িক সৃষ্টি। সৃষ্টির সেরা আশরাফুল মাখলুকাত। মান,,,,,, হুস! মানুষ কী এখন আর মানুষ আছে? আপাত দৃষ্টিতে চারদিকে তাকালে অবয়বে মানুষ মনে হলেও অনেকে এখন আর মানুষ নেই; সাক্ষাত ইবলিশ শয়তান।
মান- সম্মানের যার হুস আছে, তাকেই তো মানুষ বলে বা বলা যায়। তবে যাদের এই হুস নেই, তাদের কে কী বলে?
বর্তমানে মানুষ কি হারালো' - তা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে দেখা যায় না। দেখা যায় না অপরকে নিয়ে ভাবতে; অপরের দুঃখে, দুঃখি হতে। বরংঞ্চ অন্যেকে গর্তে ফেলে তামাশা দেখতে পারলেই মানুষের বড্ড স্বস্তি! অন্যের বিপদে সুখানুভব করে; মুচকি হেসে টোলপড়া গালে ঢেউ তোলাই এখন ট্রেন্ড। মানুষ নিজেকে সার্থক মনে করে যখন অন্যকে বিচলিত করতে পারে। মানুষের এখন আর হুস নেই হারানোয়। শংকায় পরে তখন, যখন না পায় তার প্রাপ্তি। হারানোতে ভয় নেই; না পাওয়াতেই যত ভয়। শুধু ব্যাথানুভব করে নিজের স্বার্থসংস্লিষ্ঠ বিষয়ে। এছাড়া উদাসীন থাকাটাই শ্রেয়তর মনে করে।
মানুষ; নিজের জায়গা ধরে রাখার ব্যাপারে শত সচেতন, শত প্রচেস্টা। শুধু নিজ স্বার্থ হাসিলে আন্তরিক। আর অপরের স্বার্থের বেলায় অন্যমনষ্ক। তাড়াহুরো করে সমস্যা সমাধান শুধু নিজের বেলায় অপরের বেলায় তথৈবচ। এতে করে কী মনুষ্যত্ব দিন দিন বিলীন হচ্ছে না?
মানুষ অন্যের সন্তানকে আটকানোর জন্য শত গর্ত খোড়ে, শত দড়জা করে দেয় বন্ধ, আর নিজের সন্তানের বেলায় থাকে সদা অন্ধ। নিজের বেলায়, " ছোট মানুষ; না বুঝে ভুল করেছে"। আর একই ভুল অন্যের সন্তানের বেলায় ক্ষমাহীন "অপরাধ"। থানা, পুলিশ বা হাজত পর্যন্ত গড়ায়। তখন তাকে নিশ্চয়ই সুবিবেচক বলা যায় না। যায় না অবশ্য মানুষ বলা। যদিও অবয়বে দুপায়া রুপি মানুষের ছকল ধরা সাক্ষাত শয়তান। এতে কি মনুষ্যত্ব বিলীন হচ্ছে না। কথায় আছে, "যদি তুমি নিজের ব্যাথা বোঝ, তবে জীবিত, আর যদি অন্যের ব্যাথা বোঝ তবে তুমি মানুষ"। অপরের ব্যাথা না বুঝলে, কেমন মানুষ আমরা? শুধু জীবিত থেকেই কি হবে যদি মানুষ না হই; মনুষ্যত্ব্যই যদি দিন দিন লোপ পায়, তবে লাভ কী? এভাবেই মনুষ্যত্ব দিন দিন বিলীন হচ্ছে,,,,,,
৭
৭ মন্তব্য