Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুন, ২০২৫ ০৬:০৯ অপরাহ্ণ

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস#সূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ

সূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের মানব-পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৫ জুনকে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিবেশগত বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে নিয়মিতভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। শূন্য প্লাস্টিক দৃষ্টি ভঙ্গিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবিদ, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনকে চিন্তা করে ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময় প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫ জুন ২০২৫ বাংলাদেশেও উদযাপন করা হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এবারের দিবসটি বিশ্বের জন্য তো বটেই বাংলাদেশের জন্যও অনেক ইতিবাচক এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবীতে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যারা আইন করে সবার আগে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের বদলে কাগজের ঠোঙা, কাগজের প্যাকেট, কাপড়ের বা চটের থলে, প্লাস্টিকের বোতলের বদলে কাচের বোতলের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পৃথিবীকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে সারিয়ে তুলতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়ে প্রতিটি দিনকে একটি ছোট পরিবেশ দিবসে পরিণত করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়াতে পুনঃব্যবহারযোগ্য শপিং ব্যাগ, পানির বোতল বা কফির কাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। আমরা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেকে সুস্থ রাখতে চাইছি। অথচ এজন্য করণীয় কাজটিই করতে চাইছি না। প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে ভোক্তা পর্যায়ে পলিথিনবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত আইনের যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। এর জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন তো বটেই, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহারও বন্ধ করতে হবে। কোরিয়া ২০৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জেজু থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য নির্মূল করার জন্য ‘২০৪০ প্লাস্টিক জিরো আইল্যান্ড’ ভিশন উন্মোচন করে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে পারলে আমরা পারব না কেন? পলিইথিলিন (পলিমার) বা ‘প্লাস্টিকদানা’ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন টন বিভিন্ন প্রকারের প্লাস্টিক পণ্য তৈরি হয়। যা ভবিষ্যতে পৃথিবীর জন্য বুমেরাং হতে পারে। তাই প্লাস্টিকের উপযুক্ত বিকল্প খোঁজার সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পথও সন্ধান করতে হবে। মাতৃতুল্য পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে এখনই প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মূল কথা হলো আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার জন্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রব্যবস্থা সকলকে ভবিষ্যৎ নাগরিকদের কথা ভেবে পলিথিন ব্যবহারের আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মন্তব্য করুন