Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জুন, ২০২৫ ০৩:২৯ অপরাহ্ণ

সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ

সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং জটিল। এর উত্থান, বিকাশ এবং পতন বিশ্ব ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

গঠন ও প্রাথমিক পর্যায় (১৯১৭-১৯২২):

  • ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে ২৫ অক্টোবর) ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা রাশিয়ার তৎকালীন অস্থায়ী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এই ঘটনাকে 'অক্টোবর বিপ্লব' বা 'বলশেভিক বিপ্লব' বলা হয়। এর মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
  • ১৯১৮ সালে তাত্ত্বিক দর্শনের ভিত্তিতে প্রথম তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সৃষ্টি হয়।
  • ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে। এই যুদ্ধে বলশেভিকদের রেড আর্মি জয়লাভ করে।
  • ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাশিয়া, বেলারুশ, ইউক্রেন এবং ট্রান্সককেশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ঐক্য (Union of Soviet Socialist Republics - USSR) গঠিত হয়। এটি ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র, যার আয়তন ছিল প্রায় ২,২৪,০২,২০০ বর্গকিলোমিটার (১১টি টাইম জোন জুড়ে)।

বিকাশ ও স্নায়ুযুদ্ধ (১৯২২-১৯৯১):

  • সোভিয়েত ইউনিয়ন কমিউনিস্ট পার্টির অধীনে একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সমস্ত সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে ছিল, যদিও বাস্তবে কমিউনিস্ট পার্টির নেতারাই তা নিয়ন্ত্রণ করতেন।
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪১-১৯৪৫) সোভিয়েত ইউনিয়ন নাৎসি জার্মানির আক্রমণের শিকার হয় এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তবে, এই যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়।
  • ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হিসেবে 'স্নায়ুযুদ্ধে' লিপ্ত ছিল। এই সময়ে সামরিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিল প্রধান।
  • সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভিন্ন সময়ে আরও কিছু প্রজাতন্ত্রকে নিজেদের সাথে যুক্ত করে। ১৯৯১ সালে ভেঙে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মোট ১৫টি প্রজাতন্ত্র এর অংশ ছিল।

পতন (১৯৯১):

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন সামরিক পরাজয়ের কারণে নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে ঘটেছিল। এর পেছনের প্রধান কারণগুলো ছিল:

  • অর্থনৈতিক দুর্বলতা: স্নায়ুযুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন না বাড়ানো এবং দুর্নীতি সোভিয়েত অর্থনীতিকে দুর্বল করে তোলে। তেল ও গ্যাস রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতিতে তেলের দাম কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
  • রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার: মিখাইল গর্বাচেভের নেতৃত্বে 'গ্লাসনস্ত' (উন্মুক্ততা) এবং 'পেরেস্ত্রোইকা' (পুনর্গঠন) নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
  • আফগান যুদ্ধ: ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত হস্তক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে পরিণত হয়, যা সোভিয়েত অর্থনীতির উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে এবং সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে।
  • জাতীয়তাবাদী আন্দোলন: সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রজাতন্ত্রে স্বাধীনতার আন্দোলন জোরদার হতে থাকে।
  • ব্যর্থ অভ্যুত্থান: ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসে কমিউনিস্ট পার্টির কট্টরপন্থী অংশের একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে ত্বরান্বিত করে। এই অভ্যুত্থান চেষ্টার ফলে সোভিয়েত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
  • গর্বাচেভের পদত্যাগ: ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বেলারুশ, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের নেতারা একটি চুক্তি সই করে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। এর পর মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘটে এবং এটি ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়।

মন্তব্য করুন