সহকারী শিক্ষক
১১ মে, ২০২৫ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
আমের আচারের উপকারিতা ও অপকারিতা
আম বাংলাদেশের একটি মৌসুমি ফল। স্বাদ এবং গুণের কথা বিচার করলে জাতীয় ফল কাঁঠাল না করে আম করলে তা বেশি সমীচীন হতো। যাইহোক, আমাদের আজকের লেখায় আমরা আলোচনা করবো আমের আচার নিয়ে। বিশেষ করে আমের আচার কেন খাওয়া উচিত, এর উপকারিতা কি কি এবং এই আচার কীভাবে তৈরি করে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য যে যে উপাদান প্রয়োজন তার সবকিছুই আমের আচারে পাওয়া যায়। এই আচার তৈরি করার সময় যে মশলা ব্যবহার করা হয় তা পুষ্টিগুণ আরও দ্বিগুণ করে। আমের আচার খাওয়ার কারণে হজম বৃদ্ধি পায় এবং মুখে রুচি আসে। এতে খাবার গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যা দেহে পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ করে। এছাড়া আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি উপাদান শরীরের সর্বাত্মক উন্নয়নে কাজ করে।
আমের ভিন্ন স্বাদ নিতে
আমরা সাধারণত আম পাকার পর খেতে বেশি উৎসাহিত হই। তবে পাকা আমের থেকে কাঁচা আমে আরও বেশি পুষ্টি থাকে। তাছাড়া কাঁচা আম আপনি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে আচার, চাটনি, জেলি, ভর্তা, শুঁটকি ইত্যাদি হিসেবে খেতে পারবেন। এতে দেহের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি একই আমের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ নিতে পারবেন। সর্বোপরি, পাকা আমের থেকে কাঁচা আমের ব্যবহারবিধি আরও বৈচিত্র্যময়।
গরমকালে ঠাণ্ডার সমস্যা নিরসনে
আমাদের দেশে গরমের সময় অতিরিক্ত তাপের কারণে দেহে বিভিন্ন প্রকারের ঠান্ডা জাতীয় রোগের দেখা দেয়। বিশেষ করে সর্দি, জ্বর এবং কাসি শরীরের অবস্থা একদম খারাপ করে দেয়। গতানুগতিক ওষুধ খেলে যদিও আরাম পাওয়া যায় তবে প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া আম অনেক ভালো উপশমের কাজ করে। বিশেষ করে যদি কাঁচা আমের আচার টোড়ী করে নিয়মিত খাওয়া হয় তবে এই ধরনের ঠান্ডা জাতীয় সমস্যা থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়। এই কারণে আমাদের দেশে গরম কালে আচার খাওয়ার প্রচলন সব থেকে বেশি।
অম্লতা দূর করে
বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাস, আসিডিটি বা অম্লতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অভিশাপ। এই সমস্যা হলে আমাদের শরীর ও মনের মধ্যে যে শান্তি থাকে তা নষ্ট হয়ে যায়। সব সময় এই জ্বালাপোড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয়। কাঁচা আম বা আমের আচার এই অম্লতা দূর করতে সাহায্য করে।
বমি ভাব কমায়
আসিডিটি বা অন্যান্য কারণে যদি বমি বমি ভাব হয় তবে আমের আচার খাওয়া যেতে পারে। কারণ আমের টক ঝাল স্বাদ বমি বমি ভাব কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের সকালে ঘুম থেকে উঠেই বমি আসে বা পেটে অম্লতা কাজ করে। তখন মুখে কাঁচা আমের টুকরা বা আচার দিলে সাথে সাথে বমি ভাব কেটে যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত দুর্বল হবে বিভিন্ন প্রকার রোগ তত বেশি হবে। অর্থাৎ আপনি যদি সব সময় সুস্থ থাকতে চান তবে অবশ্যই দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকতে হবে। কারণ এই উপাদান শরীরে যে কোনো রোগ আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এই উপাদানের গুরুত্ব সব থেকে বেশি। আমের আচার খাওয়ার মাধ্যমে তা দেহের এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
ওজন কমায়
ওজন কমানোর জন্য আমাদের বেশি বেশি ক্যালোরি খরচ করার পাশাপাশি কম পরিমাণে এটি গ্রহণ করতে হয়। আমের আচারে খুব স্বল্প পরিমাণে ক্যালোরি থাকে এবং এতে থাকা অন্যান্য উপাদান দেহের জমে থাকা ক্যালোরি খরচ করতে সহায়তা করে। এতে দ্রুত দেহের অতিরিক্ত ওজন কমানো সম্ভব হয়। তবে ওজন কমানোর জন্য আমাদের বেশি বেশি কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্যালোরি খরচ করতে হবে এবং চর্বি যুক্ত খাবার ত্যাগ করতে হবে।
৫৩
৯১ মন্তব্য