Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জুন, ২০২৫ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

কেমন হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা খাত?


 ভূমিকা

শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষা হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক, বৌদ্ধিক ও সামাজিক বিকাশের অন্যতম স্তর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ ও পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা মাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রতিবেদনে বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিক, অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাবনার একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।


বাজেটের আর্থিক চিত্র


মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বরাদ্দ (২০২৫-২৬)

৪৭,৫৬৩ কোটি টাকা

গত বছরের বরাদ্দ (২০২৪-২৫)

৪৪,১০৮ কোটি টাকা

বরাদ্দ বৃদ্ধি

৩,৪৫৫ কোটি টাকা

মোট বাজেটের শতকরা হার

৮.২৬% (প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায়)


 ইতিবাচক দিক


১. বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে গুরুত্বারোপ

বর্তমান বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৪৭,৫৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৭.৮৩% বেশি। এতে বোঝা যায় সরকার এই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

২. উপবৃত্তি ও সহায়তা কর্মসূচি

এবারের বাজেটে উপবৃত্তির আওতায় এসেছে:

৫১ লাখ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী

৮ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী

১.৬৫ লাখ স্নাতক শিক্ষার্থী

এটি দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

৩. পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন

হালনাগাদ পাঠ্যপুস্তক সরবরাহের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৬২৬ কোটি টাকা, যা নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

৪. শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বোনাস ও গ্র্যাচুইটি বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের পেশাগত মর্যাদা এবং কর্মপ্রেরণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ


১. জিডিপির তুলনায় বাজেট কম

UNESCO সুপারিশ করে জিডিপির ৪-৬% এবং বাজেটের ১৫-২০% শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশে বরাদ্দ মাত্র ৮.২৬%, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অপ্রতুল।

২. মানোন্নয়ন পরিকল্পনার ঘাটতি

শিক্ষার মানোন্নয়ন, যেমন:

শিক্ষক প্রশিক্ষণ,

ক্লাসরুমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার,

দক্ষতা ভিত্তিক পাঠদান, এইসব ক্ষেত্রে সরাসরি বরাদ্দ বা সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই।

৩. গবেষণা ও উদ্ভাবনের ঘাটতি

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা বা উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশের জন্য বাজেটে কোনো লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ দেখা যায় না।


সুপারিশ

১. শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি করে জাতীয় অগ্রাধিকারের স্তরে উন্নীত করা উচিত। ২. গুণগত মানোন্নয়নের জন্য পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন—বিশেষ করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামের জন্য। ৩. শিক্ষা গবেষণা ও নীতি উন্নয়নের জন্য একটি ফান্ড গঠন করা উচিত, যাতে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। ৪. উপজাতীয় ও দূরবর্তী এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চালু করা উচিত যাতে শিক্ষা বৈষম্য হ্রাস পায়।


উপসংহার

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা খাত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছে যেমন বাজেট বৃদ্ধি, উপবৃত্তি সম্প্রসারণ এবং পাঠ্যপুস্তক হালনাগাদ। তবে গুণগত দিক উন্নয়নে সীমাবদ্ধতা, গবেষণায় উপেক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। একটি আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য এখন সময় এসেছে শিক্ষা বাজেটকে মানসম্মত ও সুষম ভিত্তিতে পরিচালনার।

মন্তব্য করুন

ব্লগ